রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারে চাই মিতব্যয়িতা

মোছা.সাবিহা আক্তার লাকী: রাষ্ট্রীয় সম্পদ বলতে আমরা সচরাচর যেটা বুঝি, তা হলো সরকার কর্তৃক সরাসরি নিয়ন্ত্রিত এবং মালিকানাধীন সম্পদ; যেমন বিভিন্ন সরকারি অফিস, রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ, নদী, খাল, জলাশয়, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কোর্ট-কাচারিসহ এ ধরনের প্রতিষ্ঠান ও তাদের স্থাপনা। আসলে একটি দেশের সব নাগরিকের ব্যক্তিগত সম্পদ ও সমষ্টিগত সম্পদের সবই একত্রে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বা জাতীয় সম্পদ। দরিদ্রের জীর্ণ কুটির থেকে শুরু করে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ সব প্রাকৃতিক সম্পদই রাষ্ট্রীয় সম্পদ।  সব রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করার অধিকার রাষ্ট্রের সব মানুষের রয়েছে। রাষ্ট্র সমাজ ও মানুষের কল্যাণে তার সব সম্পদ ব্যবহার করে বলে রাষ্ট্রীয় সব সম্পদকে জনসম্পদও বলা হয়।

বাংলাদেশ একটি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় দেশ। আমরা ২০১৫ সালে নি¤œ আয়ের দেশ থেকে নিন্ম-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি। ২০১৮ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো এবং ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ করেছে জাতিসংঘ। চলতি ২০২১ সালে এক দফা পর্যবেক্ষণের পর ২০২৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাবে বাংলাদেশ।  অর্থনৈতিকভাবে একটি দ্রুত বর্ধনশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যে বার্ষিক সাত দশমিক পাঁচ থেকে আট শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও প্রয়োজন হবে। তাই সম্পদের সঠিক ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ মানুষের আচরণ পরিবর্তন। দেশ ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়ন রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন ও তার যথাযথ ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে। ‘স্বাস্থ্যকর ও টেকসই জীবন কাটাতে অবশ্যই আমাদের ভোগের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে। একটি সুন্দর ও মানসম্মত দেশ তৈরিতে প্রত্যেককে খাদ্য, পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো প্রয়োজনীয় জাতীয় সম্পদ ব্যবহারে দায়িত্বশীল হতে হবে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য এটি অত্যাকশ্যকীয়।

রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রাষ্ট্র যেমন নাগরিক হিসেবে আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়, তেমনি নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব রাষ্ট্রের সম্পদের সুরক্ষা করা। দেশের প্রচলিত বিভিন্ন আইন রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টকারীদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করেছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের অনিষ্ট বা ক্ষতি করলে পেতে হবে কঠিন শাস্তি।

দণ্ডবিধির ৪৩১ থেকে ৪৩৮ পর্যন্ত ধারাগুলোয় রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টকারীদের শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি কোনো সরকারি সড়ক, সেতু, নদী ও খালের এমনভাবে কোনো অনিষ্ট করে, যার ফলে যোগযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়, ভ্রমণ কিংবা পারাপারের জন্য তা কম নিরাপদ হয় বা হতে পারে, তাহলে তা রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টের অপরাধ। এ অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তি পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম জেলসহ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। ১০ টাকার ঊর্ধ্বে কোনো কৃষিসম্পদ কিংবা ১০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যমানের কোনো সম্পদ আগুন বা বিস্ফোরক দ্রব্য দিয়ে নষ্ট করলে সাত বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। কোনো উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত কিংবা মানুষের বসবাসের জন্য ব্যবহৃত কোনো ঘর আগুন বা বিস্ফোরক দ্রব্য দিয়ে জ্বালিয়ে অনিষ্ট সাধন করলে দায়ী ব্যক্তিকে ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।

সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী সরকার বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিনষ্ট বা ভাঙচুর করাও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন বা বিনষ্টের অপরাধ। এ আইন অনুযায়ী যেকোনো আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ করলে অপরাধীকে সর্বনিন্ম দুই বছর এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। এ ছাড়া কোনো সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা কোনো ব্যক্তির আর্থিক ক্ষতি করলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণও দায়ী ব্যক্তির কাছ থেকে আদায় করার বিধান আছে। কোনো ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ করতে সহায়তা করলেও দায়ী ব্যক্তি যে শাস্তি ভোগ করবে, সহায়তাকারীকেও সে শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ অপরাধের বিচার হবে দ্রুত বিচার আদালতে।

‘বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ অপচয় করলে বা বিদ্যুতের সরবরাহ ঘুরিয়ে দিলে, অথবা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে কোনো বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন কেটে দিলে বা ক্ষতিগ্রস্ত করলে, তা হবে অপরাধ এবং সেজন্য তিনি অন্যূন এক বছর এবং অনধিক তিন বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। কোনো ব্যক্তি বাসগৃহ বা কোনো স্থানে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ চুরি করলে অনধিক তিন বছর কারাদণ্ড অথবা চুরিকৃত বিদ্যুতের মূল্যের দ্বিগুণ অথবা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। একইভাবে কোনো ব্যক্তি শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ চুরি করলে অনধিক তিন বছর কারাদণ্ড অথবা চুরিকৃত বিদ্যুতের মূল্যের দ্বিগুণ অথবা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

রাষ্ট্রীয় সম্পদ রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি পবিত্র আমানত। প্রত্যেক নাগরিকের এ আমানত রক্ষা করা মৌলিক দায়িত্ব। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় করা হবে। পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা খুবই অসচেতন। বাসা-বাড়িতে অনেক সময় আমরা নিজেরা অথবা বুয়ারা কাজ করলে দেখা যায় সাপ্লাই কলটা ছেড়ে রেখে থালাবাটি মাজতে থাকে! এদিকে বিনা প্রয়োজনে কল থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে তো পড়ছেই, কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই সেদিকে। এই অনুচিত কাজটি অবলীলায় অনেক শিক্ষিত মানুষকেও করতে দেখা যায়। একইভাবে গ্যাস আমাদের অন্যতম জাতীয় সম্পদ। অথচ বাসাবাড়িতে অনেক সময় কাপড় শুকানোর জন্য অথবা একটি দিয়াশলাইয়ের কাঠি বাঁচাতে অনেকেই চুলা জ্বালিয়েই রাখেন। চুলা জ্বালানো থাকা মানেই গ্যাসের অপচয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন যানবাহনে বিনা প্রয়োজনে ইঞ্জিন চালু রাখা হয়। এর ফলে জ্বালানি তেল বা গ্যাসের অপচয় হয়। রাস্তাঘাটে বিভিন্ন বাতি অন্ধকার হওয়ার আগেই জ্বালানো হয়, আবার দিনের আলো ফোটার অনেক পরে তা বন্ধ করা হয়। এ দেশ আমাদের সবার। এ দেশের উন্নয়নের স্বার্থে আমাদেরই এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে, অপচয় রোধ করতে হবে। এই সচেতনতা ও মিতব্যয়িতা তৈরি হতে হবে রাষ্ট্রীয় এবং ব্যক্তিগত উভয় পর্যায়েই। অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদের অপচয় হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তির মাধ্যমে সম্পদ বিনষ্টের এ কাজগুলো হয়ে থাকে। অথচ সব কাজের বিল কিন্তু সরকারি কোষাগার থেকেই দেয়া হয়। সম্পদ বিনষ্টের ফলে অনেক টাকা চলে যায় সরকারি কোষাগার থেকে।

পাশাপাশি হরতাল, অবরোধ, ধর্মঘটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতায় রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হতে দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধনকৃত অলাভজনক স্বাধীন সংগঠন আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্টের (এসিএলইডি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রাজনৈতিক সহিংসতার তুলনামূলক তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, শুধু বাংলাদেশেই রাজনৈতিক বৈরিতা ও বিরোধে সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর রয়েছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার অবস্থান। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) মতে, বাংলাদেশে এক দিনে হরতালে ক্ষতি প্রায় ২০ কোটি ডলার বা এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের এ ধরনের ক্ষতি রোধে রাজনৈতিক সহিংসতাসহ সব সহিংসতা পরিত্যাজ্য। আর তার জন্য বৃদ্ধি করা প্রয়োজন সামাজিক সম্প্রীতি, আর এ দায়িত্বটা পরিবার, বিদ্যালয় ও রাষ্ট্র সবার। তবে এক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করে পরিবার, বিশেষ করে মা। আমাদের তরুণসমাজ অনেক সম্ভাবনাময়, তারাই হতে পারে জাতীয় সম্পদ রক্ষার মূল হাতিয়ার। তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিতে মাই পারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেÑসন্তানের ইচ্ছা, স্বপ্ন, চিন্তা ও মতামত জানতে এবং ইতিবাচকভাবে তাদের পরিচালিত করতে। তাই পরিবর্তন আনতে হবে প্যারেন্টিংয়ের ধরনে। তরুণদের গড়ে তুলতে হবে সামাজিক সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে, যাতে তারা উগ্রবাদের দিকে না যায়। অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা শেখাতে হবে, যাতে সবার বিশ্বাস ও মত মেনে নেয়ার মানসিকতা থাকে তাদেরÑতবেই তা সহিংসতা প্রতিরোধ করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সহিংসতা প্রতিরোধ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারে। পাঠ্যবইয়ে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ, নৈতিক মূল্যবোধ ও সহনশীলতা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপের পাশাপাশি বিনোদনের মাধ্যমে শ্রেণিতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংরক্ষণের ওপর পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে।

আমাদের নগরায়ণ ব্যবস্থা এমন, যা আমাদের পরিবেশকে ক্রমাগতভাবে দূষিত করছে এবং বাড়িয়ে চলেছে আমাদের অপচয়ের মাত্রা। আমাদের ভবনগুলো যেভাবে তৈরি হচ্ছে, সেখানে প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ পরিকল্পনায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই এ অবস্থার পরিবর্তন আনা সম্ভব। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে বাড়ছে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল, ফলে বাড়ছে যানজট এবং সেইসঙ্গে বাড়ছে জীবাশ্ম জ্বালানি। এতে করে বাড়ছে নগরে উষ্ণতা ও দূষণ এবং অপচয় হচ্ছে মূল্যবান কর্মঘণ্টার। উপযোগী ও পর্যাপ্ত পাবলিক ট্রান্সপোর্ট চালুসহ পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।

আমাদের গ্রামগুলোকে প্রাধান্য না দিয়ে শুধু শহরকেন্দ্রিক করা হচ্ছে। ফলে ভাগ্যের অন্বেষণে মানুষ ঢাকামুখী হয়ে পড়ছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ধারণ করতে গিয়ে ঢাকাকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সম্পদের অপচয় বেশি হচ্ছে। সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গ্রামের তুলনায় নগরের তাপমাত্রা আট ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। তবুও আমরা ঢাকাকে বিকেন্দ্রীকরণের কোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছি না সে অর্থে। ২০১৪ সালের হিসাবে ৫৪ শতাংশ বিশ্ব জনসংখ্যা নগরের বাসিন্দা এবং ২০৫০ সাল নাগাদ তা দাঁড়াবে ৬৬ শতাংশে। এ অবস্থায় আমাদের এখন সুষ্ঠু নগরায়ণের ব্যবস্থা গড়ে তোলায় জোর দেয়া প্রয়োজন।

পাশাপাশি অপচয় রোধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন প্রচার এবং সম্পদের অপচয় রোধে জরিমানা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা সরকার সাধারণভাবে করতে পারে। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে, অপচয় রোধে হতে হবে মিতব্যয়ী। রান্নাবান্নার কাজ ছাড়া বাসাবাড়িতে গ্যাসের চুলা বন্ধ রাখতে হবে। ঘর ত্যাগ করার আগে বাতি, ফ্যান ও এসি বন্ধ রাখতে হবে। পুরোনো লাইট বদলে এনার্জি-সেভার বাল্বের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যা ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারে। ঘরের জানালা খুলে পর্দা সরিয়ে দিনের আলোয় কাজ করার অভ্যাস করতে হবে। রাস্তাঘাটের বিভিন্ন বাতি ঠিক সময়ে চালু আর বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজন শেষে পানির কল বন্ধ রাখতে হবে, কলের মুখে পানি সেভিং নেট ব্যবহার করা এবং বৃষ্টির পানিকে সংরক্ষণ করে পরে তা ব্যবহার করে পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। যানবাহনে বিনা প্রয়োজনে ইঞ্জিন বন্ধ রাখতে হবে।

আমাদের উন্নয়নের ধারা ও সম্পদ ব্যবহারের মাত্রায় যদি পরিবর্তন না আনি, তাহলে আমাদের সীমিত সম্পদ দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাবে। আমাদের দেশের সম্পদ অপচয় রোধে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। এর ফলে আমাদের জাতীয় সম্পদের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।

পিআইডি নিবন্ধন

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯১  জন  

সর্বশেষ..