প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

রাজশাহীতে খেজুর গুড়ে ১৫ কোটি টাকা আয়ের আশা

 

আসাদ রাসেল, রাজশাহী: রাজশাহীর বাঘা ও দুর্গাপুর উপজেলায় শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চলছে খেজুর গুড় উৎপাদনে জড়িত মানুষদের ব্যস্ততা। এ দুই উপজেলার খেজুরের গুড়ের খ্যাতি দেশজুড়ে। শীত মৌসুমে খেজুর গুড় থেকে সরকারিভাবে সাড়ে আট কোটি টাকা আয় হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বেসরকারি হিসাবে এ আয় ১৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাঘা ও দুর্গাপুর উপজেলায় খেজুরবাগান রয়েছে প্রায় সাত হাজার। এছাড়া সড়কপথ, পতিত জমি ও বাড়ির আঙিনা মিলে দেড় লক্ষাধিক খেজুরগাছ আছে। একজন গাছি প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫টি খেজুরগাছের রস আহরণ করতে পারেন। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চার হাজার গাছি রস সংগ্রহে ব্যস্ত। তারা খেজুরগাছের ওপর নির্ভরশীল হয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। জানা গেছে, একেকজন কৃষক তাদের গাছের সংখ্যা অনুপাতে গাছি নিয়োগ করেন। তারা মৌসুমজুড়ে রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত থাকেন। বিকাল থেকেই গাছিরা হাঁড়ি লাগানোর কাজ শুরু করেন। পরদিন ভোর থেকে রস সংগ্রহে লেগে পড়েন। রসের ময়লা ছেঁকে পরিষ্কার করে জ্বাল দিয়ে তৈরি করেন গুড়। পরে তা জমিয়ে তৈরি হয় পাটালি। এরপর বিক্রির জন্য নেওয়া হয় হাট-বাজারে। খুচরা ও পাইকারিতে বিক্রি হয় খেজুরের গুড়। জেলার আমের যেমন দেশজুড়ে খ্যাতি, তেমনি সুমিষ্ট খেজুর গুড়ের খ্যাতিও রয়েছে। দুই উপজেলায় উৎপাদিত খেজুর গুড় বানেশ্বর, দুর্গাপুর এবং বাঘা ও আড়ানী হাটে বিক্রি হয়। সপ্তাহের রোববার ও বৃহস্পতিবার বাঘার হাট বসে। এ হাটেই সবচেয়ে বেশি গুড় বেচাকেনা হয়। দুর্গাপুর উপজেলার আমগাছি হাট, কানপাড়া হাট ও দুর্গাপুর হাটসহ বাঘা ও আড়ানী পৌরসভা ছাড়াও বাজুবাঘা, গড়গড়ি, পাকুড়িয়া, মনিগ্রাম, আড়ানী, বাউসা ও চকরাজাপুর ইউনিয়নের অন্য হাটেও কমবেশি গুড় বেচাকেনা হয়। হাটগুলোতে প্রতি কেজি খেজুর গুড় ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে এ গুড় প্রতি কেজি ৯০ থেকে ৯৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। প্রতিবছরই মৌসুমের শুরুতে বেশি দামে গুড় বিক্রি হলেও ভরা মৌসুমে দাম কিছুটা কমে যায়। হাট-বাজার থেকে পাইকাররা গুড় কিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান দেন। জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় সাড়ে আট কোটি টাকার খেজুর গুড় উৎপাদন হবে। তবে ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি শীত মৌসুমে ১৫ কোটি টাকার অধিক গুড় বেচাকেনা হবে।

দুর্গাপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ড. জীবন কুমার প্রামাণিক জানান, তার উপজেলায় সাড়ে চার কোটি টাকার গুড় উৎপাদন হবে। বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন জানান, তার এলাকায় চার কোটি টাকার গুড় উৎপাদন হবে। তারা দুজনই জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বাণিজ্যিকভাবে খেজুর গুড় উৎপাদনে সহায়তা দেওয়া হলে এ শিল্পকে আরও লাভজনক করা সম্ভব। ফলে বিদেশেও গুড় রফতানি করা যেতে পারে। এছাড়া এই গুড় থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাওয়া সম্ভব।