সম্পাদকীয়

রাজধানীর বাইরেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে উদ্যোগ নিন

চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ দেখা যাচ্ছে। মাস দুই আগে মশাবাহিত রোগটির প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর এখনও তা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রাণহানির সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই নতুন আক্রান্তের খবর গণমাধ্যমে আসছে। বিগত বছরগুলোর ন্যায় এবারও রাজধানী ঢাকাতেই ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বেশি। তবে কিছুদিন ধরে ঢাকার বাইরে থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর বেশি আসছে, যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কারণ দেশের অনেক অঞ্চলে ডেঙ্গু সম্পর্কে মানুষের ধারণা নেই। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘এখনও ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগী বেশি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। খবরটিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৮৮ জন। এর মধ্যে রাজধানীতে ৩৩১ জন হলেও সারা দেশে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫৭ জন। আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তের এ সংখ্যা ছিল ৮২৯। এর থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, ঢাকার বাইরেই এখন ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। ফলে ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু দ্রুত ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আইইডিসিআর’র ডেথ রিভিউ কমিটি এ পর্যন্ত ৫৭ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি বলেই উল্লেখ করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে এবার বিপুলসংখ্যক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানিও ঘটেছে অনেক। প্রাণহানির ঘটনাগুলো কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। যারা পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তারা রেখে যাচ্ছেন হাজারো স্বপ্ন ভঙ্গের গল্প। অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসায় বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাব্যয় গগনচুম্বী। ফলে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার আগেই যাতে তা রোধ করে দেওয়া যায়, সেটি এখন বেশি গুরুত্ব পাওয়া জরুরি।
খবরেই বলা হয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৭৪ হাজার ৩৫৩ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭০ হাজার ৭৯০। এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে তীব্র ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে সন্দেহ নেই। এজন্য ডেঙ্গু প্রতিরোধে শহর থেকে গ্রামÑসব স্থানেই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি আগামীতে যাতে ডেঙ্গু না ছড়ায় সেজন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষত গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোয় ডেঙ্গুর মতো রোগের চিকিৎসার সুব্যবস্থা সরকার দ্রুত গ্রহণ করবে বলে আমরা আশা করি।

সর্বশেষ..