দিনের খবর শেষ পাতা স্পোর্টস

রেকর্ড গড়েই জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক ঃ বেশ আগে থেকেই বয়ে বেড়াচ্ছেন হাঁটুর চোট। তবে মঙ্গলবার ব্যাট করার সময় সেটা মোটেও বুঝতে দিলেন না তামিম ইকবাল। শুরু থেকে দাপটের সঙ্গে ব্যাট চালিয়ে এ ওপেনার তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি।  তার অসাধারণ ইনিংসের ওপর ভর করে জয়ের ভীত পায় সফরকারীরা। পরে মোহাম্মদ মিথুন ও ৪ বছর পর ফেরা নুরুল হাসান সোহানের ব্যাটে চড়ে হারারেতে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে সিরিজের শেষ ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ। এর সঙ্গে  তিন ম্যাচের ওয়ানডে ৩-০ ব্যবধানে জিতে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জাও দিয়েছে টিম টাইগার্স।

মঙ্গলবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশ জিতেছে ৫ উইকেটে। এদিন টস জিতে আগে বল হাতে নিয়ে ৪৯.৩ ওভারে ২৯৮ রানে জিম্বাবুয়েকে অলআউট করে বাংলাদেশ। তাই জিততে টাইগারদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় হারারেতে তৃতীয় রেকর্ড রান তাড়ার। শেষ পর্যন্ত সফরকারীরা সেটা পেরেছে ১২ বল আর ৫ উইকেট হাতে রেখে। তামিম ১১২, সোহান ৪৫ ও মিথুন করেন ৩০ রান। লিটনের ব্যাট থেকে আসে ৩২ রান। সাকিব করেন ৩০। এর আগে হারারেতে ৩২৮ ও ৩০৪ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে।

তৃতীয় রেকর্ড রান তাড়ায় মঙ্গলবার শুরু থেকেই দারুণ খেলতে থাকেন তামিম ইকবাল। উদ্বোধনী জুটিতে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন লিটন দাস। এরমধ্যে ৪৬ বলেই হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম। এ সুবাদে ওপেনিং জুটিও দারুণ ছুঁটছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য এ জুটি ভাঙে ১৩.৫ ওভারে ৮৮ রানে। সে সময় ওয়েসলি মাধেভেরেকে সুইপ করতে গিয়ে অহেতুক ক্যাচ তুলে বিদায় নেন ৩৭ বলে ৩ চারে ৩২ রান করা লিটন। সঙ্গীকে হারালেও তামিম ছিলেন নিজের মতো। এক প্রান্ত আগলে বন্ধু সাকিব আল হাসানকে নিয়ে ধীরে পথ চলেন তিনি। তাদের জুটিও জমে গিয়েছিল। ৫৯ বলে পঞ্চাশ রানও করেছিল তারা। কিন্তু সাকিব আল হাসানের অহেতুক উইকেট ছুঁড়ে দেয়ার কারণে দ্বিতীয় উইকেটের জুটি বেশিদূর এগোতে পারেনি। ইনিংসের ২৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে জঙ্গের অফ স্টাম্পের বাইরে ব্যাট চালিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে নেন সাকিব। ফেরার আগে তিনি করেন ৪২ বলে ১ চার ও ১ ছয়ে ৩০ রান।

সাকিবকে হারালেও ভেঙে পড়েননি তামিম। উল্টো আগ্রাসী ব্যাটিং করেন তিনি। সে ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এ তারকা ইনিংসের ৩০তম ওভারের প্রথম বলে চার হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি তুলে নেন। এজন্য তিনি খেলেন ৮৭ বল। সে সময় তার ইনিংসে ছিল ৭ চার ও ৩ ছয়ের মার।

সেঞ্চুরির পর আরও আগ্রাসী হওয়ার চেষ্টা করেন তামিম। শেষ পর্যন্ত সেটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় এ ওপেনারের। ডোনাল্ড ত্রিরিপানোর অফ স্টাম্পের বাইরের বলে অহেতুক ব্যাট চালিয়ে তিনি ধরা পড়েন উইকেটের পেছনে। ফেরার আগে তামিম করেন ৯৭ বলে ৮ চার ও ৩ ছয়ে ১১২ রান।

তামিম ফেরার পরের বলেই একই বোলারের শিকার হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তিনিও উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বসেন। সে সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২০৪ রান। যে কারণে কিছুটা বিপদে পড়ে টিম টাইগার্স। তবে সেটা খুব একটা বুঝতে দেননি মোহাম্মদ মিথুন ও নুরুল হাসান সোহানের পঞ্চম উইকেট জুটি। তারা বেশ সহজেই রানের চাকা সচল রাখেন। শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের পথে রেথে ইনিংসের ৪৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে আউট হয়ে ফেরেন মিথুন। তার আগে তিনি করেন ৫৭ বলে ১ চারে ৩০ রান।

মিথুন ফিরে যাওয়ার পর জয়ের বাকি কাজটুকু আফিফ হোসেনকে নিয়ে সহজেই সারেন সোহান। চার বছর পর দলে ফেরা এ  উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান অপরাজিত থাকেন ৪৫ রানে। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চারের মার। অন্যদিকে আফিফ অপরাজিত ছিলেন ১৭ বলে ২৬ রানে। তার ইনিংসে ছিল ৩ চার ও ১টি ছয়ের মার।

জিম্বাবুয়ের হয়ে ত্রিরিপানো ও মাধেভেরে নেন ২টি করে উইকেট।

এরআগে টস জিতে বল হাতে নিয়ে উইকেটের সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে নবম ওভারে আক্রমণে এসেই টাডিওয়ানাশে মারুমানিকে এলবিডব্লিউ করে দেন সাকিব আল হাসান। ভাঙে ৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটি।  এরপর ইনিংসের ১৮তম ওভারে ব্রেন্ডন টেইলরকে বিদায় করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক মিড অফের উপর দিতে পাঠাতে চেয়েছিলেন বল। ঠিক মতো খেলতে পারেননি। একটু পিছিয়ে গিয়ে ক্যাচ নেন তামিম।

টেইলর ফিরলেও দারুণ জমে গিয়েছিল চাকাভা-ডিওন মায়ার্সের তৃতীয় উইকেট জুটি।  দুই জনের ব্যাটে বাড়ে রানের গতির। তৃতীয় উইকেটে তাদের পঞ্চাশ আসে কেবল ৪৪ বলে। এরপর এগিয়ে যাচ্ছিলেন আরও সামনে।
শেষ পর্যন্ত মাহমুদউল্লাই ভাঙেন বিপজ্জনক হয়ে উঠা জুটিও। বোল্ড হয়ে যান মায়ার্স। ভাঙে ৭০ বল স্থায়ী ৭১ রানের জুটি। সম্ভাবনা জাগিয়ে আবারও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ মায়ার্স।

আগের ম্যাচে ফিফটি করা ওয়েসলি মাধেভেরেকে দ্রুত ফেরান ম্স্তাফিজুর রহমান। পরে সেঞ্চুরির আশা জাগানো চাকাভাকে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। ফেরার আগে জিম্বাবুয়ে ওপেনার করেন সাত চার ও এক ছক্কার সৌজন্যে ৮৪ রান।

২৩ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া জিম্বাবুয়েকে উদ্ধার করেন রাজা ও বার্ল। শেষদিকে সাইউদ্দিনের উপর চড়াও হন সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্ল। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে দুজন যোগ করেন ১১২ রান। ৪৯ বলে ফিফটির স্বাদ পাওয়া রাজা ৫৪ বলে ৫৭ ও ৩৮ বলে অর্শধতক করা বার্ল ৪৩ বল খেলে ৫৯ রানে আউট হলে লেজের দিকের ব্যাটসম্যানরা স্কোর বোর্ডে তেমন প্রভাব রাখতে পারেননি। এতে ৫০তম ওভারে অল-আউট হওয়ার আগে জিম্বাবুয়ে ২৯৮ রানের পুঁজি পায়।

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৮৭ রানে নেন ২ উইকেট। এদিকে ৪৫ রানে মাহমুদউল্লাহ পকেটে পুরেন ২টি উইকেট। এছাড়া মোস্তাফিজ ৫৭ রানে ৩টি ও সাকিব ৪৬ রানে নেন ১টি উইকেট। ম্যাচসেরা হয়েছেন তামিম ইকবাল।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..