সম্পাদকীয়

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান লাভজনক করতে উদ্যোগ নিন

সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর লোকসান দিয়ে যাচ্ছে, কিংবা উৎপাদন কমছেÑএমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। রাষ্ট্র পরিচালিত বাস, ট্রেন, মোবাইল ফোন প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান ক্রমাগত লোকসান দিতে দিতে ধুঁকছে। অন্যদিকে রমরমা ব্যবসায় ফুলেফেঁপে উঠছে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার প্রতিষ্ঠানগুলো। 

অব্যবস্থাপনায় ধুঁকতে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস ব্লেন্ডার্স লিমিটেড (ইএলবিএল)। প্রতি বছর কমছে এর উৎপাদন ও বাজার অংশীদারিত্ব। গতকাল শেয়ার বিজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২২ বছরে ইএলবিএলের উৎপাদন কমেছে ৯৪ শতাংশ। অথচ একই সময়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজার অংশীদারিত্ব বেড়েছে ৬০ শতাংশের বেশি। জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ইএলবিএলের উৎপাদন ছিল এক হাজার ৩৬২ টন। যদিও কোম্পানিটির উৎপাদন সক্ষমতা ২৪ হাজার টন। অথচ ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির ব্লেন্ডিংয়ের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৮৭৮ টন।

লক্ষণীয়, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন সক্ষমতার এক ক্ষুদ্র অংশই ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালন ব্যয় ও কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতার সংস্থান করাই দুঃসাধ্য। অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে, ভর্তুকি ছাড়া এটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।   

বাজার উদারীকরণের মাধ্যমে ন্যূনতম মানদণ্ড বজায় রাখতে ২০০১ সালে নন-অ্যাডিটিভ লুব্রিক্যান্টের আমদানি নিষিদ্ধ করে সরকার। এরপর বহুজাতিক কোম্পানিসহ লুব্রিক্যান্টের ৫০টির বেশি ব্র্যান্ড দেশের বাজারে আসে। সেগুলোর দাপটে ক্রমেই বাজারে অংশীদারিত্ব কমেছে ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টসের। কর্মকর্তাদের দাবি, প্ল্যান্ট আধুনিকায়ন না করা এবং বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কমেছে। বেসরকারি খাতকে যতই উৎসাহিত করা হোক, আমাদের দেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোই বেশি আনুকূল্য পায়। তা সত্ত্বেও সেগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়া দুঃখজনক। অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠানই বছরের পর বছর লোকসান দিতে পারে না বলেই আমরা মনে করি। জনগণের টাকায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠান বছরের পর প্রতিষ্ঠান লোকসান দিয়েই যাবে, আবার দায়দেনা পরিশোধও করা হবে জনগণেরর টাকায় তথা রাষ্ট্রের ভর্তুকিতে এটি কোনো সমাধান নয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়-অপব্যবহার চলতেই থাকবে। এর প্রতিকারে রাষ্ট্রায়ত্ত লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদের প্রত্যেক সদস্যকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। উৎপাদন কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা ও লোকসানের কার্যকারণ বের করতে হবে। সাধারণ মানুষের বিশ্বাসÑচুরি, অনিয়ম-দুর্নীতি প্রভৃতি থেকে মুক্ত করা গেলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত সংস্থাও লাভজনক হবে। আমরাও মনে করি, সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে তা সম্ভব।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..