বাণিজ্য সংবাদ

রাশিয়া ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের চেষ্টা চলছে

সিআইএস-বিসিসিআই সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে বিশ্ববাণিজ্য প্রসারের জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) করার বিকল্প নেই। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে, এর তিন বছর পর এলডিসিভুক্ত দেশের বাণিজ্য সুবিধা আর থাকবে না। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রফতানি বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য নতুন বাজার খুঁজছে। রাশিয়াসহ সিআইএসভুক্ত দেশগুলো ও ব্রাজিলসহ মারকুজারভুক্ত দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রচুর চাহিদা আছে। এসব বাজারে তৈরি পোশাক রফতানি সম্ভব হলে বাংলাদেশের রফতানি আয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। উচ্চ শুল্কহারের কারণে বাংলাদেশ এসব দেশে পণ্য রফতানি করতে পাচ্ছে না। এফটিএ স্বাক্ষর করা সম্ভব হলে সেখানে বাণিজ্য বৃদ্ধি করা সম্ভব। সে লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ এফটিএ-এর মতো বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

গতকাল রাজধানী ঢাকায় একটি হোটেলে কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেনডেন্ট স্টেট-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিআইএস-বিসিসিআই) আয়োজিত ‘ফস্টারিং গ্লোবাল ফ্রি ট্রেড রিলেশনস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এসব দেশে রফতানি বাণিজ্য শুরু করার জন্য প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এর চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে, তা মোকাবিলা করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এসব দেশের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভুটানসহ বেশকিছু দেশের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষর করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ব্রাজিল বাংলাদেশের তৈরি পোশাক নিতে আগ্রহী, তবে তারা ব্রাজিলের গরুর মাংস বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই, আগে দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। আমাদের সরকারের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কারণেই আজ বাংলাদেশ গরুর মাংস আমদানির প্রয়োজন হচ্ছে না। একটি দেশের সঙ্গে এফটিএ করার আগে দেশের শিল্প ও স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। সবদিক বিবেচনা করে বিশ্ববাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দেশের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করা হয়। পণ্যের ওপর শুল্কারোপের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। যাতে এর ফলে বাণিজ্যের ওপর কোনো প্রভাব না পরে। দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য অন্যান্য খাতও খুঁজে বের করতে হবে। একটি ব্যালেন্সনীতি গ্রহণ করা সম্ভব হলে পণ্যের মূল্যের ওপর চাপ কমবে।

সিআইএস-বিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট মো. হাবিব উল্লাহ ডনের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিষয়ের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের উপদেষ্টা মঞ্জুর আহমেদ। সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি মো. নজিবুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) শরিফা খান, রাশিয়ান ফেডারেশনের ঢাকা অফিসের ফাস্ট সেক্রেটারি আনদ্রেই ই. বেনকায়েভ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদ, সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ টেরিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মজিবুর রহমান।

সর্বশেষ..