প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

‘রাজস্ব দিলে ফুল ফাঁকি দিলে বাঘের থাবা’

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রীয় কোষাগারে কর দেওয়ায় পুরস্কারের পাশাপাশি রাজস্ব ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এজন্য সব বিভাগের সমন্বয়ে মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানও পরিচালনা করবে এনবিআর। ‘রাজস্ব দিলে ফুল ও ফাঁকি দিলে বাঘের থাবা’ এ স্লোগান নিয়ে গতকাল থেকে অভিযান শুরু করছে সংস্থাটি।

গতকাল বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতীক হিসেবে এনবিআর প্রাঙ্গণে একটি বাঘের ভাস্কর্য স্থাপন করে এসব কথা জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. নজিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে এনবিআরে করপ্রশাসনের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান ও বিভিন্ন অণুবিভাগের বিভাগের সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি বলেন, এনবিআর শুধু রাজস্ব ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধেই বাঘের থাবা দেবে না বরং রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধেও এ থাবা কার্যকর করবে।

ভাস্কর্য উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মো. নজিবুর রহমান বলেন, সুশাসন ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা নীতির আলোকে বর্তমানে এনবিআর পরিচালিত হচ্ছে। রাজস্ব আহরণের পাশাপাশি রাজস্ব ফাঁকিবাজদের

বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রাজস্ব আহরণে এনবিআর যেমনি মেলার আয়োজন করেছে, তেমনি ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে ঠেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এজন্য আজ থেকে মাসব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালিত হবে। এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা অধিদফতর, শুল্ক গোয়েন্দা ও মূসক গোয়েন্দা অধিদফতরসহ আয়কর, মূসক ও শুল্ক বিভাগের সব অণুবিভাগ এ বিষয়ে কাজ করবে। এসব প্রতিষ্ঠান এক মাসের বিশেষ অভিযান শেষে ২১ জানুয়ারির একটি বিশেষ প্রতিবেদন দাখিল করবে।

রাজস্ব ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রাজস্ব আহরণের জন্য যা প্রয়োজন তা-ই করছে রাজস্ব বোর্ড। কেউ রাজস্ব ফাঁকি দিলে আইনের আওতায় সেটা আদায়ের চেষ্টা করবো। কারও কাছে যদি বকেয়া পাওনা থাকলেও আমাদের কথায় সাড়া না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফাঁকিবাজদের শাস্তি দিতে সবার সহায়তায় প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।

বাঘের ভাস্কর্য স্থাপন প্রসঙ্গে মো. নজিবুর রহমান বলেন, এনবিআরের দুটি রূপ। একটি রূপ হচ্ছে ফুলের রূপ, অন্যটি বাঘের। আমাদের ভবনের সামনে যে ফুলে শোভিত বাগান উদ্বোধন করা হয়েছে, তা হলো এনবিআরের সেবাধর্মী রূপের অবয়ব। রাজস্ববান্ধব অবস্থান থেকে আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট দিলে সবাইকে ফুল দিয়ে বরণ করা হবে। তবে এর ব্যতিক্রম হয়ে আয়করে ফঁাঁকি, ভ্যাটে অপব্যবহার ও শুল্কে মিথ্যা ঘোষণায় ফঁাঁকি এবং মুদ্রা পাচারের মতো ঘটনায় অংশ নিলে তাদের বিরুদ্ধে এনবিআর ব্যাঘ্র মূর্তি ধারণ করবে।

দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রাজস্ব আহরণের পরিবেশকে করদাতাবান্ধব করতে কাজ করছে এনবিআর। এজন্য রাজস্ব ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি এনবিআরের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতির দায়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত ও শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জিরো টলারেন্স নীতির কারণে এনবিআরও রং বদলাতে শুরু করেছে। দুর্নীতি ও অন্যায়ে শাস্তির পাশাপাশি সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করলে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।