আজকের পত্রিকা দিনের খবর শেষ পাতা সারা বাংলা সুশিক্ষা

রাবিতে করোনার ল্যাব থাকলেও নেই পরীক্ষা, নীরব প্রশাসন

আবু সাঈদ সজল, রাবি: অনেকটা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে রাজশাহী বিভাগে করোনা-আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) করোনা পরীক্ষার দুটি ল্যাব থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাবে পরীক্ষার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না ল্যাব দুটি। এমনকি ছুটির ফাঁকে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে ল্যাব দুটি। অথচ করোনা ল্যাব প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে হননে হয়ে ঘুরছে সরকার।

সূত্রে জানা গেছে, রাবি অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগে একসঙ্গে ৪৮টি এবং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্স বিভাগের ল্যাবে একসঙ্গে ৯৪টি করোনার নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এই দুটি ল্যাবে কেনা আরটিপিসিআর মেশিন দুটি বসানো হয়েছে কয়েক বছর আগেই। এগুলো চালুও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার কাজে।

একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যে ল্যাবটি বসানো হচ্ছে এবং রামেকে যে ল্যাবটি এরই মধ্যে কাজ করে যাচ্ছে, সে দুটি ল্যাবে বায়োসেফটিক লেভেল-২ তেমনভাবে মানা যায়নি। কিন্তু রাবির দুটি ল্যাবই বায়োসেফটিক লেভেল-২ মেনেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সে হিসেবে এ দুটি ল্যাবে করোনা পরীক্ষা করা হলে সামাজিক দূষণের শঙ্কা একেবারে নেই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুটি বিভাগের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনে ল্যাব চালু করা যেতে পারে বলে মন্তব্যও করা হয়েছে। কিন্তু রাবি প্রশাসনের অনিচ্ছার কারণে এখনো এ দুটি ল্যাব চালু করার জন্য কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে কোন কোন বিশ্বিবদ্যালয়ে করোনা ল্যাব চালুর সক্ষমতা রয়েছে, তা জানতে চিঠি দেওয়া হলেও সেটিও গোপন করে যায় রাবি কর্তৃপক্ষ। ফলে ইউজিসি থেকেও এ দুটি ল্যাব চালুর ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া যায়নি।

ওই সূটি আরও জানায়, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে আসছে করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য। কিন্তু সেক্ষেত্রে রাবি কর্তৃপক্ষ সব সক্ষমতা থাকার পরও এখনো হাত গুটিয়ে বসে আছে। অথচ রাবির দুটি ল্যাবে করোনা পরীক্ষা চালু হলে অনেক শিক্ষার্থী আগ্রহের সঙ্গেই এতে অংশ নেবেন কাজ শেখার জন্য। কিন্তু তাদেরও বঞ্চিত করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে রাবির অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের ল্যাবপ্রধান ড. তৌফিক আলম  বলেন, ‘আমাদের বায়োসেফটিক লেভেল-২ মেনেই আমরা কাজ করি। তবে করোনার মতো ভাইরাস নিয়ে কখনো কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই। তার পরও কর্তৃপক্ষ চাইলে আমরা এ কাজ করতে আগ্রহী আছি, কিন্তু সেক্ষেত্রে ল্যাবের সক্ষমতা বাড়াতে আরও কিছু কাজ করতে হবে। করোনা পরীক্ষার জন্য বায়োসেফটিক লেভেল-৩-এর উন্নতি করতে হবে ল্যাবকে। সেটিও হয়তো করা যাবে।’

অন্যদিকে ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্স বিভাগের ল্যাবপ্রধান ড. আরিফুল হক বলেন, ল্যাবে সক্ষমতা থাকলেই তো আর আমরা এ ধরনের নমুনা পরীক্ষা করতে পারি না। এর জন্য প্রশাসনিক ব্যাপার থাকে। তবে আমাদের মেশিনে ৯৪টি নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা আছে। আমরা সেটি করতে পারব।’

এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাবি উপাচার্য আব্দুস সোবহানের মোবাইলে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে গত বুধবার পর্যন্ত ২৫০ ছাড়ালো রাজশাহী বিভাগের করোনা-আক্রান্ত রোগী, আগের দিন মঙ্গলবার যেখানে ছিল ২৪৯ জন। গতকাল বুধবার মোট রোগাক্রান্ত হন ২৬১ জন। যদিও গতকাল রাজশাহী ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে মাত্র ৪২টি। গতকাল ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা গেলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ত বলেও মনে করেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্য।

তিনি বলেন, এখন যত বেশি পরীক্ষা করা যাবে, তত আক্রান্তের হার বাড়বে বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। আর বেশি পরীক্ষা করে রোগীদের আলাদা করা গেলে সংক্রমণ ছড়াতে পারবে না। তা না হলে আরও ব্যাপকহারে করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে এ বিভাগে।’

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দপ্তর থেকে বুধবার সকালে পাঠানো বিভাগের করোনা চিত্রে দেখা গেছে, মঙ্গলবার রাজশাহী বিভাগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৬১ জনে।  এর মধ্যে রয়েছে রাজশাহীতে ১৭, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৬, নওগাঁয় ৭০, নাটোরে ১৩, পাবনায় ১৬, সিরাজগঞ্জে ৬, জয়পুরহাটে ৭১ ও বগুড়ায় ৫১ জন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..