শিল্প-বাণিজ্য

রিটার্ন জমার সময় ফুরিয়ে আসছে, বাড়ছে ভিড়

## রিটার্ন জমা শেষ ৩০ নভেম্বর, সময় আর বাড়ছে না

## করদাতাদের উৎসাহ প্রদানে উপহার দিচ্ছে কর অঞ্চল-১৪

## দেওয়া হচ্ছে আয়কর নিরূপণ ও আয়কর সংক্রান্ত বুশিয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক: রিটার্ন দাখিলের সময় ফুরিয়ে আসছে। কর অঞ্চলের মেলায় আর মাত্র সাতদিন রিটার্ন দেওয়া যাবে। সময় ফুরিয়ে আসার সাথে সাথে মেলায় বাড়ছে করদাতা-সেবাগ্রহীতাদের ভিড়। সাথে বাড়ছে কর কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা। তবে শেষ এক সপ্তাহে করদাতাদের চাপ সামলাতে বেশিরভাগ কর অঞ্চল বাড়তি প্রস্তুত নিয়েছে। কর সংক্রমণ রোধে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সর্তকতা। মিনিটেই রিটার্ন জমা শেষে দ্রুত স্থান ত্যাগে করদাতাদের সচেতন করা হচ্ছে। আবার করদাতাদের উৎসাহ প্রদানে দেওয়া হচ্ছে ‘প্রীতি উপহার’। দেওয়া হচ্ছে ‘আয়কর নিরূপণ’ এবং আয়কর সংক্রান্ত ‘তথ্যকণিকা’। কর অঞ্চলে সেবা পেয়ে খুশি করদাতারা।

সোমবার রাজধানীর বিজয়নগরে আত-ত্বরীক টাওয়ারে কর অঞ্চল-১৪ ঘুরে দেখা যায়, ভবনের নিচতলায় প্রবেশ মুখে স্থাপন করা হয়েছে ছয়টি আলাদা রিটার্ন গ্রহণ বুথ। প্রতিটি বুথে সার্কেল নম্বর লেখা রয়েছে। করদাতারা লাইনে দাঁড়িয়ে নিজ নিজ সার্কেলে রিটার্ন দাখিল করছেন। রিটার্ন জমা দেওয়ার ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে দেওয়া হচ্ছে প্রাপ্তি স্বীকার। রিটার্ন দাখিল শেষ হওয়ার পরপরই দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে বলা হচ্ছে। এতে করোনা সংক্রমণ কম হবে। রয়েছে কর তথ্য ও সেবা কেন্দ্র। যেখান থেকে করদাতারা সেবা নিচ্ছেন।

আরও দেখা গেছে, মাস্ক ছাড়া কোন করদাতা থেকে রিটার্ন নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সেবাও দেওয়া হচ্ছে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে রিটার্ন জমা করতে আগতদের উদ্ধুদ্ধ করছেন আয়কর কর্মকর্তারা। করদাতাদের উৎসাহ দেওয়া ও সচেতনতা বাড়াতে ‘প্রীতি উপহার’ দেওয়া হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সম্বলিত ‘চাবির রিং’। যাতে এ কর অঞ্চলের কোম্পানী ও কোম্পানী ব্যতীত আয়কর জমার কোড রয়েছে। এছাড়া করদাতাদের ‘জনকল্যাণে রাজস্ব’ ও কর অঞ্চল-১৪, ঢাকা লেখা বিভিন্ন ধরনের কলম দেওয়া হচ্ছে। উপহার সামান্য হলেও মূল্যায়ন করায় খুশি করদাতারা।

অপরদিকে, করদাতাদের দেওয়া হচ্ছে ‘আয়কর নিরূপণ’ বুশিয়ার। প্রতিবছর বাজেটে আয়করের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়া হয়। এছাড়া সব সময় আয়করে কিছু না কিছু ছাড় থাকে। বুশিয়ারে করমুক্ত আয়সীমা, ন্যূনতম কর, ব্যক্তি করদাতার সারচার্জ, রেয়াতের হার, কোন খাতে বিনিয়োগ রেয়াতযোগ্য, বেতন খাতে করযোগ্য আয় নিরূপণ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতার করযোগ্য, কৃষি খাতের আয় নিরূপণ, গৃহসম্পত্তি খায়ে আয় নিরূপণ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। আয়কর আইনে রিটার্ন দাখিলের ব্যর্থতা ও জরিমানা তুলে ধরা হয়েছে। অপর বুশিয়ারে ‘অপ্রদর্শিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি প্রদর্শন এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে কর প্রদানের সুযোগ সম্পর্কিত তথ্য’ রয়েছে।

ঘুরে আরও দেখা যায়, নিচতলায় রিটার্ন বুথ ছাড়াও ভবনের ভেতরে প্রতিটি সার্কেলে রিটার্ন দাখিল করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ রোধে সার্কেলের পাশে আলাদা বুথ করা হয়েছে। রিটার্ন পূরণের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে করদাতারা রিটার্ন পূরণ করতে পারছেন। এছাড়া রিটার্ন পূরণে কর্মকর্তারা সহায়তা করছেন। সিসি ক্যামেরায় নিচতলায় স্থাপিত বুথ ও সার্কেলের বুথসমূহ মনিটরিং করছেন কমিশনার। এছাড়া কর্মকর্তারা সার্বক্ষনিক তদারকি করছেন। শেষ সপ্তাহে কর্মকর্তাদের ভিড় সামাল দিতে কর অঞ্চলের ভবনের সামনে ছয়টি আলাদা বুথ স্থাপন করা হয়েছে, যা মঙ্গলবার থেকে চালু হবে। করদাতাদের ভিড় ও স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে থাকবে সিকিউরিটির ব্যবস্থা।

এ বিষয়ে কর অঞ্চল-১৪, ঢাকার কর কমিশনার খন্দকার মো. ফেরদৌস আলম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘মেলার আদলে ও মেলার পরিবেশে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। সব ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে। সর্বোচ্চ ১০-১২ সেকেন্ডের মধ্যে রিটার্ন জমা নেওয়া হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ রোধে সর্বোচ্চ সর্তকর্তা অবলম্বন করা হচ্ছে। আমি ও আমার টিম সার্বক্ষনিক মনিটরিং করছে। ভিড় সামাল দিতে ভবনের বাইরে ছয়টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে, যাতে শেষ সময়ে ভিড় কম হয়। করদাতাদের উৎসাহ দিতে আমরা কিছু উপহার দিচ্ছি। এছাড়া কর সচেতনতা বাড়াতে বুশিয়ার দিচ্ছি। আমরা খুবই আন্তরিকতার সাথে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। আশা করি এবার গতবছরের চেয়ে বেশি রিটার্ন দাখিল হবে।’

কয়েকটি কর অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি কর অঞ্চলে স্থাপিত বুথে করদাতাদের ভিড় রয়েছে। তবে সংক্রমণ রোধে সর্বোচ্চ কম সময়ের মধ্যে রিটার্ন নেওয়ার চেষ্টা করছেন কর্মকর্তারা। মাস্ক ছাড়া সেবা দেওয়া হচ্ছে না। আবার অনেকেই সময় বৃদ্ধির আবেদন করছেন। শেষ সপ্তাহে ভিড় বেড়ে গেছে। তবে করোনার ঝুঁকি মাথায় নিয়ে কর সচেতন মানুষ রিটার্ন দাখিল করছেন, সেবা দিচ্ছেন কর্মকর্তারা।

রিটার্ন দাখিলে ৩০ নভেম্বরের পর সময় বৃদ্ধির সুযোগ নেই উল্লেখ করে এনবিআর সদস্য (করনীতি) মো. আলমগীর হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘সময় বৃদ্ধির আইনগত সুযোগ নেই। ফলে জরিমানা এড়াতে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে করদাতাদের রিটার্ন দাখিল করতে হবে। প্রতিটি কর অঞ্চলের কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, আমরা সার্বক্ষনিক মনিটরিং করছি।’

###

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..