প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

রিসাইকেল সুতার গল্প

 

আশির দশকের আগে অন্য সব এলাকার মতো এসব গ্রামের তাঁতিও সুতা কিনে গামছা-লুঙ্গি বানাতেন। দিন গড়ায়, সুতার দাম বাড়ে। আবার সুতার সংকটে বেকারও থাকতে হয় অনেক সময়। এ অবস্থায় সুতা কিনে কাপড় বুনে মুনাফা ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। সব মিলে দিন দিন বাড়তে থাকে ওই এলাকার তাঁতিদের জীবিকার যুদ্ধও। তারা চেষ্টা করতে থাকেন নতুন কিছু করার।

সেই একই সময় গ্রামের অনেক নারী বিদেশ থেকে আসা পুরোনো উলের সোয়েটার থেকে সুতা খুলে কারুকাজ করতেন। পরে তারা কারুকাজ করা সুতা দিয়ে হাতে বুনানো বাচ্চাদের টুপি ও সোয়েটার তৈরি শুরু করেন। সুতার বিকল্প জোগান হিসেবে এ পদ্ধতি অনুসরণ করতে শুরু করেন এলাকার অনেক তাঁতি। তখন থেকে শুরু হয় শীতের কাপড় বোনা।

বিদেশি উলের কাপড় অনেক দষ্প্রাপ্য ছিল তখন। আশার আলো আসে দেশের গার্মেন্ট শিল্প বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে। গার্মেন্টগুলোয় উলের কাপড় তৈরি শুরু হলে তাঁতিরা ছুটে আসেন ঝুটকাপড়ের টুকরো নিতে। ঝুটকাপড় সংগ্রহ করে নিয়ে যান নিজের এলাকায়। কাপড় থেকে সুতা ছাড়িয়ে রিসাইকেল করে সুতায় মনমতো রঙ দেওয়া শুরু করেন।

রিসাইকেল শুরু হয় তাঁতবাড়িতেও। মেশিনের জন্য সুতা নাটাই করে নতুন কিছু তৈরি করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন তাঁতিরা। বুনন শুরু হয় মোটা চাদরের। এরপর ৯০ দশকের পর দেশে সেই মোটা চাদরের বদলে জনপ্রিয়তা পায় কম্বল।

১৯৭৯-৮০ সালে শাঁওইল গ্রামের হাতেগোনা কয়েকজন কম্বল বানানোর তাঁত মেশিন স্থাপন করেন। এরপর থেকে গরিব মানুষেরা নিজেদের এ পেশার সঙ্গে যুক্ত করতে থাকেন। সময়ের ব্যবধানে গ্রামের পর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে তাঁতশিল্প। মূলত তখন থেকে চলছে কম্বল-চাদর বুনন। গার্মেন্টের সঙ্গেও বাড়তে থাকে এর পরিধি। প্রচুর ঝুটকাপড় আসে শাঁওইলে। তৈরি হতে থাকে সুতার আলাদা ব্যবসা।

বর্তমানে সারা দেশের গার্মেন্ট থেকে প্রায় সব ঝুট উলের টুকরোই নেওয়া হয় শাঁওইলে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৯০ থেকে ১০০ টন ঝুট আসে এখানে। শাঁওইল বাজারেই রয়েছে প্রায় ১২০০ সুতার দোকান।