রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি নিয়ন্ত্রণে আশু পদক্ষেপ কাম্য

দেশের আর্থিক খাতে বড় ধরনের ক্ষত সৃষ্টি করেছে খেলাপি ঋণ। কোনোভাবেই খেলাপি ঋণের লাগাম টানা যাচ্ছে না। বিশেষ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের বৃদ্ধি এক ধরনের ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণে পুরো ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির চিত্র পাল্টে যাচ্ছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের হার কম থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে যেন পালে হাওয়া লাগার মতো পরিস্থিতি। কোনোভাবেই এ পরিস্থিতি চলতে দেয়া উচিত নয় বলে মনে করি। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের রাশ টানতে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করি।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি বৃদ্ধিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্বেগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে রীতিমতো সচেতন মহলের আক্কেল গুড়–ম হওয়ার জোগাড়। প্রতিবেদনেই উল্লেখ করা হয়েছে, জনতা ব্যাংকে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। এটি ব্যাংকটির বিতরণ করা মোট ঋণের ২৩ শতাংশেরও বেশি। কেবল এ ব্যাংকটিই নয়, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ ব্যাংক সোনালী ব্যাংকেও খেলাপি ঋণের পাহাড় জমেছে। ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকার ওপর। আরেক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংকে খেলাপির পরিমাণ সাত হাজার কোটি টাকার বেশি। আর রূপালী ব্যাংকে খেলাপির পরিমাণ তিন হাজার কোটি কাটার বেশি।

এ খেলাপি ঋণ হু হু করে বেড়ে চলেছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরও নজরে এসেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্ম ব্যক্তিরা নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এ নির্দেশ কতটা পরিপালন হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। কেননা, ইতোপূর্বে বহুবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এমন নির্দেশনা দেয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের তেমন উদ্যোগী হয়ে উঠতে দেখা যায়নি। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে চলমান দ্বৈত কর্তৃত্ব অনেকটা দায়ী বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মালিকানার দায়িত্ব পালন করে অর্থ মন্ত্রণালয়। ক্ষেত্রে বিশেষ মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রকের ভূমিকাও পালন করে থাকে। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা পরিপালনে এক ধরনের অনীহা পরিলক্ষিত হয় বৈকি। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়া আবশ্যক বলে মনে করি।

এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, যেসব ঋণখেলাপিতে পরিণত হয়েছে, তা প্রকৃতপক্ষে সাধারণ জনগণের আমানত। এ আমানতের সঠিক ও উপযুক্ত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। কিন্তু ব্যাংকগুলো সে দায়িত্ব পালনে কতটা সচেষ্ট সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে বৈকি। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার বিষয়ে সচেষ্ট হয়ে উঠবেন বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..