একেএম সিরাজুল আলম চৌধুরী, রাজবাড়ী সদর : রাজবাড়ী জেলায় বিসিজি টিকার সিরিঞ্জ সংকটের কারণে নবজাতকদের টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অটো-ডিসেবল সিরিঞ্জ না থাকায় নির্ধারিত সময়ে অনেক শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নবজাতকের জন্য বিসিজি টিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত সিরিঞ্জ সংকট দূর করে টিকাদান কার্যক্রম স্বাভাবিক করা জরুরি।
জানা গেছে, বিসিজি টিকা প্রয়োগের জন্য বিশেষ ধরনের সিরিঞ্জ প্রয়োজন হয়। কিন্তু গত ১০ মাস ধরে এসব সিরিঞ্জ সরবরাহ না থাকায় টিকাদান সেবা চালিয়ে যেতে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে অনেক অভিভাবক শিশুদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে এসে ফিরে যাচ্ছেন। বিসিজি টিকা মজুত থাকলেও সিরিঞ্জের অভাবে তা প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। এতে করে নবজাতকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকা না পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
রাজবাড়ী পৌরসভায় গিয়ে দেখা যায়, অনেকেই টিকা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। এসময় কথা হয় কলেজ শিক্ষক আব্দুল্লাহিল হাসানের সাথে। জানালেন, তিনি তার ৪২ দিন বয়সী ভাতিজিকে টিকা দিতে এসেছিলেন। কিন্তু এসে জানতে পারেন সিরিঞ্জ নেই। না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে এ টিকা নেওয়া আবশ্যক। এখন অন্য কোথাও খুঁজবেন। জানান, তার মেয়ের বয়স সাত মাস। তার মেয়েকে টিকা দিতে গিয়েও এমন সমস্যায় পড়েছিলেন। তখন অনেক কষ্টে মেয়েকে টিকা দিতে পেরেছিলেন।
রাজবাড়ী পৌরসভার স্যানেটারী ইন্সপেক্টর ইয়াসমীন আক্তার জানান, পৌরসভা এলাকার মধ্যে তারাই টিকা দেন। প্রতি মাসে দুই থেকে তিনশ জনকে টিকা দেওয়া হতো। বিগত আট থেকে ১০ মাস ধরে সিরিঞ্জ না থাকায় টিকা দিতে পারছেন না। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সিরিঞ্জ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সিরিঞ্জ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবারও নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ জানান, বিসিজি টিকা আছে। কিন্তু এটি দেওয়ার জন্য সিরিঞ্জের সরবরাহ নেই। এটি শিশুদের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। এই টিকা যক্ষ্মা প্রতিরোধ করে। বাংলাদেশে যক্ষ্মার প্রকোপ বেশি। একারণে এটি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়। এ টিকার বিকল্প কোনো কিছু নেই। খুব তাড়াতাড়ি সিরিঞ্জ চলে আসবে বলে আশা করেন তিনি।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post