বিশ্ব বাণিজ্য

রেকর্ড আমদানিতে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের

শেয়ার বিজ ডেস্ক : চলতি বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র রেকর্ড আমদানি করেছে। এতে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ফলে তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কেনাকাটার মৌসুম ঘিরে চীন থেকে বেশি আমদানি ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ঘাটতি অনেক বেড়ে গেছে।

বাণিজ্য ঘাটতি এমন সময় বাড়ল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নর্থ আমেরিকা ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (নাফটা) সংস্কার নিয়ে কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দুর্বল ডলারের কারণে অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে ৪৮ দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার। আগের মাসের তুলনায় এটি আট দশমিক ছয় শতাংশ বেশি। গত জানুয়ারির পর এটিই দেশটির সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি। বিশ্লেষকরা প্রত্যাশা করছিলেন, অক্টোবরে বাণিজ্য ঘাটতি হবে পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশ।

ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে শুরু থেকেই বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। চীনসহ অন্য দেশগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিকবার আলোচনাও করেছে তারা। এমনকি চীনের অ্যালুমিনিয়ামে শুল্কারোপের মতো সিদ্ধান্তও নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ।

অক্টোবরে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্র পণ্য আমদানি করেছে ৪৮ দশমিক দুই বিলিয়ন ডলারের। এখন পর্যন্ত দেশটি থেকে এটিই সর্বোচ্চ আমদানি। যদিও চীনে রফতানিও গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। এতে ওই মাসে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে।

এছাড়া মেক্সিকো থেকে অক্টোবরে আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক সাত বিলিয়ন ডলারে এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে আমদানি দাঁড়িয়েছে ৩৯ দশমিক চার বিলিয়নে। তবে ওই মাসে মেক্সিকোয় রফতানি হয়েছে ২২ দশমিক এক বিলিয়ন ডলারের পণ্য। গত তিন বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ।

সব মিলিয়ে অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। ২০১৪ সালের মে মাসের পর এটিই সর্বোচ্চ আমদানি। ভোগ্যপণ্য, মোবাইল ফোন, পরিবহন সেবায় আমদানি বেড়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার।

অক্টোবরে গড়ে ৪৭ ডলার ২৬ সেন্টে জ্বালানি তেল আমদানি করেছে দেশটি। মূল্যের হিসাবে ওই মাসে এক দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলারের তেল আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ঊর্ধ্বমুখী তেলের দামে আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের জানুয়ারিতেও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছিল।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি চার শতাংশে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং নিজ দেশের সুবিধার্থে বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তিতে সংশোধনের জন্য উদ্যোগ নেন। তিনি দাবি করেন, তার পূর্বসূরিদের বাণিজ্যনীতি যুক্তরাষ্ট্রের কারখানাগুলোয় কর্মসংস্থান কমাচ্ছে। আমদানি বাণিজ্য ঘাটতি বাড়াচ্ছে দাবি করে নতুন এ প্রেসিডেন্ট সীমান্ত পারাপারে করারোপের পক্ষেও যুক্তি দেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই ১২ দেশের জোট ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া ১৯৯৪ সালে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর নাফটা চুক্তিরও পুনর্মূল্যায়ন করতে চাচ্ছেন তিনি।

 

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..