সম্পাদকীয়

রেণু পোনার উৎপাদন কার্যক্রম জোরদার করুন

প্রাচীনকাল থেকেই অপেক্ষাকৃত সুলভ ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় আমিষ হিসেবে আমাদের বড় জনগোষ্ঠীর প্রধান পছন্দ মিঠাপানির মাছ। মাছের ওপর নির্ভরতার কারণেই বলা হয়, ‘মাছে-ভাতে বাঙালি।’ মাছ চাষ, আহরণ ও বিপণনের মাধ্যমে জীবিকানির্বাহ করে অনেক মানুষ। বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষের জন্য রেণু পোনার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: জনবল সংকটসহ নানা সমস্যায় রেণু পোনা উৎপাদন ব্যাহত’ শীর্ষক প্রতিবেদন হতাশার জš§ দেবে বলেই ধারণা। সাধারণ মানুষের পুষ্টিচাহিদা পূরণ নিশ্চিত করতে রেণু পোনা উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে উদ্যোগ কাম্য।

মৎস্য উৎপাদনে সরকার বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রামীণ কর্মসংস্থান, পোনা অবমুক্তি কার্যক্রম ও বিল নার্সারি স্থাপন, সমাজভিত্তিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা ও মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন, লুপ্তপ্রায় প্রজাতির সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণ প্রভৃতি। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সুফলও মিলছে। মাছ রপ্তানি বেড়েছে ১৩৫ গুণ। বিশ্ব খাদ্য সংস্থাও (এফএও) পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২২ সাল নাগাদ বিশ্বের যে চারটি দেশ মাছ চাষে বিপুল সাফল্য অর্জন করবে, তার মধ্যে প্রথম দেশটি হচ্ছে বাংলাদেশ। এরপর থাইল্যান্ড, ভারত ও চীন। হিমায়িত মৎস্য রপ্তানির পরিমাণও বাড়ছে আশাতীত। মাছের দাম সাধারণ ক্রেতার সামর্থ্যরে মধ্যে থাকায় গত ১০ বছরে দেশে মাথাপিছু মাছ খাওয়ার পরিমাণ শতভাগ বেড়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, উন্নতমানের রেণু পোনা সরবরাহ ও মৎস্যচাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে ৫৪ একর জমির ওপর নির্মিত সরকারি এ মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮২ সালে। শুরুতে এ প্রতিষ্ঠানটি পোনা উৎপাদনে ব্যাপক খ্যাতি লাভ করলেও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল সংকটে ঝিমিয়ে পড়ছে।

সরকারি এ মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রে মঞ্জুরীকৃত ৮২টি পদের বিপরীতে বর্তমানে ২০ জন দিয়েই চলছে এটির কার্যক্রম। ফলে চাহিদা অনুযায়ী, রেণু পোনা না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন এ অঞ্চলের মৎস্যচাষিরা। আর সরকার হারাচ্ছে মোটা অঙ্কের রাজস্ব। রেণু পোনা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন রায়পুর মৎস্য ও প্রজনন কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাও।

মৎস্য চাষে অনুপ্রেরণা দিতে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা-পুরস্কার দেয়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মৎস্য নীতি, জলমহাল নীতিমালা, মৎস্য রপ্তানি নীতিমালা এবং অক্ষম জেলেদের অর্থসহায়তা দেয়; এগুলো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু জনবল সংকটে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের রেণু পোনা উৎপাদন ব্যাহত হলে সেটিও দুঃখজনক। আমরা আশা করি, সরকারের ত্বরিত পদক্ষেপে শিগগিরই পুরোদমে রেণু পোনা উৎপাদনে সংক্ষম হবে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..