দিনের খবর শেষ পাতা

রাজধানীর রাস্তায় বাস ছাড়া সবই চলছে, যানজটে ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক: কভিড-১৯-এর বিস্তার ঠেকানোর লকডাউনে রাজধানীর সড়কগুলোয় যান চলাচল বেড়ে রাস্তার মোড় কিংবা ক্রসিংগুলোয় দীর্ঘ যানজট দেখা যাচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার লকডাউনের চতুর্দশ দিনে মিরপুরের পীরেরবাগ ছাপড়া মসজিদ থেকে মোটরসাইকেলে করে মহাখালীর তিতুমীর কলেজে পৌঁছতে সময় লেগেছে প্রায় এক ঘণ্টা।

যদিও ঈদের পর থেকে শুরু হওয়া ‘কঠোর লকডাউনের’ শুরুর দিকে ১২ কিলোমিটারের এ আঁকাবাঁকা সড়ক ২০ থেকে ২৫ মিনিটেই পাড়ি দেয়া যেত। লকডাউনের মধ্যেও এখন সময় বেশি লাগার কারণ হলোÑআগারগাঁও, রেডিও স্টেশন, বিজয় সরণির দুই প্রান্ত, তেজগাঁও নাবিস্কো ও মহাখালী ক্রসিংয়ের দীর্ঘ জট।

রাজধানীর সড়কগুলোয় যানবাহনের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা মিলছে কিছু অটোরিকশাও। ব্যস্ত

সড়কের মোড়ে মোড়ে যানজটের পাশাপাশি ফুটপাতেও বেড়েছে মানুষের চলাচল।

মালিবাগ, কাকরাইল, রামপুরা ও ফকিরেরপুল ঘুরে দেখা গেল সব সড়কেই ব্যস্ততা। এসব এলাকায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশকে প্রচণ্ড গরমে ছাতা হাতে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

কাকরাইলের কাছে প্রাইভেটকার চালক শামীম বলেন, ‘গুলশান থেকে এসেছি, যাব মতিঝিল। পাঁচটা মোড় পার হয়ে কাকরাইল মোড়। সব জায়গায় যানজট দেখলাম। রাস্তায় নামলে লকডাউন নেই বলেই মনে হয়।’

লকডাউনে শুরুর দিকে মানুষ বাইরে কম বের হলেও এখন বিভিন্ন প্রয়োজনে রাস্তায় নামছেন। তল্লাশি চৌকিগুলোয় পুলিশের তৎপরতাও প্রায় থেমে গেছে।

রাজধানীর আগারগাঁও এবং মিরপুরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা ৬০ ফুট সড়কে লকডাউনে একটি তল্লাশি চৌকি দেখা গেছে। যেখানে ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য সড়কের পাশে ফুটপাতে অবস্থান করছিলেন।

একজন পুলিশ সদস্য তল্লাশি চৌকির ব্যারিকেডের আড়ালে দাঁড়িয়ে সবাইকে মাস্ক পরার অনুরোধ করছিলেন। দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা উপপরিদর্শক রিয়াজুলের কাছে প্রশ্ন ছিল তল্লাশি কি থেমে গেছে?

তিনি বলেন, ‘রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে জনে জনে ধরে তল্লাশি করা বা বাইরে বের হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া কঠিন। তবে সবাইকে মাস্ক পরার জন্য সতর্ক করছি।’

রামপুরা, মালিবাগ, মৌচাক ও শান্তিনগর সড়কে যানবাহনের চাপ আগের মতোই দেখা গেছে। তবে প্রাইভেটকারের সংখ্যা বাড়ছে। এসব এলাকার সড়কে পুলিশের চেক পোস্টগুলো থাকলেও তেমন কড়াকড়ি দেখা যায়নি। কাকরাইল চেকপোস্টের সামনে পুলিশের দেয়া নির্দেশিত পথে প্রাইভেটকার ও পণ্যবাহী গাড়ি বাধাহীনভাবে চলাচল করেছে।

খোকন নামে এক রিকশাচালক বলেন, ‘পুলিশের চেকপোস্টে আগের মতো প্রাইভেটকারকে থামাইয়া রাখে না। লকডাউন শেষের দিকে বইলা (বলে) কড়াকাড়ি থাইমা (থেমে) গেছে।’

লকডাউনে রাজধানীর সড়কে রিকশা, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ির পরিচয়ে ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকার চলাচল করছে, ভাড়া নিয়েও চলছে নৈরাজ্য।

সকালে আগারগাঁও রেডিও কার্যালয়ের সামনে কালো গ্লাসের একটি শৌখিন এসইউভি ঘিরে ৪ থেকে ৫ জন মানুষের জটলা দেখা যায়। জনপ্রতি ২০০ টাকা ভাড়া গুনে ওই গাড়িতে করে উত্তরা যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তারা।

যাত্রীদের মধ্যে ভাগাভাগি করে এ ধরনের গাড়ি কিংবা প্রাইভেটকারে যাওয়া চেষ্টাই বেশি দেখা গেল। কারণ এ লকডাউনের মধ্যে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে চড়ে উত্তরা যেতে গুনতে হবে কমপক্ষে ৩০০ টাকা।

সড়ক আর অলিগলিতে মানুষের ব্যস্ততার সঙ্গে বাজারেও বাড়ছে ভিড়। শান্তিনগর বাজার, ফকিরেরপুলে বাজারে লোকজনের উপস্থিতি গত কয়েকদিনের তুলনায় বেড়েছে। কাঁচাবাজারগুলো এখন পুরোপুরি খুলতে শুরু করেছে।

এর আগে সংক্রমণ ঠেকাতে বাজারের সামনে খোলা রাস্তায় তরিতরকারি বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু যানবাহন বেড়ে যাওয়ায় ভাসমান বাজারের কারণে যানজটের ভোগান্তি হওয়ায় আবার বাজারের ভেতরে ভিড় বাড়ছে।

রাজারবাগের বাসিন্দা ফরিদা ইয়াসমীন বলেন, ‘যেভাবে গাড়ি-ঘোড়া রাস্তায় দেখা যাচ্ছে তাতে তো রাস্তার পাশে বাজার করা একটু রিস্কি। সে জন্য ভেতরেই বাজার করছি। গত তিনদিন আগেও রাস্তার পাশে বাজার করেছিলাম।’

লকডাউনে এখনও শপিংমল আর মার্কেটগুলো পুরো বন্ধ আছে। রামপুরার বাসিন্দা নেছার উদ্দিন বলেন, ‘কর্ণফুলী শপিংমলে আমার একটা দোকান আছে। চারজন স্টাফ। আজকে ১৫ দিন বন্ধ। মাসের অর্ধেক চলে গেছে। আরও পাঁচ দিন পর দোকান খোলা যাবে। কীভাবে ব্যবসা চালাব বুঝতে পারছি না। লকডাউন আমাদের মতো ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের গলা টিপে ধরেছে। সরকারের উচিত লকডাউনের বিকল্প কিছু চিন্তা করা।’

কর্ণফুলী শপিংমলের মতো টুইন টাওয়ার ও মৌচাকসহ এ এলাকার বড় শপিংমলগুলোয় অনেক ছোট দোকানদার রয়েছেন, যারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। মৌচাকের কাছে পান বিক্রেতা সোহরাব বলেন, ‘মৌচাকের ভেতরে ছোট ছোট দোকানদাররা প্রতিদিনই এখানে এসে ঘুরাফেরা করতে দেখা যায়। তারা খুব কষ্টে আছেন স্যার।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..