কোম্পানি সংবাদ পুঁজিবাজার

রেকিট বেনকিজারের দর বেড়েছে ১৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ

সাপ্তাহিক বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি রেকিট বেনকিজার (বিডি) লিমিটেড গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রমতে, গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে দুই কোটি ৪২ লাখ ৬২ হাজার ৪০০ টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ ১২ কোটি ১৩ লাখ ১২ হাজার টাকা।
এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে শেয়ারদর পাঁচ শতাংশ বা ১৪০ টাকা ৬০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ দুই হাজার ৯৫৩ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল দুই হাজার ৯৫১ টাকা ৯০ পয়সা। দিনজুড়ে ১৩ হাজার ২৪৬টি শেয়ার মোট এক হাজার ৩০৫ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর তিন কোটি ৮২ লাখ ২৬ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর দুই হাজার ৭৫০ টাকা থেকে দুই হাজার ৯৫৩ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন হয়। এক বছরে শেয়ারদর এক হাজার ৬৫০ টাকা থেকে তিন হাজার ৬৮৭ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।
২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ৭০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে রেকিট বেনকিজার (বাংলাদেশ) লিমিটেড। ওই সময় কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় ৭০ টাকা ২২ পয়সা এবং ৩১ ডিসম্বেরে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ৮১ টাকা ৬৩ পয়সা। এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরে বিনিয়োগকারীদের ৭৯০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। যা তার আগের বছরে ছিল ৭৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮০ টাকা ৬৩ পয়সা।
কোম্পানিটি ১৯৮৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ২৫ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন চার কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৩৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট ৪৭ লাখ ২৫ হাজার শেয়ার রয়েছে। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৮২ দশমিক ৯৬ শতাংশ, সরকারি তিন দশমিক ৭৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক চার দশমিক ২৭ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারী তিন দশমিক এক এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে বাকি পাঁচ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। মিউচুয়াল ফান্ডটির ইউনিটদর বেড়েছে ১৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে ফান্ডটির প্রতিদিন এক কোটি ২৮ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ছয় কোটি ৪২ লাখ ৪৮ হাজার টাকার শেয়ার।
এদিকে ডিএসইতে সর্বশেষ ১৬ টাকা ২০ পয়সায় এর ইউনিট হাতবদল হয়। সমাপনী দরও একই ছিল। দিনভর ফান্ডটির ইউনিটদর ১৫ টাকা থেকে ১৬ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হয়। গত এক বছরে এ ইউনিটের সর্বোচ্চ দর ছিল ২০ টাকা ৭০ পয়সা ও সর্বনিম্ন আট টাকা।
৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ সমাপ্ত হিসাববছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য আট দশমিক পাঁচ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ফান্ডটি। আলোচিত সময়ে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি আয় (ইপিইউ) হয়েছে ৯৭ পয়সা। ফান্ডটির খরচ মূল্যে ইউনিটপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৮৩ পয়সা আর বাজার মূল্যে ইউনিটপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৫২ পয়সা। এর আগে ফান্ডটি ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬ সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য ছয় শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে যা আগের ছিল পাঁচ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ। আলোচিত সময়ে ইউনিটপ্রতি আয় হয় ৭১ পয়সা। ইউনিটপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ১৬ টাকা ৫৪ পয়সায়, যা আগের বছর একই সময়ে হয়েছিল ৫৩ পয়সা ও ১৬ টাকা ৩৩ পয়সা।
২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ‘এ’ ক্যাটেগরির এ মিউচুয়াল ফান্ডটির পরিশোধিত মূলধন ২০ কোটি টাকা। রিজার্ভে আছে ১৫ কোটি ৬৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। মোট ইউনিট দুই কোটি; যার মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালক দুই শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৩৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ, বিদেশি শূন্য দশমিক শূন্য এক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে রয়েছে বাকি ৬০ দশমিক ৬৫ শতাংশ শেয়ার।
তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ১৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন আট কোটি ৪৭ লাখ আট হাজার ২০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে হয়েছে ৪২ কোটি ৩৫ লাখ ৪১ হাজার টাকার শেয়ার।
এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ বা চার টাকা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৫৯১ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৫৯৩ টাকা ৭০ পয়সা। দিনজুড়ে এক লাখ ৭৮ হাজার ৩২২ শেয়ার মোট দুই হাজার ৬৩৪ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১০ কোটি ৫২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৫৭০ টাকা ২০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৬০৪ টাকা ২০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ২৮২ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৬২৩ টাকায় ওঠানামা করে।
তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন এক কোটি ৭৯ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে আট কোটি ৯৯ লাখ ৫২ হাজার টাকার শেয়ার।
এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর চার দশমিক ৩০ শতাংশ বা ৭৬ টাকা ৩০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ এক হাজার ৮৪৯ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল এক হাজার ৮৩৬ টাকা ৫০ পয়সা। দিনজুড়ে ১৫ হাজার ৮৪৪টি শেয়ার মোট ৮২৮ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর দুই কোটি ৮৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৭ টাকা থেকে এক হাজার ৮৫০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।
২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫২ টাকা ৭৫ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১০৪ টাকা ১১ পয়সা।
১৯৭৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ‘এ’ ক্যাটেগরির কোম্পানিটি। ২০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১২ কোটি চার লাখ ৬০ হাজার টাকা। কোম্পানির রিজার্ভের পরিমাণ ১১৩ কোটি ৩৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট এক কোটি ২০ লাখ ৪৬ হাজার ৪৪৯টি শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের ৮১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর ১৬ দশমিক এক শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারী শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে বাকি এক দশমিক ৬৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

সর্বশেষ..