সম্পাদকীয়

রাজস্ব আহরণে অবদান রাখুক কেস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

করদাতার সঙ্গে বোঝাপড়ার ভিত্তিতে রাজস্ব আহরণ হয় বলে সাধারণ্যে প্রচলিত। আবার কোনো কারণ দেখিয়ে রাজস্ব আদায়ে শৈথিল্য ও গড়িমসির অভিযোগও রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। করদাতা তাদের আবদারে রাজি না হলে অকারণে নিরীক্ষাসহ বিভিন্ন বাহানা দেখিয়ে করদাতাকে ফাঁসিয়ে দেয়ার কথাও শোনা যায়। তাই রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে আসছেন অংশীজনরা। সাধারণ মানুষেরও ধারণা, রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিরোধ নিষ্পত্তি বড় ভূমিকা রাখবে।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘রাজস্ব মামলা ব্যবস্থায় আসছে কেস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’ শীর্ষক প্রতিবেদন আমাদের আশাবাদী করে। প্রতিবছর রাজস্ব এক বড় মামলার জালে আটকে অনাদায়ী থাকে। মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতায় রাজস্ব বকেয়া ক্রমেই বাড়ছে। শেয়ার বিজের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ২৮ হাজার মামলায় রাজস্ব জড়িত রয়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরের ডেটাবেজে মামলার তথ্য হালনাগাদ না থাকায় এবং রায়ের সার্টিফাইড কপি তুলে সময়মতো ব্যবস্থা না নেয়ায় বছরের পর বছর মামলা ঝুলে রয়েছে।

মামলায় জড়িত রাজস্ব আদায়, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি ও হালনাগাদ তথ্য পেতে কেস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার তৈরি করেছে এনবিআর। এ সফটওয়্যার ব্যবহার করা গেলে রাজস্ব-সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি সহজ হবে। এতে করদাতাদের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনই রাজস্ব আদায়ে কার্যকর ভূমিকা থাকবে।

সাধারণত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান রাজস্ব দিতে না চাইলে পরিকল্পিতভাবে এ নিয়ে জটিলতা তৈরি করে, আবার তারাই মামলা ঠুকে দেয় আদালতে। এনবিআরের তথ্যমতে, উচ্চ আদালত-ট্রাইব্যুনাল সব মিলিয়ে দেশের আদালতগুলোয় অন্তত রাজস্ব-সংক্রান্ত ২৭ হাজার ৭২৫টি মামলা বিচারাধীন। রায় এনবিআরের পক্ষে গেলে আপিলে যায় বাদী। মামলাগুলো পরিচালনায় কমিশনারেট, কর অঞ্চল ও অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস জড়িত। এখানে কোনো পর্যায়ে একটু শৈথিল্য বা উদাসীনতায় মামলায় দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। আবার সমন্বয় কর্মকর্তার বদলি ও মৃত্যুজনিত কারণে মামলা স্বাভাবিক গতি হারায়। আবার নতুন করে শুরু করতে হয়। মামলাগুলোর হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণে কেস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার থাকলে সময়ক্ষেপণের সুযোগ থাকবে না।

এনবিআর চেয়ারম্যান কেস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে এক্সেল শিটে মামলাগুলোর তথ্য হালনাগাদ করে সংরক্ষণ করার কথা বলেছেন। এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। সফটওয়্যার চালু করতে অহেতুক বিলম্বের ক্ষেত্রে কোনো কারসাজিও থাকতে পারে। সুযোগসন্ধানীরা চাইবে কোনো ফাঁক রাখতে। তাই সফটওয়্যার পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত সব মামলার হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণে ম্যানুয়াল ভিত্তিতে এক্সেল শিট ও হার্ড কপিতে আদালতের নাম, মামলার নম্বর, বাদী-বিবাদীর তথ্য, মামলার কারণ, তথ্যবিবরণী প্রভৃতি সংরক্ষণ করতে হবে।

করব্যবস্থাকে জনবান্ধব এবং এর ব্যবস্থাপনা দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে বৈষম্যমূলকভাবে আয়কর আদায়ে কেস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার যথাসম্ভব শিগগির চালু করার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। এটির সুষ্ঠু ব্যবহারে রাজস্ব আহরণে গতি বাড়ানো সম্ভব।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..