দিনের খবর প্রথম পাতা

রিটার্ন জমার সময় বাড়ানো নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ

আর পাঁচ দিন বাকি

## রিটার্ন জমা শেষ ৩০ নভেম্বর, সময় আর বাড়ছে না

## সময় বাড়ানোর গুজব ছড়ানো হচ্ছে, এনবিআর বলছে সুযোগ নেই

## করসীমা নিয়ে করদাতাদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রিটার্ন দাখিলের সময় ফুরিয়ে আসছে। কর অঞ্চলের মেলায় আর মাত্র পাঁচ দিন রিটার্ন দেওয়া যাবে। সময় ফুরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মেলায় বাড়ছে করদাতা-সেবাগ্রহীতাদের ভিড়। একই সঙ্গে বাড়ছে কর কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা। তবে শেষ ক’দিনে করদাতাদের চাপ সামলাতে বেশিরভাগ কর অঞ্চল বাড়তি প্রস্তুত নিয়েছে। কর সংক্রমণ রোধে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। মিনিটেই রিটার্ন জমা শেষে দ্রুত স্থান ত্যাগে করদাতাদের সচেতন করা হচ্ছে। সেবা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন করদাতারা।

অপরদিকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করা যাবে। রিটার্ন দাখিলের সময় আর বাড়ানো হচ্ছে। আয়কর আইন অনুযায়ী সময় বাড়ানোর সুযোগও নেই। তবে এনবিআর অভিযোগ পেয়েছে, বিভিন্ন ব্যক্তি সময় বাড়ানো ও করসীমা নিয়ে করদাতাদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতারকের খপ্পরে না পড়ে সরাসরি কর অঞ্চলে গিয়ে কর্মকর্তাদের সহায়তা নিয়ে রিটার্ন দাখিল করতে করদাতাদের পরামর্শ দিয়েছে এনবিআর।

গতকাল রাজধানীর বিজয়নগরে আত-ত্বরীক টাওয়ারে কর অঞ্চল-১৪ ঘুরে দেখা যায়, ভবনের নিচতলায় প্রবেশমুখে স্থাপন করা হয়েছে ছয়টি আলাদা রিটার্ন গ্রহণ বুথ। করদাতাদের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় ভবনের সামনে আরও ছয়টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি বুথে সার্কেল নম্বর লেখা রয়েছে, যাতে সহজেই করদাতারা নিজ সার্কেলে রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। লাইনে দাঁড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে করদাতারা রিটার্ন দাখিল করছেন। রিটার্ন জমা দিতে সময় লাগছে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড। করোনা সংক্রমণ রোধে রিটার্ন দাখিল শেষ হওয়ার পরপরই দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে বলা হচ্ছে। রয়েছে কর তথ্য ও সেবা কেন্দ্র, যেখান থেকে করদাতারা সেবা নিচ্ছেন।

দেখা গেছে, মাস্ক ছাড়া কোনো করদাতার কাছ থেকে রিটার্ন নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সেবাও দেওয়া হচ্ছে না। করদাতাদের উৎসাহ দেওয়া ও সচেতনতা বাড়াতে ‘প্রীতি উপহার’ দেওয়া হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি-সংবলিত ‘চাবির রিং’, যাতে এ কর অঞ্চলের কোম্পানি ও কোম্পানি ব্যতীত আয়কর জমার কোড রয়েছে। এছাড়া করদাতাদের ‘জনকল্যাণে রাজস্ব’ ও ‘কর অঞ্চল-১৪, ঢাকা’ লেখা বিভিন্ন ধরনের কলম দেওয়া হচ্ছে। উপহার সামান্য হলেও মূল্যায়ন করায় খুশি করদাতারা।

এছাড়া করদাতাদের ‘আয়কর নিরূপণ’ ও আয়কর-সংক্রান্ত তথ্যকণিকা দেওয়া হচ্ছে। ভবনের ভেতরে প্রতিটি সার্কেলে রিটার্ন দাখিল করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ রোধে সার্কেলের পাশে আলাদা বুথ করা হয়েছে। রিটার্ন পূরণের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে করদাতারা রিটার্ন পূরণ করতে পারছেন। এছাড়া রিটার্ন পূরণে কর্মকর্তারা সহায়তা করছেন। সিসি ক্যামেরায় নিচতলায় স্থাপিত বুথ ও সার্কেলের বুথগুলো মনিটরিং করছেন কমিশনার।

কর অঞ্চল-১৪, ঢাকার কর কমিশনার খন্দকার মো. ফেরদৌস আলম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘মেলার আদলে ও মেলার পরিবেশে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। সব ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে। সর্বোচ্চ ১০-১২ সেকেন্ডের মধ্যে রিটার্ন জমা নেওয়া হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। আমি ও আমার টিম সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং করছি। ভিড় সামাল দিতে ভবনের বাইরে ছয়টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে, যাতে শেষ সময়ে ভিড় কম হয়। করদাতাদের উৎসাহ দিতে আমরা কিছু উপহার দিচ্ছি। এছাড়া কর সচেতনতা বাড়াতে ব্রশিয়ার দিচ্ছি। আমরা খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। আশা করি এবার গত বছরের চেয়ে বেশি রিটার্ন দাখিল হবে।’

সার্কিট হাউস সড়কে সার্কিট হাউস টাওয়ারে অবস্থিত ‘কর অঞ্চল-২, ঢাকা’ ঘুরে দেখা গেছে, ভবনের তৃতীয় তলায় সাতটি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ই-টিআইএন, একটি অভ্যর্থনা ও পাঁচটি রিটার্ন গ্রহণ বুথ। ভবনে প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে রিটার্ন বুথ পর্যন্ত সাজানো হয়েছে। করোনা সংক্রমণ রোধে করদাতাদের ভিড় করতে দেওয়া হচ্ছে না। রিটার্ন দাখিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থান ত্যাগ করতে বলা হচ্ছে। করমেলার মতো সেবা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন করদাতারা।

এ বিষয়ে এনবিআর সদস্য (করনীতি) মো. আলমগীর হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘সময় বৃদ্ধির আইনগত সুযোগ নেই। ফলে জরিমানা এড়াতে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে করদাতাদের রিটার্ন দাখিল করতে হবে। প্রতিটি কর অঞ্চলের কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, আমরা সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং করছি। তবে গুজবে কান না দিতে করদাতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..