বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে ৪৫ শতাংশ অবচয় সুবিধার দাবি

বারভিডার বাজেট প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বারভিডা রিকন্ডিশন্ড মোটরযান আমদানির ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ অবচয় সুবিধা এবং বছরভিত্তিক অবচয় সুবিধা চালু করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। একই সঙ্গে ঘোষিত বাজেট দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও গতিসঞ্চার, স্থানীয় শিল্প সুরক্ষা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে উজ্জীবিত রাখতে যেসব সহায়তা প্রস্তাব করা হয়েছে সে বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি।

গতকাল বারভিডা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম এ আহ্বান জানান। সংগঠনের সভাপতি আবদুল হক সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন। সংগঠনের সহসভাপতি মোহা. সাইফুল ইসলাম (সম্রাট) ও মো. জসিম উদ্দিন মিন্টু, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আনিছুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফরিদ আহমেদ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য আবু হোসেন ভূঁইয়া (রানু), মো. জিয়াউল ইসলাম, মো. ইউনূছ আলী, মো. আসলাম সেরনিয়াবাত ও ডা. মো. আনিসুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে মাইক্রোবাস ও হাইব্রিড কার ও জিপ (১৮০১ সিসি থেকে ২৫০০ সিসি পর্যন্ত) আমদানিতে শুল্ক পুনর্বিন্যাস ও হ্রাস করায় বারভিডা প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। বারভিডার প্রস্তাবকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নসিমন, লেগুনা প্রভৃতি অনিরাপদ যান চলাচল নিরুৎসাহিত করে গণপরিবহন হিসেবে মাইক্রোবাসকে স্বীকৃতি দেয়ায় বারভিডা অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। তবে গণপরিবহন হিসেবে বহুল ব্যবহৃত ১০ থেকে ১৫ আসন সেগমেন্টের মাইক্রোবাস (এইচএস কোড ৮৭.০২), যা নগর ও গ্রামীণ জীবনে বিশেষ প্রভাব রাখছে; তা আমদানির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্র্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বারভিডা।

সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবিত বাজেটকে উদ্যোক্তাবান্ধব, শিল্পবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করেছে বারভিডা। বারভিডা জানায়, কভিড মহামারি মোকাবিলায় টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ বেশ ইতিবাচক। কভিড মহামারির কারণে দারিদ্রসীমার নিচে চলে যাওয়া জনগোষ্ঠী এবং নতুন দরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আকার ও আওতা বৃদ্ধি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় কর ছাড়সহ যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। কৃষি খাতে প্রণোদনার পাশাপাশি কৃষিযন্ত্র আমদানিতে অগ্রিম কর এবং উৎপাদনে ভ্যাট তুলে দেয়ার প্রস্তাব সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। এছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের বার্ষিক টার্নওভার ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

বারভিডার পক্ষ থেকে বলা হয়, কভিড মহামারি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণ দিকনির্দেশনা এবং সরকারের দক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ গত অর্থ বছরে এশিয়ার সর্বোচ্চ পাঁচ দশমিক দুই শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা একটি স্বস্তি ও গর্বের বিষয় বলে বারভিডা মনে করে। তবে প্রস্তাবিত বাজেটের সঠিক বাস্তবায়নে বর্তমান মহামারি পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং কাক্সিক্ষত রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থাপনায় সৃজনশীল পদক্ষেপ গ্রহণ বিশেষ জরুরি বলে বারভিডা জানিয়েছে। পাশাপাশি বাজেট পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দক্ষতা ও যথাযথ পরিবীক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে বলে বারভিডা মত দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা নেতারা উল্লেখ করেন, উন্নয়নশীল ও মধ্যম আয়ের দেশে গ্র্যাজুয়েশনের এ তাৎপর্যপূর্ণ সময়ে সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়ন এবং দেশে নতুন গাড়ির শিল্প প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়নে গাড়ির বাজার সম্প্রসারণ প্রয়োজন। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) মতে, গাড়ির অভ্যন্তরীণ বাজার এক লাখ ইউনিট হলেই দেশে নতুন গাড়ির শিল্পপ্রতিষ্ঠা যুক্তিযুক্ত হবে। মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এলে বাজার সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

বারভিডা নেতারা উল্লেখ করেন, নতুন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্কায়ন মূল্যে চরম বৈষম্যের ফলে নতুন গাড়ির চেয়ে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি পড়ে যাচ্ছে। ফলে ক্রেতা কমে যাচ্ছে, আমদানি হ্রাস পাচ্ছে এবং এ খাতের ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ছেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..