কোম্পানি সংবাদ

রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রিমিয়াম কমাচ্ছে রতনপুর স্টিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকৌশল খাতের কোম্পানি রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাবে সংশোধন এনেছে। কোম্পানিটি এখন রাইট শেয়ার ইস্যুতে প্রিমিয়াম পাঁচ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে ১০ টাকা প্রিমিয়ামে রাইট শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কোম্পানিটি। আর তিনটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে দুটি রাইট শেয়ার ইস্যু করা হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি শেয়ারের ইস্যুমূল্য হবে ১৫ টাকা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসাপেক্ষে পূর্বেঘোষিত ১০ টাকা প্রিমিয়ামে রাইট শেয়ার ইস্যুর পরিবর্তে পাঁচ টাকা প্রিমিয়ামে রাইট শেয়ার ইস্যু করা হবে। বিনিয়োগকারীদের সম্মতির জন্য আগামী ৯ অক্টোবর, বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় শহীদ গলফ অ্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ সেপ্টেম্বর।
২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে সাত টাকা পাঁচ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৪ টাকা ৭৪ পয়সা। আর মোট মুনাফা হয়েছে ৭১ কোটি ৩৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
এদিকে গতকাল ডিএসইতে শেয়ারদর শূন্য দশমিক ৯৩ শতাংশ বা ৪০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ৪২ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৪২ টাকা ৪০ পয়সা। দিনজুড়ে এক লাখ আট হাজার ৬৩৪ শেয়ার মোট ২০১ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ৪৬ লাখ ২২ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর ৪২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৪৩ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়। এক বছরে শেয়ারদর ৩৮ টাকা থেকে ৬৪ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।
এর আগে ২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পাঁচ শতাংশ নগদ ও ১৭ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল, যা তার আগের বছর ছিল ১০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস। ২০১৭ সালে ইপিএস হয়েছিল আট টাকা ১৮ পয়সা আর শেয়ারপ্রতি এনএভি হয়েছিল ৪৪ টাকা ৬০ পয়সা। যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে তিন টাকা ৪৫ পয়সা ও ৪১ টাকা ছয় পয়সা। ২০১৭ সালে মোট মুনাফা করে ৭০ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যা আগের বছর ছিল ২৭ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
কোম্পানিটি ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ৫০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১০১ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ২৭৬ কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
কোম্পানিটির মোট ১০ কোটি ১১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৮টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৪৭ দশমিক তিন শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ২১ দশমিক ৫১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৩১ দশমিক ৪৬ শতাংশ শেয়ার।
সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ছয় দশমিক এক এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে পাঁচ দশমিক ৭৬। কোম্পানিটির চলতি আর্থিক বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ, ২০১৯) ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৮৯ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল এক টাকা ৯০ পয়সা। আর প্রথম তিন প্রান্তিক বা ৯ মাস শেষে (জুলাই ২০১৮-মার্চ, ২০১৯) ইপিএস হয়েছে পাঁচ টাকা ৫২ পয়সা। আগের বছর একই সময় ছিল পাঁচ টাকা ৫৮ পয়সা। তিন প্রান্তিক শেষে শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ দাঁড়িয়েছে ৭৮ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ১৮ পয়সা। ২০১৯ সালের ৩১ মার্চে এনএভি হয়েছে ৪৯ টাকা ৪২ পয়সা, যা ২০১৮ সালের ৩০ জুনে ছিল ৪৪ টাকা ৭৪ পয়সা।

সর্বশেষ..