প্রচ্ছদ প্রথম পাতা স্পোর্টস

রেকর্ড জয়ে শুরু বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সময়ের হিসাবে সাত মাস পর গতকাল ওয়ানডে লড়াইয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ, কিন্তু ২২ গজে লিটন দাস-মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনদের দেখে সেটা বোঝায় যায়নি। একজন তো ওপেনিংয়ে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন। সে সুবাদে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে যান দাপটের সঙ্গে। অন্যজন তো চোট মুক্ত হয়ে ফিরেই দেখান অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। শেষ দিকে ব্যাট হাতে খেলেন মারমুখী ইনিংস। পরে বল হাতে গড়ে দেন ম্যাচের ভাগ্য। শেষ পর্যন্ত তাদের নৈপুণ্যেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের পথচলাটা বাংলাদেশের হয়েছে রেকর্ড জয়ে। এর সঙ্গে সিরিজে আবার স্বাগতিকরা এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে।

গতকাল জিম্বাবুয়েকে ১৬৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে ইতিহাসে এটিই টাইগারদের সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড। এই সংস্করণে আগের সবচেয়ে বড় জয়টি টাইগারদের ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৮ সালে ঢাকায় ১৬৩ রানে।

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে লিটন দাসের (১২৬) ব্যাটে শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছিল বাংলাদেশের। মাঝে মোহাম্মদ মিথুন (৫০) ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৩২) স্বাগতিকদের ইনিংসের গতিপথ ঠিক রাখেন। শেষ দিকে ঝড় তোলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (১৫ বলে ২৮)। তাই তো নির্ধারিত ৫০ ওভারে বাংলাদেশ পেয়ে যায় ৬ উইকেটে ৩২১ রানের বড় পুঁজি। পরে বল হাতে সফরকারী জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপকে শুরু থেকেই চেপে ধরেন সাইফউদ্দিন-মোস্তাফিজুর রহমানরা। পরে তাদের সঙ্গী হন মাশরাফি, তাইজুল ও মিরাজ। যে কারণে একবারও প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেননি। ৩৯.১ ওভারে চামু চিবাবার দলকে মাত্র ১৫২ রানে গুটিয়ে দিয়ে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়টি তুলে নেয় মাশরাফি বাহিনী।

সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস থেকে শুরু করে গতকাল সবকিছুই যেন ছিল বাংলাদেশের পক্ষে। দুই ওপেনার তামিম-লিটনের ব্যাটে ১২.৫ ওভারে ৬০ রানের দারুণ শুরু পায় স্বাগতিকরা। এরপর তামিম ফিরে গেলে নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে পথ চলতে থাকেন লিটন। একপর্যায়ে এ ডানহাতি মাত্র ৪৫ বলে তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। এ ইনিংসটাকে এ ডানহাতি আবার সেঞ্চুরিতে রূপ দেন মাত্র ৯৫ বলে ১০ চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে।

সেঞ্চুরির পর লিটন চড়াও হন সফরকারী বোলারদের ওপর। সে ধারাবাহিকতায় তিনি ছুটছিলেনও দারুণ। কিন্তু দলীয় ২০৬ রানের মাথায় এ ডানহাতি মাংসপেশির চোটে পড়ে ফিরে যান সাজঘরে। তার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১০৫ বলে ১৩ চার ও ২ ছয়ে ১২৬ রান।

অনেকদিন পর ওয়ানডে দলে ফিরে গতকাল নিজেকে প্রমাণ করেন শান্ত। এ বাঁহাতি ৩৮ বলে ১ চার ও ২ ছয়ে করেন ২৯ রান। এদিকে মুশফিকুর রহিম ইঙ্গিত দিয়েও পারেননি ইনিংস বড় করতে। মাত্র ১৯ রানে ফেরেন তিনি। তবে পঞ্চম উইকেটে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর মোহাম্মদ মিথুন খেলেন দারুণ। মাত্র ৫৭ বলে তারা গড়েন ৬৮ রানের জুটি। এর মধ্যে ২২ বলে ২৯ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। আর ৩৫ বলে ৩৯ মিথুনের। শেষ পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে ভাঙে এ জুটি। এরপর মিথুন হাফসেঞ্চুরি তুলে ফেরেন। তবে শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে নেমে শেষ ওভারে ঝড় তোলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তিন ছক্কায় ২২ রান নেন তিনি। ১৫ বলে তার ২৮ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ রান করে বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের সামনে কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দিয়ে গতকাল বল হাতে শুরুতেই স্বাগতিকদের উইকেট এনে দেন সাইফউদ্দিন। দ্বিতীয় ওভারেই টিনাশে কামুনহুকামউইয়েকে বোল্ড করেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পরই এ পেসার এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলে রেজিস চাকাভাকে সাজঘরের পথ দেখান। এদিকে অধিনায়ক মাশরাফি নিজের প্রথম ওভার বাজে করলেও দ্রুতই সাফল্য পান। চামু চিবাবাকে সীমানায় মাহমুদউল্লাহর ক্যাচে ফেরান। সে সময় জিম্বাবুয়ের রান ৩ উইকেটে ২৩। এ অবস্থায় সফরকারীদের হাল ধরতে চেয়েছিলেন ব্রেন্ডন টেইলর। কিন্তু তাকে সে সুযোগ দেননি তাইজুল। এ স্পিনার অভিজ্ঞ এ ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করেন। পরে মাধেভেরে (৪৪ বলে ৩৫) ছাড়া সফরকারীদের আর কোনো ব্যাটসম্যান টাইগার পেস-স্পিনের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি।   

চোট মুক্ত হয়ে ফিরেই সাইফউদ্দিন পেলেন সেরা বোলারের খেতাব। ২২ রানে ৩ উইকেট পেয়েছেন তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজ ও মাশরাফি বিন মুর্তজা নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। এদিকে একটি করে উইকেট পেয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও তাইজুল ইসলাম। অসাধারণ সেঞ্চুরির সুবাদে ম্যাচসেরা হয়েছেন লিটন। আগামীকাল সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..