প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

রাজস্ব কর্মকর্তাদের হুমকি দিলে ব্যবস্থা : এনবিআর চেয়ারম্যান

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: কর সংগ্রহে গেলে কিছু লোক রাজস্ব কর্মকর্তাদের ‘হুমকি দেন’ মন্তব্য করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেছেন, এদের বিরুদ্ধে ‘অবশ্যই’ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এ হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

নজিবুর রহমান বলেন, এই কর্মকর্তাদের কেউ হুমকি-ধমকি দিলে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যায়। এসব হুমকিদাতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। শুল্ক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এনবিআর-প্রধান বলেন, ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে উঠে তাদের দেশের জন্য কাজ করতে হবে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজকে ব্যবহার করে কেউ যদি ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, সেটা দিবাস্বপ্ন। সেই স্বপ্ন ভুলে যান।

শিগগির এনবিআরের উদ্যোগে ঢাকায় একটি ‘নিরাপত্তা সংলাপের’ আয়োজন করা হবে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, সেই সংলাপের উদ্দেশ্য

হবে সব নিরাপত্তা সংস্থার কাছে রাজস্ব কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরা।

সংবাদমাধ্যমে অর্থ-বাণিজ্য বিষয়ক রিপোর্টারদের সংগঠন ইআরএফ সদস্যদের নিয়ে ‘রাজস্ব যাত্রা’র আয়োজন করে চট্টগ্রামে এসেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

দুদিনের এ সফরে বুধবার চট্টগ্রামে আসেন। গতকাল সকালে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ ও চট্টগ্রাম বন্দর ঘুরিয়ে দেখানো হয় সাংবাদিকদের।

আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কীভাবে সম্পন্ন হয় সে বিষয়ে জানানোর পাশাপাশি সার্বিক অবস্থা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন কাস্টম হাউজের কমিশনার এএফএম আবদুল্লাহ খান।

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ এখন সম্পূর্ণ বহিরাগতদের উৎপাতমুক্ত।’

অতীতে ‘বহিরাগতদের’ দিয়ে কাস্টমসের মতো স্পর্শকাতর অফিসে কাজ করিয়ে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, ‘সেটা ঠিক হয়নি।’

কাস্টম হাউজে সেবা নিতে আসা ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য জাহাজীকরণের প্রক্রিয়াগুলো সাংবাদিকদের ঘুরিয়ে দেখানো হয়। বন্দর ও কাস্টম হাউজের সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

বাণিজ্য ও রাজস্ব নিরাপত্তায় কাস্টমস হাউজ এবং শুল্ক গোয়েন্দা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পাশাপাশি সরকারের সব সংস্থা কাস্টমসের ওপর নজর রাখছে। রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির জন্য কাস্টমস হাউজের নিরাপত্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যারা কাস্টম হাউজের কর্মকর্তাদের জন্য হুমকি সৃষ্টি, নিরাপত্তা বিঘিœত ও কর্মকর্তাদের নাজেহাল করার চেষ্টা করছেন তাদের খেসারত দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন চেয়ারম্যান।’

রাষ্ট্রের নিরাপত্তার হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার কাজ নিয়ম মেনে ধীরে সুস্থে চলে। তবে এর গভীরতা থাকে অনেক বেশি। আমরা সমস্যার মূল উৎপাটন করতে চাই। যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্যোগ ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সহায়তায় আমরা বিপুল পরিমাণ জনবল নিয়োগ দিচ্ছি। ফলে জনবলের সমস্যা দ্রুত কেটে যাবে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে বেশ কিছু সৎ, অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তা পদায়ন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজস্ব নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের জন্য যারা হুমকি তৈরি করবেন তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হুমকিদাতা হিসেবে গণ্য হবেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে খুব শিগগিরই একটি নিরাপত্তা সম্মেলন করা হবে সেখানে সব স্টেকহোল্ডার ও আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িতদের আহ্বান জানানো হবে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে সম্পূর্ণ যান্ত্রিক পদ্ধতিতে শুল্কায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

মতবিনিমিয় সভায় কাস্টম হাউস, চট্টগ্রামের কমিশনার তার দফতরের কার্যক্রম, সাফল্য, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ অডিটরিয়ামে ‘রাজস্ব সংলাপ’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এমএ লতিফ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়াল অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম, চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খলিলুর রহমান, চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কামরুন মালেক, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতাসহ স্টেকহোল্ডাররা উপস্থিত ছিলেন। ওই সংলাপে স্টেকহোল্ডাররা কাস্টম হাউজের সম্প্রতি গৃহীত বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজ ও উন্নততর সেবার প্রশংসা করেন। এছাড়া বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা এবং তা সমাধানের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।