দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে আর মূলধন জোগানো নয়: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংককে আর কখনও মূলধন জোগানো হবে না বলে ব্যাংকগুলোর বর্তমান পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘জনগণের করে টাকাই এই ব্যাংকগুলো চলছে। সেই জনগণকে তারা কিছু দেবে না তা তো হয় না। এখন থেকে এই ব্যাংকগুলোকে মুনাফা করেই তাদের বেতনের টাকা জোগাড় করতে হবে।’
গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। মূলত এই ব্যাংকগুলোর নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্যই ওই আলোচনা সভা ডাকা হয়। সভা শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান ব্যবস্থপনা কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের প্রত্যাশা এই ব্যাংকগুলোতে আর খেলাপি ঋণ বাড়বে না। বছরে মুনাফায় সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি থাকতে হবে ১৫ শতাংশ।
তিনি আরও বলেন, ‘নতুন নেতৃত্বে যারা এসেছেন তারা অত্যন্ত পারদর্শী। তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে, বিশ্ব পরিমণ্ডলে যে ধরনের ব্যাংকিং হচ্ছে সেটা দেখে তারা যদি এই ব্যাংকগুলো পরিচালনা করেন তাহলে আমরা ভালো কিছু পাব। এই ব্যাংকগুলো আগামী দিনগুলোতে কী কী করবে সে বিষয়ে আমরা একটি কর্মপরিকল্পনা চেয়েছি। আগামী সাতদিনের মধ্যে ব্যাংকগুলো এই কর্মপরিকল্পনা আমাদের জানাবে। এরও এক সপ্তাহ পর আমরা আবার বসব। ওই কর্মপরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে আমরা বিবেচনা করব তাদের মূলধন কতটা জোগান দেওয়া যায় কি যায় না।’
মুস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘আমাদের এই চারটি ব্যাংকের অবস্থান অনেক বড়। আমানতের ২৬ শতাংশ এবং ঋণের ১৬ শতাংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে। তারা চাইলেই সার্বিকভাবে আমাদের ব্যাংক খাতকে বেগবান রাখতে পারে।’
দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমে আসতে আরও কিছু সময় লাগবে বলেও মন্তব্য করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সহজ শর্তে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন পরিশোধের (এক্সিট প্ল্যান) সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা ঋণগুলো নিয়মিত করতে সক্ষম হলে খেলাপি ঋণ অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এখানে নন-পারফর্মিং লোন (খেলাপি ঋণ) এখনই কমার সুযোগ নেই। কারণ নন-পারফর্মিং লোন কমানোর জন্য যে এক্সিট প্ল্যান দিয়েছিলাম, সেটা এখনও কার্যকর করতে পারিনি।’
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাপি ঋণ বাড়ছেÑএটা আমি মানব না। যেদিন আমি বলেছিলাম খেলাপি ঋণ বাড়বে না, সেদিনই আমি বলেছিলাম একটা এক্সিট প্ল্যান রাখব। সেই এক্সিট প্ল্যান কার্যকর হলে তখন বলা যাবে, (খেলাপি ঋণ) বেড়েছে কি বাড়েনি।’
খেলাপি ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সুবিধার সার্কুলার কার্যকরের ওপর আদালতের স্থিতাবস্থার কারণে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে সময় লাগছেÑএমন ইঙ্গিত দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা তো এখন টাকাই দিচ্ছে না। এমন কি যারা দিত, তারাও এখন দিচ্ছে না। তারা এ সুযোগ নেবে, তারা তো ব্যবসায়ী।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তাড়াতাড়ি এর সুরাহা করব। সুরাহা করলে আমাদের অবস্থা আপনারাই মূল্যায়ন করতে পারবেন। আপনারা খুশি হবেন। তখন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের চিত্রই বদলে যাবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত দেশের ব্যাংক খাতের বিতরণ করা ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। মার্চ প্রান্তিকে এই হার ছিল ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
অর্থমন্ত্রী জানান, ‘বর্তমানে ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট নেই। এই মুহূর্তে ব্যাংক খাতে ৯২ হাজার কোটি টাকা তরল সম্পদ রয়েছে। ব্যাংকগুলো এই তারল্যকে অর্থায়নের কাজে লাগাতে পারে।’
সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে রফতানি কমে যাওয়ার আশঙ্কাকে নাকচ করে দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামীতে রফতানি কমার কোনো কারণ নেই। এর আগে দুবার বিশ্বে বড় বড় অর্থনৈতিক মন্দা ঘটে গেছে। আমাদের ব্যাংক খাত বা পুঁজিবাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে বিশ্বের কোনো কোনো দেশে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বড় বড় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমাদের রফতানির প্রধান খাত তৈরি পোশাক খাতে মূলত মাঝারি ও ছোট আকারের। যে কারণে আমাদের রফতানি কমে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

সর্বশেষ..