প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

রাষ্ট্রীয় খরচে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর বন্ধ হোক

দেশ থেকে অর্থ পাচার প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। অর্থ পাচার প্রতিরোধ সহজ বিষয় নয়। পাচারকারীরা একেক দেশে একেক কৌশল নেন। তাই পাচার প্রতিরোধে যারা কাজ করেন,  তাদের সে বিষয়ে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে বিদেশ যেতে হয়। রাষ্ট্রীয় কাজে বিদেশ যাবেন, রাষ্ট্রকেই ব্যয় সংকুলান করতে হবে। এ নিয়ে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের ব্যবস্থা করা হলেও তা থেকে অর্জন নেই!

বর্তমানে কৃচ্ছ্রসাধন ও আর্থিক সাশ্রয়ে সরকার বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। গতকাল শেয়ার বিজের প্রধান প্রতিবেদন ছিল সংস্থাটির কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ সফর নিয়ে। জানা যায়, অর্থ পাচার রোধে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য বিএফআইইউ’র কর্মকর্তা কামাল হোসেন ৩৫ বারের বেশি বিদেশ সফর করেছেন। এছাড়া আবদুর রব ও মাসুদ রানা যথাক্রমে ২৩ বার ও ২১ বার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। এর বেশিরভাগের ব্যয়ভার বহন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিদেশ ভ্রমণকারী কর্মকর্তারা ‘অর্জিত’ জ্ঞান-অভিজ্ঞতা দিয়ে এখন পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারেননি, দেশ থেকে কী পরিমাণ অর্থ পাচার হয়। বিষয়টি তারা স্বীকারও করেছেন।

বিএফআইইউ কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চাউর আছেÑসংস্থাটির কর্মকর্তারা এত বেশিবার বিদেশ যান যে, একটি সফর থেকে ফিরে এসে আরেক সফরে যাওয়ার মধ্যে খুবই কম সময় পান। এ জন্য নাকি বিমানবন্দরে একটি লাগেজ রেডি থাকে, যাতে এক সফর থেকে ফিরেই আরেক সফরে যেতে সহজে ফ্লাইট ধরতে পারেন। কৌতুকের মতো শোনালেও এটিই বাস্তবতা।

বিএফআইইউ কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের আধিক্য নিয়ে আমাদের বিরূপ মন্তব্য নেই। কিন্তু যেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশ ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে, সেখানে সংস্থাটির সংযত হওয়া উচিত। এর আগে সরকারি খরচে অন্য সংস্থার ব্যয়বহুল ভ্রমণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তুচ্ছ কারণে সরকারি খরচে বিদেশে ভ্রমণের দৃষ্টান্ত এটিই প্রথম নয়। রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ করে ঢালাও বিদেশ ভ্রমণ ঠেকাতে একজন সরকারি কর্মকর্তা কতবার বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন, তা বেঁধে দেয়া আছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরে তারা কোনো প্রতিবেদনও জমা দেন না। ফলে জানা যায় না, রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশ গিয়ে কী জ্ঞান-প্রশিক্ষণ অর্জিত হয়েছে। আমরা জানি না,  বিএফআইইউ’র যে কর্মকর্তারা ৩৫, ২৩, ২১ বার রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশ ভ্রমণ করেছেন, তারা কোনো প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন কি না। এসব কর্মকর্তা অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের নামে বারবার বিদেশ সফর করলেও তা অর্থ পাচার রোধে তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি বলেই প্রতীয়মান হয়েছে সংস্থাটির প্রধান কর্মকর্তার বক্তব্যে। প্রধান কর্মকর্তা সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে জানান, দেশ থেকে অর্থ পাচার হলেও তা ফেরানো সম্ভব নয়। এমনকি দেশ থেকে প্রতি বছর কী পরিমাণ অর্থ পাচার হচ্ছে, সে বিষয়েও তাদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। ফলে বলা যায়, তারা রাষ্ট্রীয় খরচে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর করেছেন। এ প্রবণতা থেকে তারা স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে বেরিয়ে আসবেন বলেই প্রত্যাশা।