Print Date & Time : 26 May 2020 Tuesday 12:56 pm

রাসায়নিক গুদাম স্থানান্তর উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করুন

প্রকাশ: মার্চ ১৬, ২০২০ সময়- ১২:৫৪ এএম

বিভিন্ন সময়ে রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থের অগ্নিদুর্ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি অনেকে আহত হন। বিপুল সম্পদও নষ্ট হয়। প্রাণহানির নিরিখেই সাধারণত দুর্ঘটনার খবর বেশি স্মৃতিপটে জাগরূক থাকে। এ বিবেচনায় সবচেয়ে হƒদয়বিদারক ঘটনা ২০১০ সালে পুরান ঢাকার নিমতলীতে রাসায়নিক পদার্থের অগ্নিদুর্ঘটনা। এতে মারা যান ১২৪ জন। গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে একই এলাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ৬৯ জন।

সূত্রপাত নিয়ে মতানৈক্য থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আগুনের ব্যাপ্তি ঘটেছে রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থের কারণে। প্রতিবারই কোনো বড় দুর্ঘটনার পরই টনক নড়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের। দুর্ঘটনার পর বলা হয়ে থাকে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্র্থের সব গুদাম সরিয়ে নেওয়া হবে। দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নানা কর্মসূচি ও পদক্ষেপ কয়েক মাস পর ঝিমিয়ে পড়ে। আবার দুর্ঘটনার পর নতুন করে সচেতন হই আমরা। এ নিয়ে অনেকের দুঃখবোধ হলো, সাধারণ মানুষের জীবনের দাম নেই।

নিমতলীর বিয়োগান্তক ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটি ১৭ দফা সুপারিশ করেছিল। ওই সময় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও ছিল, পরিকল্পিতভাবে কেমিক্যাল শিল্প জোন করে পুরান ঢাকা থেকে সব কেমিক্যাল গোডাউন সরিয়ে নিতে হবে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ কিংবা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কোনোটিই বাস্তবায়ন হয়নি। এর মাশুলও দিতে হয়েছে, পরবর্তী সময়ে বড় অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

গতকাল শেয়ার বিজের প্রকাশিত খবর হলো গাজীপুরের টঙ্গী উপজেলার কাঁঠালদিয়ায় নতুন অস্থায়ী রাসায়নিক গুদাম নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে জানানো হয়, পুরান ঢাকার রাসায়নিক গুদামগুলো নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের লক্ষ্যে স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ঢাকার শ্যামপুরে নতুন গোডাউনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। কাঁঠালদিয়ায় দ্বিতীয় গুদামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। পরে স্থায়ীভাবে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে রাসায়নিক গুদামগুলো স্থানান্তরে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

নতুন গুদামে অগ্নিনির্বাপণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঝুঁকিমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব গুদাম নির্মাণ নিঃসন্দেহে ভালো খবর। এগুলোর নির্মাণ শেষ হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুরান ঢাকা কিংবা রাজধানীর আবাসিক এলাকা থেকে গুদাম বা কারখানা সরিয়ে নিতে হবে। গুদাম মানুষকে নিরাপত্তা দেবে না। মানুষের সচেতনতা বোধ এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা, কেমিক্যাল মালিকদের সংগঠন, কারখানা ও স্থাপনা অধিদপ্তর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিÑপ্রত্যেককে নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।

রাসায়নিক দ্রব্যের মজুত, বাজারজাতকরণ এবং বিক্রির জন্য লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে তদারকি প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে।