সম্পাদকীয়

রূপকল্পের লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট হোন

জনগণের আর্থসামাজিক মুক্তি এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমাজ গঠনে ২০১০ সালে সরকার ভিশন-২০২১ প্রণয়ন করে। এটি ছিল সরকারের প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা। ষষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এ ভিশন অর্জনের লক্ষ্য ছিল। কিন্তু ওই প্রেক্ষিত পরিকল্পনার অনেক লক্ষ্যই রয়ে গেছে অধরা। আগামী বছর শেষ হবে প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনার মেয়াদ। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে অনুমোদন পেয়েছে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা। যার মেয়াদ ২০২১ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত। আর এ পরিকল্পনার লক্ষ্যও অনেক বড়; উন্নত দেশে উন্নীত হওয়া। কাজেই এ পরিকল্পনায় নির্ধারিক লক্ষ্যগুলো অর্জনে অনেক বেশি দৃঢ়তা প্রয়োজন বলে মনে করি। রূপকল্প কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে তাই সরকার এখন থেকেই প্রয়োজনীয় হোমওয়ার্ক করে পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘অনুমোদন হলো দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা: সাড়ে ১২ হাজার ডলার মাথাপিছু আয়ের লক্ষ্য’ শীর্ষক প্রতিবেদন সর্বসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, রূপকল্প প্রণয়নে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বৈষম্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা, লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা, পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা, টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা এবং এলডিসি উত্তরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি। পরিকল্পনায় আরও যেসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার, জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, যোগাযোগ খাতের বিশেষ উন্নয়ন, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়। কিন্তু এসব বিষয় তো কেবল কাগজে-কলমে থাকলে চলবে না, বিষয়গুলো অর্জনে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা প্রণয়ন করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ।

রপ্তানি বহুমুখীকরণ করতে পণ্য উৎপাদন, পরিবহন ও জাহাজীকরণ সর্বস্তরে সুশৃঙ্খল কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের স্থিতি যাতে ক্রমান্বয়ে স্ফীত হয়, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়, উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ ও প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। দেশ উন্নত হলে বাণিজ্যসুবিধা বিশেষ করে শুল্কমুক্ত সুবিধা, জিএসপি সংকুচিত হবে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে।

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতার ওপর নির্ভর করে রূপকল্প বাস্তবায়ন। আমাদের বড় সমস্যা জবাবদিহি না থাকা, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়। প্রেক্ষিত পরিকল্পনায়ও স্বচ্ছতা ও সুশাসন গুরুত্ব পেয়েছে। সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকলে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় কমবে এবং যথাসময়ে রূপকল্প বাস্তবায়ন হবে। সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..