প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

রামেক হাসপাতালে রেডিওথেরাপি বন্ধ দেড় বছর

 

 

রাজশাহী প্রতিনিধি: দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের রেডিওথেরাপির কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের জন্য জরুরি এ সেবাটি বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা, বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়ও। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, মেশিনটি সারাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে কিন্তু ফল মেলেনি।

জানা গেছে, প্রতি মাসেই ক্যানসারের চিকিৎসা নিতে অর্ধশতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচজন রোগী আসেন হাসপাতালে। ক্যানসার আক্রান্ত প্রায় ৭০ শতাংশ রোগীকে নিতে হয় রেডিওথেরাপি। কিন্তু মেশিন বিকল থাকায় চিকিৎসাসেবা বন্ধ। বিশেষ করে ক্যানসার আক্রান্ত গরিব রোগীরা পড়েছেন বিপাকে। তাদের বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে মোটা খরচে থেরাপি নেওয়ার সামর্থ্য নেই। ফলে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, ঢাকার বাইরে শুধু রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজেই এমফিল ও এমডি-রেডিওথেরাপি (অনকোলজি) ডিগ্রি দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি প্রতিদিন এক থেকে দেড়শ’ রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয় এখানে। এ জন্য ১৯৯৬ সালে চীনের তৈরি কোবাল্ট-৬০ যন্ত্রটি স্থাপন করা হয়। তবে ক্যানসার চিকিৎসার সোর্স (যে উৎস থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির বিকিরণ ঘটে) আমদানি করা হয় রাশিয়া থেকে। প্রতি ৫ বছর পর পর সোর্স পরিবর্তন করার কথা। কিন্তু সর্বশেষ সোর্স স্থাপন করা হয় ২০০৪ সালে। নিয়মানুযায়ী ২০০৯ সালে সোর্স পরিবর্তনের কথা থাকলেও সেটি আর হয়ে ওঠেনি। মেশিনগুলোর খুচরা যন্ত্রাংশও মিলছে না। এতে দিন দিন কর্মক্ষমতা হারিয়ে এক পর্যায়ে বিকল হয়ে যায় মেশিনটি।

রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর রেডিওথেরাপি না থাকায় তাদের ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। রামেক হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নূরুল ইসলাম জানান, মেশিনটি প্রতি পাঁচ বছর দুই মাস পর সোর্স পরিবর্তন করতে হয়। মেশিনটি প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় নষ্ট। সোর্স পরিবর্তন করা হলে আবার চলবে। হাসপাতালে এর চিকিৎসা খরচ পড়ে মাত্র সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএফএম রফিকুল ইসলাম জানান, মেশিনটি সচল করতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে। তবে কবে নাগাদ এটি চালু হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।