মত-বিশ্লেষণ

রাইড শেয়ারিং কি নিরাপদ!

পাঠকের লেখা

যানজটের দীর্ঘসূত্রতা, পাবলিক বাসের ঝক্কি-ঝামেলা এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়ের পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাপস ও চুক্তিভিত্তিক রাইড শেয়ারিং রাজধানীতে জনপ্রিয় হয়েছে। জনপ্রিয়তার এই সুযোগে অপরাধীরা চালক কিংবা যাত্রী সেজে অপরাধ করছে। তাছাড়া দেশে এখন ধর্ষণপ্রবণতা বাড়ছে, ফলে নারীদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কয়েক মাস আগে রাজধানীর মালিবাগ ফ্লাইওভারে যাত্রীরূপী দুর্বৃত্ত পাঠাও রাইড শেয়ারিংয়ের চালককে চুক্তিভিত্তিক যাত্রী বহনের সময় গলা কেটে হত্যা করে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়। গত ১৪ জুন উত্তরায় চলন্ত গাড়িতে উবার চালকের গলা কেটে হত্যা, গত ১২ মে পাঠাও রাইড শেয়ারিংয়ের বাইকচালক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের হত্যার মতো ঘটনা আমরা দেখেছি। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এসব ঘটনার সুষ্ঠু কোনো সমাধান আমরা পাইনি। মাইক্রোবাসে ছিনতাই ও নারী নির্যাতনের ঘটনা চলছেই। মেট্রোপলিটন পুলিশ তাই অপরিচিত মাইক্রোবাসে না চড়ার পরামর্শ দিচ্ছে। পুলিশ কি তাহলে কেবল নগরবাসীকে পরামর্শ দিয়েই ক্ষান্ত হবে, নাকি শতভাগ নিরাপত্তা জোরদার করবে?

রাইড শেয়ারিংয়ের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিদেশেও রয়েছে, যদিও এর নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপদ প্রতিশ্রুতির কথা বলছে। যুক্তরাষ্ট্রে গত দুই বছরে প্রায় ছয় হাজার যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। যাহোক, জননিরাপত্তার স্বার্থে রাইড শেয়ারিংয়ের প্রতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারিসহ নীতিমালা প্রস্তুত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যাত্রী ও চালক উভয়েরই সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। একের পর এক ঘটনা ঘটছে, কিন্তু পত্রিকার খবর পড়া, সামাজিক মাধ্যমে নিন্দা জানানো ছাড়া আমাদের যেন আর কিছুই করার নেই। নাগরিক হিসেবে আমরা আজ অসহায়। আগামীতে কে এর শিকার হবেন, তা কি আমি-আপনি জানি? প্রতিটি নারী কিংবা চালক আজ নাগরিক জীবনে এ ঝুঁকি নিয়ে চলছেন। নাগরিক হিসেবে আমাদের কি কোনোই অধিকার নেই?

ফারাহদিবা ফেরদৌস

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..