কোম্পানি সংবাদ

রেনাটা লিমিটেডের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে রেনাটা অনকোলজি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রেনাটা লিমিটেডের সঙ্গে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি রেনাটা অনকোলজি লিমিটেডের একীভূত করার অনুমোদন দিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। এছাড়া ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত উভয় প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী নিট সম্পদ মূল্যের ভিত্তিতে রেনাটা অনকোলজির বিনিয়োগকারীরা প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে রেনাটা লিমিটেডের শূন্য দশমিক শূন্য দুটি শেয়ার পাবেন। অর্থাৎ রেনাটা অনকোলজির বিনিয়েগকারীরা প্রতি ১০০ শেয়ারের বিপরীতে রেনাটা লিমিটেডের দুটি শেয়ার পাবেন। শেয়ার বিনিময়সহ, একত্রিতকরণের খসড়ারও অনুমোদন দিয়েছে পর্ষদ। একইসঙ্গে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ২২৮ ও ২২৯ নং ধারা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন থেকে অনুমোদনের জন্য খসড়া আবেদনপত্রেরও অনুমোদন দিয়েছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সাবসিডিয়ারি কোম্পানি রেনাটা অনকোলজি লিমিটেডকে মূল কোম্পানির সঙ্গে একীভূত করার আগে কোম্পানিটিকে বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) বিনিয়োগকারীদের ও উচ্চ আদালতের অনুমোদন নিতে হবে।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৯ হিসাববছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ১০০ শতাংশ নগদ এবং ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আলোচিত সময়ে ইপিএস হয়েছে ৪৬ টাকা ৬৩ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি এনএভি দাঁড়িয়েছে ২৩০ টাকা ৯০ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে ৫২ টাকা ৫৪ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য এবং দুই কোম্পানির একীভূতকরণ সংক্রান্ত বিষয়ে আগামী ২১ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় করপোরেট হেড কোয়ার্টার প্রাঙ্গণ, প্লট নং-১, মিল্কভিটা রোড, সেকশন-৭, মিরপুরে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০১৯) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কোম্পানিটি। প্রথম প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ১২ টাকা ৭৮ পয়সা, আগের বছর একই সময় ছিল ১০ টাকা ৪৬ পয়সা। এছাড়া ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২৪৩ টাকা ৫৮ পয়সা, যা ২০১৯ সালের ৩০ জুনে ছিল ২৩০ টাকা ৯০ পয়সা। আর প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ১৬ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ১৯ টাকা সাত পয়সা ছিল।

এদিকে গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর দুই দশমিক ৪০ শতাংশ বা ৩২ টাকা ৩০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ এক হাজার ৩১৩ টাকা ৫০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল এক হাজার ৩০৬ টাকা ৬০ পয়সা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ এক হাজার ৩০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার ৩৪০ টাকায় হাতবদল হয়। দিনজুড়ে কোম্পানিটির এক লাখ ছয় হাজার ৮১৬টি শেয়ার মোট ৭৭৩ বার হাতবদল হয়। যার বাজারদর ১৪ কোটি পাঁচ লাখ ৯২ হাজার টাকা। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ারদর এক হাজার ৯০ টাকা থেকে এক হাজার ৩৫০ টাকায় ওঠানামা করে।

এর আগে কোম্পানিটি ২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে বিনিয়োগকারীদের ৯৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই বছর কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল ৪৪ টাকা ৩৫ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) ছিল ২২১ টাকা ৪৫ পয়সা। আর মুনাফা হয়েছিল ৩১০ কোটি ৬১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

কোম্পানিটি ১৯৭৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৮০ কোটি ৫৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ এক হাজার ৪৬৯ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির আট কোটি পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭৫ শেয়ার রয়েছে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের কাছে ৫১ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক ১৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ২২ দশমিক ৪১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে সাত শতাংশ শেয়ার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..