প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

রাজশাহী বোর্ডে সেরা বগুড়া

প্রতিনিধি, বগুড়া : এসএসসির ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫-এর সূচকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এবারও সেরা হয়েছে বগুড়া জেলা। বোর্ডসেরা এ জেলা থেকে এ বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৩৫ হাজার চার শিক্ষার্থী। উত্তীর্ণ হয়েছে ৩০ হাজার ৯২২ জন। পাসের হার ৮৮ দশমিক ৩৪। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৫৯০ জন। গত বছর এ জেলা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ছয় হাজার ১৪২ জন।

জেলায় পাসের হারের সূচকে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে আছে মেয়েরা। এ বছর মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রসংখ্যা ১৮ হাজার ২৯৪। পাস করেছে ১৬ হাজার ৫৮ জন। পাসের হার ৮৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অন্যদিকে এ বছর ১৬ হাজার ৭১০ ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে এবং পাস করেছে ১৪ হাজার ৮৬৪ জন। পাসের হার ৮৮ দশমিক ৯৫।

বোর্ডে পাসের হারের সূচকে দ্বিতীয় অবস্থানে জয়পুরহাট জেলা। এ জেলা থেকে এ বছর ৯ হাজার ১০৫ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে এবং আট হাজার ১৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮৮ দশমিক ৫। এই জেলা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই হাজার ৩৩৫ জন।

পাসের হারের সূচকে তৃতীয় অবস্থানে নওগাঁ জেলা। এই জেলা থেকে এ বছর ২৩ হাজার ৮১৭ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২০ হাজার ৬৬৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮৬ দশমিক ৭৮। জিপিএ-৫ পেয়েছে পাঁচ হাজার ২৮৭ জন।

অন্যদিকে, জিপিএ-৫-এর সূচকে বোর্ডে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সিরাজগঞ্জ জেলা। এ জেলা থেকে এ বছর ৩৪ হাজার ৫১০ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২৯ হাজার ৯১৬ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮৬ দশমিক ৬৯। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৯৪০ জন। গতবার বোর্ডে জিপিএ-৫-এর সূচকে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল রাজশাহী জেলা।

এসএসসির ফলাফলে বগুড়া জেলায় এবার পাসের হার ৮৮ দশমিক ৩৪। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৫৯০ জন। গত বছর এ জেলা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ছয় হাজার ১৪২ জন।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রাজশাহী বোর্ড থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এক লাখ ৯৫ হাজার ১২৪ জন। এর মধ্যে পাস করেছে এক লাখ ৬৭ হাজার ৫৮১ জন। পাসের হার ৮৫ দশমিক ৮৮। গত বছর পাসের হার ছিল ৯৪ দশমিক ৬৪। এ বছর ছাত্রীদের পাসের হার ৮৬ দশমিক ১৭, গত বছর যা ছিল ৯৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এ বছর ছাত্রদের পাসের হার ৮৫ দশমিক ৬২। গতবার ছাত্রদের পাসের হার ছিল ৯৪ দশমিক শূন্য ৪। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২ হাজার ৫১৭ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৭ হাজার ৭০৯ শিক্ষার্থী।

জেলায় সেরা ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: জেলায় বরাবরের মতো এবারও সেরা অবস্থানে আছে বগুড়া জিলা স্কুল, বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পল্লী উন্নয়ন ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল, ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং টিএমএসএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

গত বছরের ফলাফলে শতভাগ পাসের হারের তালিকা থেকে ছিটকে পড়া বগুড়া জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবার তালিকায় আবার জায়গা করে নিয়েছে। এ বছর বগুড়া জিলা স্কুলের ২৫৮ জনের মধ্যে ২৫৮ জনই পাস করেছে। পাসের হার শতভাগ। এই বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫৭ জন। জিপিএ-৫ অর্জনের হার ৯৯ দশমিক ৬১।

গত বছর বগুড়া জিলা স্কুলের ২৩৬ জনের মধ্যে ২৩৫ জন পাস করেছ। অনুত্তীর্ণ হয় একজন। পাসের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৫৮। গতবার এই বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৩২ জন।

বগুড়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামপদ মুস্তাফী বলেন, গত বছর বোর্ডের ফলাফলে জীববিজ্ঞান বিষয়ে এক পরীক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ দেখানো হয়। পরে ফল পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করার পর ওই শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়।

বগুড়ার সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২৫৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। এ ছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫২ জন। গত বছর এ বিদ্যালয় থেকে ২৫৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫৩ জন উত্তীর্ণ হয়। অকৃতকার্য হয় দুজন। এ ছাড়া জিপিএ-৫ পায় ২৪৩ জন।

সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুন বলেন, গতবার বোর্ডের ফলাফলে দুজন পরীক্ষার্থীকে অকৃতকার্য দেখানো হলেও ফল পুনর্বিবেচনার আবেদনের পর তারা উত্তীর্ণ হয়েছে।

বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার ৩৫৭ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩৮ জন। জিপিএ-৫ অর্জনের হার ৯৪ দশমিক ৬৭। গত বছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২১ জন জিপিএ-৫ পায়। পাসের হার ছিল শতভাগ। জিপিএ-৫ অর্জনের হার ৯৩ দশমিক ৩১।

এবার বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪৩৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২২ জন। গতবার এই বিদ্যালয় থেকে ৪৪৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবাই পাস করে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পায় ৪১৩ জন।

বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থীর ফলাফল পুনর্বিবেচনার জন্য বোর্ডে আবেদন করা হবে।

বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার ৩৪১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩৩ জন। গত বছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৩৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩৫ জন পাস করে। অনুত্তীর্ণ হয় একজন। পাসের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৭০। জিপিএ-৫ পায় ৩২০ জন।

বগুড়া পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার ২৭৬ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২৭৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১৭ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। গত বছর এ বিদ্যালয় থেকে ২৪৯ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২৪৮ জন উত্তীর্ণ হয়। জিপিএ-৫ পায় ২২১ জন। পাসের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৫৯।

পল্লী উন্নয়ন ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর ২৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪১ জন।
করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল থেকে এ বছর ২১২ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পাস করেছে ২১১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬২ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৫৩।

ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০২ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২০০ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫৮ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ১। টিএমএসএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৭৭ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে শতভাগ পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২৩ জন।