প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

রিজার্ভের অর্থ চুরিঃ আতিউরকে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল সোমবার তার ধানমন্ডির বাসভবনে এ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সিআইডির চার সদস্যের একটি দল গতকাল আতিউরের বাসায় যায় সকাল ১০টার দিকে। সেখানে তার সঙ্গে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এ দলটি রিজাভের অর্র্থ চুরির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলে। এ দলের নেতৃত্বে ছিলেন সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শাহ আলম।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে (নিউইয়র্ক ফেড) রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরি করে সাইবার দুর্বৃত্তরা। যার মধ্যে ২০ মিলিয়ন ডলার নিয়ে যাওয়া হয় শ্রীলঙ্কায়। বাকি ৮১ মিলিয়ন ডলার নিয়ে যায় ফিলিপাইনে। পরে ফিলিপাইনের স্থানীয় রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের (আরসিবিসি) মাধ্যমে এ অর্থ দেশটির বিভিন্ন ক্যাসিনোতে ছড়িয়ে পড়ে। শ্রীলঙ্কার পুরো অর্থ ফেরত পেলেও ফিলিপাইন থেকে এখন পর্যন্ত ১৫ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলার আনতে পেরেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাকি অর্থও ফেরত পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ ব্যাংক।

রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় ১৫ মার্চ আতিউর রহমান পদত্যাগ করেন। পাশাপাশি ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম ও নাজনীন সুলতানাকে অপসারণ করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়ে বললেও ফিলিপাইনের স্থানীয় রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংক রিজার্ভের চুরি যাওয়া টাকার বিপরীতে কোনো ক্ষতিপূরণ দেবে না বলে জানিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বে অবহেলাকে দায়ী করে বিষয়টি চাপা দেওয়া রয়েছে উল্লেখ করেছেন ব্যাংকটির এক আইনজীবী।

আরসিবিসি’র এক্সটারনাল কাউন্সেল থিয়া ডিপ মনে করেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত, জানানো উচিত আসলে এর পেছনে কে কে রয়েছে। চুরির প্রকৃত কারণ আরসিবিসি নয়। তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের নিয়ে যথেষ্ট পরিমাণ ধোঁয়াশা রয়েছে। এছাড়া তাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো মামলা আমাদের বিরুদ্ধে নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে বরং অবহেলার অভিযোগ ছিল। তাই আরসিবিসি এ ব্যাংককে কোনো টাকাই দেবে না বলে জানান তিনি। এর আগে ফিলিপাইনে অবস্থিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ  দেশটির একটি পত্রিকাকে বলেছিলেন, সরকার আরসিবি থেকে জরিমানা আদায়ের ব্যবস্থা করতে পারে।

সম্প্রতি সিআইডি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা ও ২৩ বিদেশি নাগরিক জড়িত রয়েছেন। তবে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন আহমেদ তার অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার দায়িত্বে চরম অবহেলা লক্ষ করা গেছে। দায়িত্বে অবহেলা একটি অপরাধ। তবে হ্যাকিংয়ের ঘটনায় সরাসরি কেউ জড়িত নন।