প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

রেমিট্যান্সে প্রণোদনা ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডলারের বাজারে অস্থিরতা নিরসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা)। সংগঠনটির প্রস্তাবের মধ্যে অন্যতম হলোÑবৈধভাবে পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রণোদনা আড়াই শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে পাঁচ শতাংশে উন্নীত করা, বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে ডলার সরবরাহ করা, বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে ডলার ক্রয়-বিক্রয়ে আন্তঃব্যাংক

বিনিময় হার পুনর্নির্ধারণ করা। সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো থেকে ‘একক বিনিময় হারে’ লেনদেন করবে এবং সেই হার আন্তঃব্যাংকের মধ্যে লেনদেনের থেকে কমপক্ষে শূন্য দশমিক এক শতাংশের কম হবে। এই একক বিনিময় হার কঠোরভাবে তদারকি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ডলারের বাজারে অস্থিরতা কাটাতে গত ১৯ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে লেখা চিঠিতে বাফেদার পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব জানানো হয়েছে। এ চিঠি পাঠানোর আগে বাফেদার নেতারা এক বৈঠকে মিলিত হন। বাফেদার এসব প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাফেদার মধ্যে আজ বিকালে একটি পূর্বনির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বাফেদার প্রস্তাবে আরও বলা হয়, এডি ব্যাংকগুলো রপ্তানির ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী কর্তনমূল্যের সুযোগ নিশ্চিত করবে এবং রপ্তানির কাগজপত্র যাচাই করবে। এছাড়া একমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানির এলসি বিল ও সরকারি বাধ্যতামূলক পাওনা পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার বাড়তি চাহিদার তারল্য সরবরাহ করবে। আর রাষ্ট্রায়ত্ত এডি ব্যাংকগুলো নিজস্ব উৎস থেকে কেবল সরকারের বাণিজ্য ও বাধ্যতামূলক পাওনা বড়জোর তিন মাসের জন্য পরিশোধ করবে। তবে এসব ব্যাংক সরকারের আন্তঃব্যাংক বাজার পদ্ধতিতে বৈদেশিক মুদ্রার উৎস হিসেবে ব্যবহার হবে না।

বাফেদার বৈঠকে অংশ নেয়া একজন সদস্য জানান, বাফেদার চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতাউর রহমান প্রধানের সভাপতিত্বে হঠাৎ ডলারের মূল্য বাড়ার কারণ দর্শানো ও তা বন্ধে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ বিষয়ে আলোচনা হয়। কিন্ত বৈঠকে ডলারের দাম বাড়ার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বের করা যায়নি। ডলারের দাম বাড়ার সম্ভাব্য কারণ বের করা হয়েছে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো, রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়া ও হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানো। আর বাংলাদেশ ব্যাংক চাহিদা অনুযায়ী ডলার না ছাড়ায় ব্যাংকগুলোর সংকট আরও বাড়ছে। সংকট উত্তরণ রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে উদ্যোগ গ্রহণ এবং রেমিট্যান্স বাড়াতে প্রয়োজন ভর্তুকি দ্বিগুণ করা।

বাফেদার চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতাউর রহমান প্রধান সাংবাদিকদের জানান, দেশে এখন আমদানির জন্য যে পরিমাণ অর্থ বা ডলার খরচ হচ্ছে, তা রপ্তানি ও প্রবাসী আয় দিয়ে তা মিটছে না। এর ফলে সংকট তৈরি হয়েছে। এ জন্য বাজারে ডলারের সংকট দেখা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক যে পরিমাণ ডলার বিক্রি করছে, সেটি চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। ফলে প্রতি মাসে প্রায় ১০০ কোটি ডলার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খোলাবাজারে ডলারের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কিছুটা কমে এসেছে। রাজধানীতে গতকাল বুধবার প্রতি ডলার ৯৮-৯৯ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক ৮৮ টাকা ৯০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করছে।