দিনের খবর সারা বাংলা

রামেকের কভিড ইউনিটে ১৪ মাসে ১০৭৮ মৃত্যু

আসাদ নূর, রাজশাহী: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ১৪ মাসে কভিড আক্রান্ত ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। ২০২০ সালের মে থেকে চলতি বছর জুন পর্যন্ত হাসপাতালের কভিড ইউনিটে এক হাজার ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে কভিড পজিটিভ হয়ে মারা গেছেন ৩৪৬ জন।

তবে বুধবার (৩০ জুন) সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত মৃত ২২ জন ও শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুতে সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ১১৭ জনে। সেই হিসাবে, কভিড পজিটিভ মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৩৬৩ জনে। আর বাকিদের কভিড উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে।

রামেক হাসপাতালের কভিড ওয়ার্ডে ভর্তির চিত্রে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তবে যে ১১০০ রোগীর মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে, তারা রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার মানুষ। জানা গেছে, ২০২০ সালের মার্চে কভিড-১৯ রোগী ছিল না রাজশাহীতে।

পরের মাস এপ্রিলে রামেক হাসপাতালে ভর্তি হন ২৫ জন রোগী। চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পান ২৩ জন। একই বছর মে মাসে ১৯৭ জন ভর্তি হন, হাসপাতালের ছাড়পত্র পান ১৮২ জন। এ মাসে কভিড উপসর্গ নিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। জুনে ৫২৪ জন ভর্তি হলেও ৪১৪ জন ছাড়পত্র পান।

এ মাসে কভিড উপসর্গ নিয়ে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়। জুলাইয়ে ৭৭৫ ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৭৫ জন। এ মাসে বছরের সর্বোচ্চ কভিড আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয় রামেক হাসপাতালে। হাসপাতালটিতে কভিড উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১১১ জনের।

এছাড়া আগস্টে ৭৫৪ জন ভর্তি হলেও চিকিৎসা শেষে ৬৭১ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ মাসে কভিড উপসর্গ নিয়ে ৯৭ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে পজিটিভ হয়ে মারা যান ২৬ জন। সেপ্টেম্বরে ৪০৩ ভর্তি হয়ে ছাড়পত্র পান ৩৭৪ জন কভিড রোগী। কভিড উপসর্গ নিয়ে ৫০ জনের মৃত্যু ছাড়াও পজিটিভ ছিলেন ১৩ জন।

অক্টোবরে ২৮৮ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে ছাড়া পেয়েছেন ২৯৪ জন। এ মাসে কভিড পজিটিভ হয়ে ছয়জনসহ উপসর্গ নিয়ে ২৮ জনের মৃত্যু হয়। নভেম্বরে কভিড আক্রান্ত হয়ে ২৭০ জন ভর্তি হয়ে ২২৭ জন ছাড়পত্র পেলেও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩১ জনের। এর মধ্যে কভিড পজিটিভ হয়ে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। একই বছর ডিসেম্বরে ৩০০ জন ভর্তি হন। ছাড়পাত্র পান ২৭০ জন। এ সময় উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় ৩৪ জনের। এর মধ্যে কভিড পজিটিভ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ১১ জন নারী ও পুরুষ।

আগের মাসের তুলনায় ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কমে যায় কভিড আক্রান্ত রোগী সংখ্যা। এ মাসে ২৩১ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে ২১১ জন বাড়ি ফেরেন। সে মাসে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৯ জনের। এর মধ্যে কভিড পজিটিভ ছিলেন চারজন। ফেব্রুয়ারিতে ২০১ জন ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৯৩ জন রোগী। উপসর্গ নিয়ে ১৭ জনের মৃত্যু হলেও এ মাসে মাত্র একজন কভিড পজিটিভ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মার্চে ভর্তি হয়েছিলেন ৩৩৪ জন কভিড রোগী। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৭২ জন। এ মাসে তিনজন কভিড পজিটিভ হয়ে মারা গেলেও উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৩১ জনের।

এপ্রিলে ৬৫৪ জন ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালটিতে। পুরো মাসে চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫২০ জন। এ মাসে উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৭৯ জনের। আর কভিড পজিটিভ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৬ জনের। মে মাসে ৮০৮ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬১৭ জন। উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ২২৮ জনের। এছাড়া কভিড পজিটিভ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫৩ জনের।

সর্বশেষ জুনে এক হাজার ৩৯৭ জন কভিড আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৮৫ জন। এ মাসে কভিড উপসর্গে মারা গেছেন ৪০৫ জন রোগী। আর কভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৮৯ জন নারী ও পুরুষের, যা কভিড উপসর্গ ও আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দিক থেকে সর্বোচ্চ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..