রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির শেয়ারের দর ঊর্ধ্বমুখী

লেনদেন ৬৫ কার্যদিবসে সর্বোচ্চ

মো. আসাদুজ্জামান নূর: উত্থানে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস পার করেছে দেশের শেয়ারবাজার। গতকাল মঙ্গলবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক একচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ৫৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। এতে সূচকটি আবারও সাত হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। লেনদেন দুই হাজার কোটি টাকা না ছাড়ালেও ৬৫ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের একপর্যায়ে ১২ প্রতিষ্ঠান বিক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। এসব কোম্পানির মধ্যে আবার অর্ধেকই রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির প্রতিষ্ঠান। সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ছয়টি শেয়ারের মধ্যে পাঁচটিই রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির। এর মধ্যে সব শেয়ারের দরই বেড়েছে।

পরপর দুই দিন রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির শেয়ারে জোয়ার দেখা গেছে। বাংলাদেশে শিপিং করপোরেশন দিয়ে শুরু এ যাত্রা। সেটি গত ২৩ ডিসেম্বরের ঘটনা। এ সময়ে শেয়ারদর বেড়ে হয়েছে চারগুণ। এ অভিজ্ঞতার পর বিভিন্ন খাতের অন্যান্য কোম্পানিতেও দেখা যাচ্ছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা।

মঙ্গলবার পুঁজিবাজারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সাতটি কোম্পানির মধ্যে ছয়টি, প্রকৌশল খাতের চারটি কোম্পানির সবগুলোর, খাদ্য ও বিবিধ খাতের দুটি কোম্পানির সবগুলোর এবং ব্যাংক খাতের একমাত্র কোম্পানির দর বেড়েছে। টেলিকমিউনিকেশন খাতের একমাত্র কোম্পানি বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্?ল কোম্পানির শেয়ারদর অবশ্য কিছুটা কমতে দেখা গেছে।

মঙ্গলবার একটুর জন্য দুই হাজার কোটি টাকা না ছাড়ালেও লেনদেন হয়েছে গত ৬৫ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৯৭৬ কোটি ৬৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। এর চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিল ৬৬ কর্মদিবস আগে গত ৭ অক্টোবর। সেদিন লেনদেন ছিল দুই হাজার ৪৯৭ কোটি ২০ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

লেনদেনে সবচেয়ে বেশি ১৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ অবদান রেখেছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ অবদান রাখে প্রকৌশল খাত। এছাড়া আর কোনো খাতের লেনদেন ১০ শতাংশ ছাড়ায়নি। তবে তালিকায় পরের স্থানে থাকা খাতগুলোর অবদান যথাক্রমে বিবিধ ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন আট দশমিক ৯৯ শতাংশ, জীবন বিমা সাত দশমিক ৪১ শতাংশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান সাত দশমিক শূন্য সাত শতাংশ, ব্যাংক ছয় দশমিক ৬৩ শতাংশ ও বস্ত্র খাত লেনদেনে ছয় দশমিক ৬০ শতাংশ অবদান রাখে। এছাড়া আর কোনো খাতের লেনদেন পাঁচ শতাংশ ছাড়ায়নি।

টানা প্রায় চার মাসের সংশোধন কাটিয়ে পুঁজিবাজারে চাঙা ভাব ফেরার ইঙ্গিত বছরের শুরুতেই ছিল। এর পর থেকে দিন যত গড়িয়েছে, বিনিয়োগকারীদের মনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব কেটে গেছে। তারা ক্রমেই সক্রিয় হতে থাকায় লেনদেনও পাচ্ছে গতি। গতকাল দিন শেষে বেড়েছে ১৮৯টি কোম্পানির শেয়ারদর, কমেছে ১৪৬টির। অপরিবর্তিত ছিল ৪৩টির দর। এর প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান ৩৬ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

টানা ছয় কর্মদিবস বৃদ্ধির পর এক দিন সূচক পতনের পর ডিএসইর সূচক আবার বাড়ল টানা দুই দিন। রোববারের হোঁচটে যতটা কমেছিল, সোমবার বেড়েছিল তার চেয়ে বেশি। সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবসে প্রধানত রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের কোম্পানির ওপর ভর করে সূচক বাড়ল আরও ৫০ পয়েন্টের বেশি। দিন শেষে ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে সাত হাজার ৪৯ দশমিক ১৫ পয়েন্ট, যা গত ২১ নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। সেদিন সূচক ছিল সাত হাজার ৮৫ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট। অবশ্য দিনের একপর্যায়ে ২১ নভেম্বরের সেই অবস্থানকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল সূচক। বেলা ১টা ৩ মিনিটে সূচক ছিল সাত হাজার ৯৮ দশমিক ২৩ পয়েন্ট। তবে শেষ দেড় ঘণ্টায় কিছুটা কমে সেখান থেকে।

প্রধান সূচকের সঙ্গে বেড়েছে অপর দুটিও। শরিয়াহ্ভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস গতকাল ১৫ পয়েন্ট বেড়েছে। আর বাছাই করা কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ বেড়েছে ২০ পয়েন্ট।

সূচক বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকায় ছিল স্কয়ার ফার্মা। কোম্পানিটির শেয়ারদর দুই দশমিক ৪৯ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ছয় দশমিক ৯৪ পয়েন্ট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছয় দশমিক ৬৫ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে গ্রামীণফোন। কোম্পানিটির দর বেড়েছে শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ। তিতাস গ্যাস, ইউনাইটেড পাওয়ার, আরএকে সিরামিকস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, ডেসকো, এসআইবিএল, বার্জার পেইন্টস ও বেক্সিমকো ফার্মাও সূচকে ভালো পয়েন্ট যোগ করেছে। সব মিলিয়ে এ ১০ কোম্পানিই সূচকে যোগ করেছে ৩৭ দশমিক ৪১ পয়েন্ট।

বিপরীতে বিকন ফার্মা, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, লাফার্জহোলসিম সিমেন্ট, ওয়ালটন, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গ্রিনডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, ফরচুন সুজ, সামিট পাওয়ার, এনআরবিসি ও শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি সূচক কিছুটা কমেছে। সব মিলিয়ে এ ১০ কোম্পানির কারণে সূচক কমেছে আট দশমিক ২৭ পয়েন্ট।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯১২২২  জন  

সর্বশেষ..