সারা বাংলা

রাজশাহীতে পুরস্কার পেল দেড় হাজার স্কুলশিক্ষার্থী

প্রতিনিধি, রাজশাহী: বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পরিচালিত দেশব্যাপী উৎকর্ষ কার্যক্রমের আওতায় বই পড়ে পুরস্কৃত হলো রাজশাহীর রাজশাহী নগরীর ৩৫টি স্কুলের দেড় হাজার শিক্ষার্থী। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘স্বাগত’, ‘শুভেচ্ছা’, ‘অভিনন্দন’ এবং ‘সেরা পাঠক’ পুরস্কার দেওয়া হয়। পাশাপাশি সেরা পাঠক পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ছয়জন শিক্ষার্থী এবং একজন অভিভাবককে দুই হাজার টাকার বই দেওয়া হয় ‘বিশেষ পুরস্কার’ হিসেবে।
এ ব্যাপারে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যুগ্ম-পরিচালক মনির হোসেন জানান, তাদের বইপড়া কর্মসূচিতে ২০১৮ সালের প্রথমেই রাজশাহী নগরীর ৩৫টি স্কুলের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীকে সদস্য করা হয়েছিল। গত বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তাদের মোট ১৬টি বই পড়তে দেওয়া হয়। পড়া শেষে নেওয়া হয় একটি পরীক্ষা। ওই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এক হাজার ৪১৮ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হলো পুরস্কার।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষায় ১৬টি বই থেকে দুটি করে প্রশ্ন ছিল। ফলে ফলাফলেই বোঝা যায়, কে কয়টি বই পড়েছে। যারা সাতটি বই পড়েছে তাদের স্বাগত পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আর ১৬টি বই পড়লে পেয়েছে সেরা পাঠক পুরস্কার। এছাড়া, ১০টি বই পড়ে শুভেচ্ছা এবং ১৩টি বই পড়ে অভিনন্দন পুরস্কার পেয়েছে শিক্ষার্থীরা।
স্বাগত পুরস্কারপ্রাপ্তদের দেওয়া হয়েছে একটি ছোট বই। শুভেচ্ছা পুরস্কারপ্রাপ্তদেরও দেওয়া হয়েছে একটি বই। তবে এটি একটি বড় বই। এছাড়া, অভিনন্দন পুরস্কারপ্রাপ্তরা পেয়েছে দুটি এবং সেরা পাঠক পুরস্কারপ্রাপ্তরা পেয়েছে তিনটি করে বই।
স্বাগত পুরস্কার পেয়েছে ৫৩৬ জন। এর বাইরে ৫৬৩ জন শুভেচ্ছা, ২৫৬ জন অভিনন্দন এবং ৬৩ জন সেরা পাঠক পুরস্কার পেয়েছে। সেরা পাঠক পুরস্কার বিজয়ী ৬৩ জনের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ছয়জনকে দেওয়া হয়েছে দুই হাজার টাকা সমমূল্যের বইয়ের একটি করে বিশেষ পুরস্কার। লটারির মাধ্যমে একজন অভিভাবককেও দেওয়া হয় দুই হাজার টাকা সমমূল্যের বইয়ের একটি করে বিশেষ পুরস্কার।
গ্রামীণফোনের সার্বিক সহযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। তিনি বলেন, ‘লাইব্রেরি হলো জ্ঞানের সমুদ্র। পৃথিবীর বিখ্যাত সব মনীষীর চিন্তারাশি সমুদ্রের সুবিশাল জলের ন্যায় লাইব্রেরিতে আবদ্ধ থাকে। তাই লাইব্রেরিতে প্রবেশ করে এসব মহান মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে। তাদের বই থেকে পাওয়া জ্ঞান আমাদের নিজেদের মধ্যে ধারণ করে আগামীতে দেশ ও সমাজের কাজে লাগাতে হবে। দেখবে, একদিন সত্যি সত্যিই বাংলাদেশ আলোকিত হবে।
অনুষ্ঠানে ছিলেন দুইবার এভারেস্ট বিজয়ী এমএ মুহিত। তিনি শিক্ষার্থীদের এভারেস্ট বিজয়ের গল্প শোনান। এমএ মহিত বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষের ভেতরেই একটা করে এভারেস্ট আছে, আর এ এভারেস্টটা হলো তার স্বপ্ন। তাই চেষ্টা করলে প্রত্যেকেই স্বপ্নের এভারেস্ট জয় করতে পারে।’
অনুষ্ঠানের অতিথি অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের বই পড়ে চিন্তার জায়গায় সৎ হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আলোকিত মানুষ হতে হলে সৎ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।’
টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ডা. আবদুর নূর তুষার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা যাই হতে চাও না কেন, তার জন্য অবশ্যই চেষ্টা থাকতে হবে। তাহলেই সফল হওয়া সম্ভব।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..