সম্পাদকীয়

রেমিট্যান্সে প্রণোদনা জট খুলুক শিগগির

প্রবাসী-আয় (রেমিট্যান্স) বাড়ানোর লক্ষ্যে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। কিন্তু বাজেট ঘোষণার পর প্রায় চার মাস পার হতে চললেও এখনও কোনো রেমিট্যান্স-গ্রহীতা এ প্রণোদনা পাননি। এমনকি প্রণোদনা দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোর যে ধরনের অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন, তাও এখনও সম্পন্ন হয়নি। ফলে কবে নাগাদ রেমিট্যান্স-গ্রহীতা এ অর্থ হাতে পাবেন, তা নিয়ে জট এখনও খোলেনি। এ বিষয়ে আশু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করি।
এ বিষয়ে গতকাল শেয়ার বিজে ‘রেমিট্যান্সে ২% প্রণোদনা পেতে আরও অপেক্ষা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১ জুলাই থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের বিপরীতে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়ে গত আগস্টে একটি সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলার অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি তহবিল গঠন করে ব্যাংকগুলোকে আগাম কিছু তহবিল দিয়ে রাখবে, যে তহবিল থেকে সরাসরি রেমিটারদের স্বজনদের প্রণোদনা দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এ নির্দেশনার পর আর তেমন অগ্রগতি নেই বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। যদিও অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন দু-একদিনের মধ্যেই রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়ে জট খুলবে। কিন্তু বাস্তব চিত্রের সঙ্গে বিষয়টির তেমন সামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে না।
দেশের অর্থনীতি চাঙা রাখতে প্রধান দুই খাতের একটি রেমিট্যান্স। সরাসরি ব্যাংকিং চ্যানেলে এ অর্থ আনতে কিছু জটিলতা রয়েছে। পাশাপাশি কিছু চার্জও কাটা হয় রেমিট্যান্সের অর্থ থেকে। যে কারণে অবৈধ অর্থ লেনদেন পদ্ধতি হুন্ডিকেই ঝামেলামুক্ত পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক রেমিট্যান্সের অর্থ পেলেও এর বিপরীতে দেশ থেকে পাচার হয়ে যায় অর্থ। এমন অসাধু ব্যবস্থা রোধে ও রেমিট্যান্সগ্রহীতাদের ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ আনার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে রেমিট্যান্সের ওপর দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু উদ্যোগ বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা হতাশাজনক।
দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করার স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও যেসব ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসে সেসব ব্যাংকের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। এতে একদিকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসা বাড়বে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভও শক্তিশালী হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..