সম্পাদকীয়

রাজধানীর আয়তন নির্ধারণ হওয়া উচিত

বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা অন্যতম। এটি এখন মেগাসিটি। এ শহরে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ন্যূনতম ২ হাজার। স্বাধীন দেশের রাজধানী হিসেবে এখানে লোকসংখ্যা যেভাবে বেড়েছে, নাগরিক সুবিধা সেভাবে বাড়েনি। ফলে জীবনযাত্রার নিন্মমানের অবনতি ঘটছে বলেই অনুমান। সড়ক অবকাঠামো, পানি নিষ্কাশন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তথা সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। আয়তন নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা কিংবা বিভ্রান্তি থাকায় মেগাসিটির সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। নগরবাসীর নির্ঝঞ্ঝাট স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন নিশ্চিতে বস্তি, অপরাধ, গৃহহীন (ভাসমান) মানুষের সংখ্যা, যানজট, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ প্রভৃতি সমস্যা নিরসন করতে হয়।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেল, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও নির্ধারিত হয়নি রাজধানী ঢাকার আয়তন। এ-সংক্রান্ত তিনটি তথ্য রয়েছে। সিটি করপোরেশনের হিসাবে আয়তন ৩৬০ বর্গকিলোমিটার, পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে ১ হাজার ৪৬০ বর্গকিলোমিটার এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাউজক) হিসাবে ১ হাজার ৬৮৩.৫ বর্গকিলোমিটার।

রাজধানীর আয়তন নির্দিষ্ট না থাকায় এর উন্নয়নে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। শহর ও গ্রামের পার্থক্যের কারণে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান, বিদ্যুৎ, গ্যাস পানির দাম, করহার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ফি, গণপরিবহনের ভাড়া, বাসা ভাড়া প্রভৃতির ভিন্নতা থাকে। আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা ভেদে দূষণমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর করতে হয়। আবাসিক এলাকায় যেমন কোলাহল কাম্য নয়, তেমনই বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকায় সারাক্ষণ গাড়ি ও কলকারখানার বিকট শব্দ থাকতে পারে। পরিবেশগত উন্নয়ন এবং দূষণকারী শিল্পকারখানা  নির্দিষ্ট স্থানে পুনঃস্থাপন করতে হয়। এ লক্ষ্যে সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন। রাজধানীতে জীবন ধারণের ব্যয় যেমন বেশি, পেশাজীবীদের বেতন-ভাতাও বেশি। আবার ঢাকায় করের পরিমাণও বেশি। অথচ ঢাকার নির্ধারিত কোনো আয়তন নেই। নগরবাসীর বিড়ম্বনা এড়াতে রাজধানীর আয়তন চিহ্নিত করা উচিত বৈকি।

ঢাকাকে বাংলাদেশের রাজধানীর মর্যাদা দেয়া হয়েছে সাংবিধানিক স্বীকৃতির মাধ্যমে। আর রাজধানীর আয়তন কতটুকু হবে, এর সীমানাই বা কতটা, তা নিয়ে যাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংবিধানেই এ ব্যাপারে স্পষ্ট উল্লেখ আছে। অথচ বিস্তীর্ণ অঞ্চল পরিকল্পনামতে (ড্যাপ) ঢাকার মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের কিছু অংশ, গাজীপুরের কিছু অংশ ও সাভার। আর এসটিপিতে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। এর সঙ্গে নরসিংদীর আংশিকও ঢাকার অন্তর্ভুক্ত। পুরো এলাকা বৃহত্তর ঢাকা জেলা হিসেবে এসটিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সীমানা নির্ধারিত না থাকায় জলাবদ্ধতা, রাস্তা দখল, অপরিকল্পিত ও জরাজীর্ণ বাড়িঘর, নিরাপত্তাহীনতা, ভয়াবহ যানজট প্রভৃতি নাগরিক সমস্যার যথাযথ সমাধানও সম্ভব নয়। সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতায় নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনে রাজধানীর আয়তন নির্ধারণে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..