সুশিক্ষা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশ সমাবর্তন

একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমের সমাপন শেষে যেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়, সেদিনের আয়োজনটি সমাবর্তন নামে পরিচিত। দিনটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর থাকে হাজারো স্বপ্ন। শিক্ষাজীবন শেষে একটি কালো রঙের গাউন ও ক্যাপ প্রাপ্তি কোনো শিক্ষার্থীর গ্র্যাজুয়েট হওয়ার জন্য প্রতীক্ষার ফল। যে প্রতীক্ষার শেষ হয় সমাবর্তনের মধ্য দিয়ে। অনেকের লালিত স্বপ্ন যেন বাস্তবে রূপ পায় এদিন। স্বপ্ন যেন ধরা দেয় বাস্তবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের সে স্বপ্নে ঘেরা আবেগমাখা দিনের কথা জানাচ্ছেন আসিফ হাসান রাজু মতিহারের সবুজ চত্বর সেজেছে বর্ণিল সাজে। ক্যাম্পাসটা যেন গমগম করছে। চারদিকে জাঁকজমকপূর্ণ আবহ। তারুণ্যের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ছে। কালো গাউনে প্রাণোচ্ছল তারুণ্যের ছড়াছড়ি। এ যেন গ্র্যাজুয়েটদের মেলা। সেদিন সবুজ চত্বরটি যেন পুরো যৌবনভরা রূপ পেয়েছিল। পাবেই না কেন? দিনটি ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশ সমাবর্তন। ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে গেল জমকালো এ আয়োজন।

দিনটি ঘিরে গ্র্যাজুয়েটদের মনে উত্তেজনার কমতি ছিল না। তাদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। সঙ্গে ক্যামেরা আর মুঠোফোনের ক্লিক। হোক সেটা প্যারিস রোড কিংবা শাবাশ বাংলাদেশে। প্রধান ফটক থেকে জোহা চত্বর, পুরোনো ফোকলোর মাঠ, শহীদ মিনার, টুকিটাকি চত্বর, চারুকলা, ক্যাফেটেরিয়া, রাকসু প্রাঙ্গণ, টিএসসি, স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণসহ কোনো স্থানে থেমে ছিল না তাদের ছবি তোলার মহড়া।

গাউন আর ক্যাপ পরে এমন একটা দিনকে কেইবা মিস করবে ফ্রেমে আবদ্ধ হতে? এমনটাই বলছিলেন মার্কেটিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মৌসুমি মৌ। সমাবর্তনকে ঘিরে লাল-নীল আলোয় সেজেছিল ক্যাম্পাস। এখানে এসেই প্রিয় বিভাগে শিক্ষক ও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতেছিলেন গ্র্যাজুয়েটরা। ক্যাম্পাসজীবনে কাটানো সতীর্থদের সঙ্গে নিজের স্মৃতিকে ফ্রেমে বন্দি করতে দেখা যায় অনেককে। শুধু সাবেক শিক্ষার্থীই নয়, সেদিন তাদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে দিন কাটাতে দেখা যায় বতর্মান শিক্ষার্থীদেরও। এ যেন নবীন-প্রবীণের মিলনমেলা।

সমাবর্তনে অংশ নেওয়া নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তরা বিশ্বাস জানালেন তার স্বপ্নের কথা। ছোটবেলা থেকে পুষে রাখা সেই স্বপ্ন পূরণ আর সাধনার স্বীকৃতির দিন আজ। কথাগুলো বলতে বলতে আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি বললেন, আজ আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন।

শাবাশ বাংলাদেশ মাঠে একদল গ্র্যাজুয়েট নীল আকাশে ক্যাপ ছুড়ে একটু লাফ দিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত। আকাশে ক্যাপ ছুড়ে না দিলে যেন গ্র্যাজুয়েট ভাবটাই আসে না। কথা হলো, তাদের মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সুমাইয়া তাসনুভার সঙ্গে। তিনি বলেন, দিনটি আমার কাছে হাজারো স্বপ্নের ভিড়ে আবেগের দিন। বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল একদিন আমিও শিক্ষাজীবন শেষ করে তাদের স্বপ্ন পূরণ করব, আজ আমার সেই দিন।  সমাবর্তনের যোগ দেওয়া নব্য গ্র্যাজুয়েটদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। গত চার বছরের পড়াশোনার পর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পূর্ণতা এলো সমাবর্তনের মাধ্যমেÑজানালেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আরফান মাহমুদ।

সমাবর্তনের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় শেখ কামাল স্টেডিয়ামে। সমাবর্তন উপলক্ষে ক্যাম্পাস সেজেছিল নতুন সাজে। লাল-সবুজের বাতির সঙ্গে রঙের তুলির আলপনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত সাজানো হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ভবন, রাস্তা ও গাছপালা রঙের আঁচড়ে যেন প্রাণের ছোঁয়া পেয়েছিল সমাবতর্ন উপলক্ষে।

এবারের সমাবর্তনে তিন হাজার ৪৩১ গ্র্যাজুয়েট অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেন। উৎসবমুখর এ দিনটিতে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইতিহাসবিদ অধ্যাপক রঞ্জন চক্রবর্তী। সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। শেষে মঞ্চ মাতান দেশবরেণ্য শিল্পী খুরশিদ আলম ও লুইপা।

দিনভর সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পূর্ণ হয় অনেক শিক্ষার্থীর আকাশছোঁয়া স্বপ্নের বড় একটি অংশ। সব মিলিয়ে সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের চোখেমুখে ছিল উচ্ছ্বাসের ছাপ। চোখে-মুখে সেই স্বপ্ন আটকে হাসিমাখা মুখ নিয়ে নতুন জীবন গড়ার প্রত্যয় তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..