সিএফও রাজিবকে নিয়ে রাজধানীতে শিক্ষনীয় পোস্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক: অ্যাপোলো ইস্পাতের সাবেক অর্থ কর্মকর্তা রাজিব হোসেন। তাকে শতভাগেরও ওপর বিশ্বাস করেছিল কোম্পানি। তবে বিশ্বাস ভঙ্গ করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অ্যাপোলো। ফলে কোম্পানির মামলায় কারাগারে রাজিব। তার পরও ক্ষত শুকায়নি অ্যাপোলো ইস্পাতের। রাজিবের মতো আর কোনো কর্মকর্তা যেন প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্য শহরব্যাপী পোস্টারিং করেছে অ্যাপোলো।

দেয়ালে টানানো পোস্টারে লেখা বিশ্বাসঘাতক, অর্থ আত্মসাৎকারী, প্রতারক সিএফও রাজিবের বিচার চাই। অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেডের একটি প্রখ্যাত ব্র্যান্ড রানী মার্কা ঢেউটিন। এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দীন মোহাম্মদ ছিলেন একজন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান, একটা ব্র্যান্ড। সারাজীবনের কষ্টে অর্জিত পয়সা দিয়ে দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন গ্রামবাংলার মানুষের জন্য একটা ব্র্যান্ড। উত্তরবঙ্গের একটি সফল ব্র্যান্ড হিসেবে নাম ছিল রানী মার্কা ঢেউটিনের। কিন্তু শেষজীবনে তার অগাধ বিশ্বাসকে পুঁজি করে তারই কতিপয় উচ্চপদস্থ কর্মচারী মাস্টার প্ল্যান করে তাকে অর্থনৈতিকভাবে ও মানসিকভাবে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেয়।

অ্যাপোলো ইস্পাতের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন রাজিব হোসেন। কোম্পানির বয়োবৃদ্ধ চেয়ারম্যান ও অসুস্থ ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নানা কৌশলে ভুল বুঝিয়ে রাজিব হোসেন নিজের স্বার্থ হাসিল করেছেন বলে কোম্পানিটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দাবি। কাঁচা পণ্য কেনা থেকে শুরু করে পণ্য বিক্রিসহ কোম্পানির সব লেনদেনে রাজিব কমিশন নিতেন। কোম্পানিতে রাজিবের পরিচিতি ছিল চেয়ারম্যানের কাছের ‘লোক’ হিসেবে। সে কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতেন না।

২০১৩ সালে অ্যাপোলো ইস্পাত পুঁজিবাজার থেকে প্রায় ২২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। রাজিবের অসততা ও দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটি এ অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। কোম্পানির সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ দেয়ার জন্য বোর্ডকে ম্যানেজ করেন রাজিব। অন্যদিকে পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলন করা অর্থ দিয়ে কোম্পানির ঋণ পরিশোধ করার কথা থাকলেও রাজিবের দুর্নীতির কারণে তা আর সম্ভব হয়নি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯২  জন  

সর্বশেষ..