প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

রুবলের নাটকীয় উত্থান

শেয়ার বিজ ডেস্ক: নিষেধাজ্ঞা সত্তে¡ও পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে রাশিয়ার মুদ্রা রুবল। অথচ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করার পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে অনেক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবু বেশ নাটকীয়ভাবে যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থার চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে রুবল। খবর: বিবিসি।

ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পর ইউরোপের দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর নানা ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা দেয়। এতে রুবলের মান পড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে টানা দুই সপ্তাহ মস্কোর পুঁজিবাজার বন্ধ রাখা হয়েছিল। সংকট কাটিয়ে মার্চের শেষের দিক থেকে রুবলের মান আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

রুবলকে টেনে তোলার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম রাশিয়ার তেল ও গ্যাস। রাশিয়ার রপ্তানি করা পণ্যের মধ্যে ৬০ শতাংশই হচ্ছে গ্যাস ও তেল। দেশটির রপ্তানি আয়ের ৪০ শতাংশ আসে তেল ও গ্যাস বিক্রি থেকে। ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়ার গ্যাস ও তেলের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির কাছ থেকে গ্যাস ও তেল কিনতে ইউরোপের দেশগুলো ইউরোয় পরিশোধ করত। যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোর পরিবর্তে রুবলে পরিশোধ চালু করে রাশিয়া। গ্যাস ও তেল আমদানি বাবদ রাশিয়াকে প্রতিদিন ৪০ কোটি ইউরো পরিশোধ করে ইউরোপের দেশগুলো। এ কারণে রাশিয়ার মুদ্রা শক্তিশালী হয়েছে। এছাড়া চীন ও ভারতের কাছে জ্বালানি বিক্রির মাধ্যমে রাশিয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে।

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক তাতিয়ানা রোমানোভা বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার তেল-গ্যাস রপ্তানির পরিমাণ কমেছে এ কথা ঠিক। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়া সেটি পুষিয়ে নিচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি অনেক জিনিস আমদানি করতে পারছে না এবং রাশিয়ার মানুষ আগের মতো বিদেশে যেতে পারছে না। ফলে তাদের ডলার ও ইউরোর চাহিদা কমে গেছে বলে গেছে জানান তাতিয়ানা।

এ ছাড়া রুবলের দাম স্থিতিশীল রাখতে রাশিয়ার সরকার দেশের ভেতরে আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী রাশিয়ায় করপোরেট শেয়ার ও সরকারি বন্ড কিনেছেন।