প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

রাজনৈতিক বিপর্যয়ে ব্রিটেনের অর্থনীতির নিম্নগতি

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: শীর্ষস্থানীয় ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি মুডিস বুধবার ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছে, চলতি বছরের সামনের দিকে ব্রিটেনের অর্থনীতির গতিবেগ আরও হ্রাস পাবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছেদ ও অপ্রত্যাশিত নির্বাচনের ফলাফল ব্রিটেনের নাগরিকদের জীবনধাণের ওপর প্রভাব ফেলবে। খবর রয়টার্স।

মুডি সংশয় প্রকাশ করে বলছে, বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে আলোচনা এবং দেশটিতে মাইনোরিটি সরকারের কারণে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে থাকবে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকরা মনে করেন, ব্রিটেনের অর্থনীতি খুব ধীরগতিতে শুরু হয়েছে এবং তারা প্রত্যাশা করছেন যে, বছরের বাকি মাসগুলোতেও দুর্বলভাবে আগাবে ব্রিটেনের অর্থনীতি। যদিও তারা পরিষ্কার করেননি, থেরেসা মে সরকার ব্রেক্সিটকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করলে কী দাঁড়াবে।

মুডির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন মুয়ালব্রোনার বলেন, গণভোটের পর আমাদের প্রত্যাশা ছিল বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি হবে দেশটির। বাস্তবে তা লক্ষ করা যায়নি।

‘জনসাধারণের ঋণের ক্রমবর্ধমান প্রবক্তাদের ফিরে আনতে আরও বিলম্ব’ শীর্ষক প্রতিবেদনে মুডিস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে, ‘ব্রিটেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্বাসযোগ্যতা, অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে এবং রফতানি ক্ষেত্রে বিনিময় হার আরও নমনীয় করতে হবে।’

‘স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর’ নামের অন্য একটি ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি প্রাক্কলন করে বলেছে, ব্রিটেনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার ২০১৬ সালের এক দশমিক চার শতাংশ থেকে কমে চলতি বছরে এক দশমিক আট শতাংশ হবে। আর ২০১৮ সালে এ প্রবৃদ্ধি কমে শূন্য দশমিক আট শতাংশে নেমে আসবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদের হার বাড়া সত্ত্বেও আগামী এসঅ্যান্ডপি বলেছে, তারা আগামী দুই বছর শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হারে ঋণ নেবে ব্যাংকটি থেকে।

এসঅ্যান্ডপির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ বোরিস গ্লাস বলেন, ব্রেক্সিট অনিশ্চয়তার ফলে চাহিদার দুর্বলতা, মূল্যস্ফীতির সাময়িক বৃদ্ধি ও দেশি শ্রমিকের চাপ থাকা সত্ত্বেও আমরা  ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সঙ্গে ২০১৯ সালের মধ্য পর্যন্ত ঋণচুক্তি চালিয়ে যাবো।

বুধবার ব্রিটেনের বেকারত্বের হার নিয়ে জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে ১৯৭০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৪২ বছরে বেকারত্বের হার সর্বনি¤œ দেখানো হয়েছে। ভোক্তা মূল্যসূচকে (সিপিআই) মূল্যস্ফীতি পরিমাপ করা হয়েছে। যেখানে দেখা যায়, ব্রিটেনে বর্তমানে বেকারত্বের সংখ্যা মাত্র চার দশমিক পাঁচ শতাংশ। ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) দুই দশমিক ৯ শতাংশ এবং খুচরা মূল্য সূচক (আরপিআই) তিন দশমিক সাত শতাংশ দেখানো হয়েছে।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের একজন ডেপুটি গভর্নর বলেন, ব্রেক্সিট পরবর্তী ইউরোপের সঙ্গে ব্রিটেনের বাণিজ্য দ্রুত পড়ে যাওয়ায় অর্থনীতির মন্দাবস্থা রয়েছে।