সারা বাংলা

রাজবাড়ীতে নম্বরবিহীন ইট দিয়ে চলছে সড়ক পাকাকরণ

প্রতিনিধি, রাজবাড়ী: রাজবাড়ী সদর উপজেলায় দাদশী-পাচুরিয়া সংযোগ রাস্তা পাকাকরণের কাজে ১ নং ইটের খোয়ার পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে নম্বরবিহীন ইটের খোয়া ও রাবিশ। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
দাদশী-পাচুরিয়া সংযোগ সড়ক পাকাকরণের কাজ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। সড়কটিতে অত্যন্ত নিন্মমানের নম্বরবিহীন ইট দিয়ে চলছে রাস্তা পাকাকরণ কাজ। এলাকাবাসী একাধিকবার ঠিকাদারের কাছে অভিযোগ করলেও হয়নি সমাধান। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে লোক দেখানোর জন্য কিছু ভালো ইট ভাঙা হলেও ফের নিন্মমানের ইট দিয়েই চলছে নির্মাণকাজ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তার কাজের জন্য যে ইট ব্যবহার করা হচ্ছে তাহা নিন্মমানের নম্বরবিহীন ইট। আমরা এলাকাবাসী ওই সব ইট দিয়ে রাস্তার কাজ করতে নিষেধ করায় ঠিকাদারের নিয়োজিত ম্যানেজারসহ কয়েকজন মিলে এলাকাবাসীকে বিভিন্ন ধরনের ভয় দেখিয়ে বলে যে, এ ইট দিয়েই রাস্তার কাজ করা হবে।
জানা যায়, দাদশী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড জয়রামপুর রেললাইন বামনীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়ক-বাম্রামনদিয়া পাচুরিয়া সংযোগ সড়ক পর্যন্ত ১.৫৩৫ মিটার গত বছরের টেন্ডারের প্রেক্ষিতে-৯৩ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ব্যয়ে পাকাকরণের নির্মাণকাজ করছে ঠিকাদার চৌধুরী মাহম্মুদ কবির।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তাটির নির্মাণের শুরু থেকেই হচ্ছে অনিয়ম। আর শুরু থেকেই ব্যবহার করা হচ্ছে নিন্মমানের নম্বরবিহীন ইট। কাজটি করা হচ্ছে ঠিকাদারের খেয়াল-খুশিমতো। বহুদিনের কাক্সিক্ষত রাস্তাটি বেশি কিছু করার কারণে যদি কাজ বন্ধ হয়ে যায় এ কারণে প্রতিবাদ করতেও ভয় করছে এলাকাবাসী।
বামনীপুর গ্রামের, অসিম কুমার বিশ্বাস, ভক্ত চন্দ্র বাড়ইসহ বেশ কয়কজন জানান, রাস্তাটি যে ইট দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে তা কোনো নাম্বারের মধ্যেই পড়ে না। এ ইটগুলো হচ্ছে ৩ নম্বরের ভূষা এবং বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়া ইট। শুরু থেকেই নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তাটির কাজ করার প্লান করছে ঠিকাদার। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী ইঞ্জিনিয়ারকে নিন্মমানের ইটের বিষয়টি বললে ইট দেখে তিনি বলেছেন, ‘আমি বলে দিচ্ছি আর খারাপ ইট দিয়ে কাজ হবে না।’ অথচ এখন ও ওই ইট দিয়েই কাজ করা হচ্ছে। গত ৩ মার্চ ওই সব ইট এনে আবারও ফেলছে তাই আমরা এলাকাবাসী বাঁধা দেই। আমরা বাধা দেওয়ায় ঠিকাদার চাঁদাবাজির মামলাও দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
ফ্রান্স প্রবাসী আশরাফুল ইসলাম জানান, এখানে কোনো ধরনের দু-নম্বর ইট দিয়ে কাজ হতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে দুদুকসহ ওপর মহলে জানাবেন এবং আদালতে মামলা করবেন তিনি।
কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, অভিযোগ পেয়ে ৬ মার্চ ৩ ট্রাক খারাপ ইট সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ১ নং ইট দিয়ে কাজ করতে ঠিকাদারকে বাধ্য করা হবে।
ঠিকাদার চৌধুরী মাহম্মুদ কবির লাবু জানান, খানখানাপুরের একটি ভাটা থেকে ইট নিয়ে কাজ করছেন। আসলে তিনি জানেন না যে, এ ধরনের বাজে ইট দিয়েছে ভাটা থেকে। ইতোমধ্যে বাজে ইটগুলো সরিয়ে নিয়েছেন। আর এ ধরনের ইট এ কাজের সাইডে আনা হবে না।
সদর উপজেলা প্রকৌশলী স্বপন কুমার গুহ জানান, তিনি গত এক সাপ্তাহ আগে রাস্তার কাজটি পরির্দশন করেছেন। তখন ভালো ইট দিয়েই কাজ করছিল, কোনো অনিয়ম পাননি। অনিয়মের খবর পেয়ে ৬ মার্চ সকালেই ওই রাস্তার কাজের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে পাঠিয়েছিলেন। তবে যদি এখন কোনো অনিয়ম হয় তাহলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..