সারা বাংলা

রায়পুর-পানপাড়া সড়ক বেহাল দুর্ভোগে দুই উপজেলাবাসী

জুনায়েদ আহম্মেদ, লক্ষ্মীপুর : দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর-পানপাড়া সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ৯০ ভাগ স্থানে কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিয়ত এ সড়কে ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রতিদিন এ সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন রায়পুর ও রামগঞ্জ উপজেলার হাজারো মানুষ। এদিকে ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় বর্তমানে সীমিত পরিসরে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এতে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারীরা।

জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সঙ্গে রামগঞ্জ উপজেলার যোগাযোগের প্রধান সড়ক এটি। দীর্ঘ ১০ বছর সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের এখন বেহাল দশা। এ দুই উপজেলার প্রধান সড়কটির অধিকাংশ স্থানের কার্পেটিংসহ ইট-খোয়া উঠে গেছে।  ফলে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। আর সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় পুরো সড়ক জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। রায়পুর উপজেলা হয়ে রামগঞ্জ উপজেলায় যাতায়াতকারী ছোট-বড় গাড়ির পাশাপাশি পণ্যবাহী গাড়িগুলোকে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। সড়কের বেহাল দশার কারণে সময় ও অর্থ বেশি লাগার পাশাপাশি অনেক সময় সড়কে বিকল হয়ে পড়ে যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি।

স্থানীয়রা জানান, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন রায়পুর উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জের হাজারো মানুষ রামগঞ্জ উপজেলায় যাতায়াত করেন। অথচ দীর্ঘ ১০ বছর ধরে রায়পুর-পানপাড়া-রামগঞ্জ সড়কের পানপাড়া অংশ পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। এখন এ সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় তাদের। এছাড়া সড়কটির পাশে রায়পুর সরকারি ডিগ্রি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও পড়তে হয় চরম বিপাকে।

এদিকে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী কয়েকজন চালক জানান, গাড়ি চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। তাছাড়া সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে যানবাহন। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গাড়ির মালিকরা। এতে মালিকরাও আগ্রহ হারাচ্ছেন এ রুটে গাড়ি চালানোয়।

সড়কটির সংস্কার কাজের টেন্ডারের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। এ অবস্থায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কার কাজ শুরু করতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

সড়কটির বেহাল দশার কথা স্বীকার করে লক্ষ্মীপুর এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম রশিদ আহম্মেদ জানান, অর্থাভাবে এত বছর সড়কটি সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। গত মে মাসে সাত কোটি ৫০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয়ে সড়কটির টেন্ডার হয়েছে। এশিয়া ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের কাছে অর্থ বরাদ্দও চাওয়া হয়েছে। তবে দরপত্র প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্বের কথা স্বীকার করে এ কর্মকর্তা আরও জানান, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হবে। সংস্কার হলে জনগণের ভোগান্তিও কমবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..