প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

রিজার্ভ চুরিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি চক্র জড়িত: সিআইডি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরের একটি চক্র রিজানর্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় জড়িত বলে সিআইডি পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। সিআইডি পুলিশের তদন্ত দলের প্রধান শাহ আলম বলেছেন, এই চক্রটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা অরক্ষিত করে হ্যাকিংয়ে

বা অর্থ চুরিতে সহায়তা করেছে। খবর বিবিসি।

তিনি আরও জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তারা এই চক্রটিকে চিহ্নিত করেছেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভের আট কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়।

রিজার্ভ চুরির বিষয়ে বাংলাদেশে মামলার তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। তাদের তদন্ত প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। তারা নিশ্চিত হয়েছে যে, অর্থ চুরির ঘটনায় বিদেশি চক্রকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা সহায়তা করেছেন।

সিআইডি পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি এবং তদন্ত দলের প্রধান শাহ আলম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরের চক্রটি রিজার্ভের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে দুর্বল করেছে। ফলে হ্যাকাররা বা বিদেশি চক্র সহজেই অর্থ চুরি করতে পেরেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওইসব কর্মকর্তা এবং মূল হোতা বা বিদেশি চক্রটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, রিজার্ভের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই সুরক্ষিত ছিল। সেই সিস্টেমকে ধাপে ধাপে দুর্বল বা অরক্ষিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা এবং দেশের বাইরের কিছু ঠিকাদার বা বিদেশিরা মিলে এই কাজ করেছে। আর এই অরক্ষিত করার ফলেই হ্যাকিং করা সম্ভব হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা যারা সিস্টেম বা বিষয়গুলো জানেন বা বোঝেন, তারাই বিদেশিদের প্ররোচনায় সিস্টেমকে অরক্ষিত করেছেন। এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আমরা পেয়েছি।”

তবে সিআইডি পুলিশ এ মুহূর্তে চিহ্নিত কর্মকর্তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি নয়।

সিআইডির কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, রিজার্ভ চুরির পেছনে পরিকল্পিত তিনটি ধাপ ছিল। প্রথম ধাপেই বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল বা অরক্ষিত করতে হয়েছে এবং সেটা ব্যাংকেরই সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা করেছেন। তিনটি ধাপের এই কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সাক্ষ্য-প্রমাণ তদন্ত দল পেয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, প্রথম ধাপে মূল হোতারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার মাধ্যমে রিজার্ভের নিরাপত্তার সিস্টেমকে দুর্বল করে হ্যাকিংয়ের পরিবেশ তৈরি করে। দ্বিতীয় ধাপে বিদেশিরা হ্যাকিং করেছে। আর তৃতীয় বা শেষ ধাপে দুর্বল ব্যবস্থাপনায় ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মকর্তার মাধ্যমে তারা টাকাগুলো চুরি করে নিয়ে গেছে।”

অন্যদিকে, গত বৃহস্পতিবার সরকারি তদন্ত কমিটির প্রধান এবং সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে উদ্ধৃত করে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রিজার্ভ চুরিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঁচজন কর্মকর্তার অবহেলা এবং অসতর্কতার প্রমাণ সরকারি কমিটির তদন্তে পাওয়া গেছে। তবে সরকারি কমিটি মে মাসে তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর কয়েক দফায় সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করার কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, দেশের স্বার্থে তা প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তবে রিজার্ভ চুরির বড় অংক ফিলিপাইন থেকে উদ্ধারের বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সম্প্রতি দেশটি সফরে গিয়েছিলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তদন্তেরে এসব অগ্রগতি সম্পর্কে এখন ফিলিপাইনকে জানানো হবে। কারণ তার সফরের সময় ফিলিপাইন সরকার বাংলাদেশের তদন্তের অগ্রগতি জানতে চেয়েছে।

তিনি বলেন, তারা শুধু তদন্তের অগ্রগতি জানতে চেয়েছে। সেটা জানাতে সমস্যা নেই এবং সেটুকুই বাংলাদেশ জানাবে।

রিজার্ভ চুরির ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর গভর্নর আতিউর রহমানকে বিদায় নিতে হয়েছে। কিন্তু কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাদের কেউ জড়িত থাকতে পারে, এটা আগে ধারণা করতে পারেননি। তদন্ত শেষ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি মনে করেন।