সম্পাদকীয়

রাজস্ব প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি অনাকাক্সিক্ষত

২০১১-১২ অর্থবছরের পর থেকে রাজস্ব প্রবৃদ্ধিতে লাগাতার শ্লথগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অথচ সরকারি পরিসংখ্যান মতে বিনিয়োগ, উন্নয়ন, মাথাপিচু আয় ও জিডিপির মতো বিভিন্ন চলকে গতি-ত্বরণ বেগবান হচ্ছে। এই অসামঞ্জস্য সামগ্রিক আর্থনৈতিক কাঠামোকে ভারসাম্যহীন করে তুলতে পারে। স্বচ্ছতার প্রশ্ন অবশ্যই চলে আসে। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র যথাযথ আর্থিক কৌশল গ্রহণ করবে বলে আশা করি।
২০১৮ সালে দেশে ৬৮ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। বেজা চেয়ারম্যানের দাবি অনুযায়ী, দেশে ১০ বছর ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বিরাজ করায় বিনিয়োগও বেড়ে চলেছে। তাহলে বিনিয়োগ বাড়লে রাজস্ব কেন বাড়ল না? ১০ বছর ধরে সেই প্রশ্ন গুরুতর। উন্নয়ন বাড়লে মাথাপিছু আয় বাড়ে। উল্লেখ্য, দেশে এখন আট শতাংশের বেশি হারে জিডিপি বাড়ছে যার মূল উৎস ভোগ; কিন্তু অর্থনৈতিক পরিকাঠামোতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির কাক্সিক্ষত উৎস হলো বিনিয়োগ। সেই আকাক্সক্ষা পূরণে দেখা গেছে সরকারি বিনিয়োগ বাড়লেও বেসরকারিতে চাঞ্চল্য নেই; পুঁজিবাজারে হতাশা চলছে। এমন বিভিন্ন কারণে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিসংখ্যানও ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। আবার ধনী-গরিবের হাতে অর্থ সঞ্চয়ের তারতম্য বা বৈষম্য বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগ ও আর্থিক স্থিরতায় ভারসাম্য প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। অন্যদিকে এনবিআরের বড় কর্মকর্তারা বিশেষ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প ও খাতে কর অব্যাহতির বিষয়টি তুলে এনেছেন রাজস্ব ঘাটতির কারণ হিসেবে। কিন্তু এনবিআর চেয়ারম্যানের ভাষ্যমতে, একদিকে কর অব্যাহতি দিলে অন্য কোনো খাতে কর বাড়িয়ে ঘাটতি মিটমাট করা হলেও রাজস্ব কমানোর কোনো নীতি-কৌশল গ্রহণ করা হয় না। জিডিপির মূল উৎস যেখানে ভোগ, সেখানে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির প্রসঙ্গ চলে আসে। এবারের পরিসংখ্যানে দেশে ১৫৮ ডলার মাথাপিছু আয় বাড়ার চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা শক্তিশালী এবং সব খাতেই চোখে পড়ার মতো অগ্রগতি হয়েছে। তাহলে রাজস্ব ঘাটতির বিষয়টি একেবারেই অনাকাক্সিক্ষত বলে মনে হয়। তবে বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ধনী-গরিবের বাড়ন্ত বৈষম্য আমলে নিলে দেখা যায়, ভোগের পরিকাঠামো থেকে রাজস্ব আহরণ বাড়লেও বিনিয়োগের বিশাল বড় আর্থিক পরিকাঠামো থেকে রাজস্ব আহরণ আপেক্ষিকভাবে কমে এসেছে; তবুও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়েনি। এমনকি মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ী থেকে রাজস্ব আহরণে অস্বচ্ছতা রয়েছে। ফলে রাজস্ব বাড়ানোর ভার ও উন্নয়ন চাপ গরিব এবং নি¤œ-মধ্যবিত্তের ওপর পড়লেও ধনীরা অব্যাহতি সুবিধা পেয়ে যাচ্ছেন এবং সিংহভাগ আর্থিক কাঠামো রাজস্বহীনভাবে পুঞ্জীভূত হচ্ছে। এই সার্বিক ভারসাম্যহীনতা কমিয়ে এনে আর্থিক কাঠামোয় স্থিতি বাড়াতে সরকারকে অবশ্যই আশু উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..