প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান শেয়ার অফলোড নিয়ে বৈঠক আগামী সপ্তাহে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিনিয়োগকারীদের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পুঁজিবাজারে মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ভালো শেয়ার জোগানের তালিকায় রাখা হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পুঁজিবাজারে আনা যায়, তা নিয়ে  আগামী সপ্তাহে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আগামী রোববার (১৬ জুলাই) পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি),  ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা উপস্থিত থাকবেন।

জানা গেছে, সর্বশেষ অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে রাষ্ট্রীয় মালিকানার বিভিন্ন কোম্পানিকে শেয়ার অফলোড সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রির বিষয়ে তারা প্রস্তুত রয়েছে কি-না তাও জানাতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে তিন শতাধিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১১টি বহুজাতিক কোম্পানি, যা বাজার মূলধনের মাত্র সাত শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে অন্যান্য বহুজাতিক কোম্পানি কোনো জবাবদিহি ছাড়াই ব্যবসা করছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে হলে কোম্পানিগুলোকে কিছু সুবিধা দিতে হবে তা না হলে তারা পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী হবে না। ফলে তাদের এসব সুবিধা দিয়েই  বাজারে আনা দরকার।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, ‘ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনার জন্য তাদের করপোরেট ট্যাক্সের সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। এ ট্যাক্স কম হলে অনেকেই বাজারের প্রতি আগ্রহী হবে। অন্যদিকে যেসব বহুজাতিক কোম্পানি পুঁজিবাজারের বাইরে থাকবে তাদের করপোরেট ট্যাক্স বাড়ানো উচিত। এতে তারা পুঁজিবাজারে আসতে বাধ্য হবে।’

এর আগে ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সরকারি ৩৪ কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১০ সালে বাজারে ভালো শেয়ারের  সংকট আরও তীব্র হয়। এরপর সংকট কাটাতে সরকারি কোম্পানিকে বাজারে আনার উদ্যোগ শুরু হয়। ২০১০ সালের ১৩ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অর্থ মন্ত্রণালয় এক বৈঠকে সরকারি কোম্পানির ৫১ শতাংশ শেয়ার সরকারের হাতে রেখে বাকি শেয়ার পাবলিকের মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সময় কোম্পানিগুলোকে ২০১০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেয়ার ছাড়তে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০১১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আরেকটি বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জানিয়ে কোম্পানিগুলোকে শেয়ার ছাড়ার তাগিদ দেওয়া হয়। কিন্তু পরে এর অগ্রগতি থেমে যায়।

এদিকে বহুজাতিক কোম্পানির বিষয়ে বিএসইসি ইতোমধ্যে তাদের পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। তাদের মতে যেসব বিদেশি  কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় তাদের নগদ লভ্যাংশের ওপর বর্ধিত করহার আরোপ করা যেতে পারে। বিদেশি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে ব্যবসা করার জন্য আরজেএসসি থেকে নিবন্ধন সনদ নিতে হয়। এ নিবন্ধনের সময় শর্তারোপ করে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তি করা যেতে পারে।