সম্পাদকীয়

রেলওয়ের ভূসম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করুন

দীর্ঘভ্রমণে নিরাপদ যাতায়াতে ট্রেন মানুষের প্রথম পছন্দ। পরিবেশবান্ধব ও অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী হওয়ায় এটি পণ্য পরিবহনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বাংলাদেশ রেলওয়েকে আধুনিক, নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও যাত্রীসেবামূলক গণপরিবহন হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রেলের উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা আর চার ধাপে চলছে এর বাস্তবায়ন। কিন্তু এখানেও অনিয়মে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরেই। জ্বালানি চুরি, অব্যবস্থাপনা, জমি বেহাত এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবে বিপুল বরাদ্দ ও রাষ্ট্রের আনুকূল্য পেয়েও রেল লাভজনক হয়ে উঠছে না।

সুযোগসন্ধানী প্রভাবশালীরা এমনিতেই রেলসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার জমি দখলে নেওয়ার জন্য অপচেষ্টা চালায়। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের জমি বেদখল এবং নদী দখলের মাধ্যমে সরকারি জমি বেহাত হওয়ার দৃষ্টান্ত অনেক। আবার সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাফিলতি বা যোগসাজশে অনেক সম্পত্তি বেদখল হয়ে চলে যাচ্ছে ব্যক্তিমালিকানায়। বেদখল জমি উদ্ধারে মাঝেমধ্যে অভিযানও পরিচালিত হয়। সাময়িকভাবে নিবৃত্ত থাকলেও অভিযান শেষে সুযোগ বুঝে আবার দখলে মেতে ওঠে সুযোগসন্ধানীরা। 

সরকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় কর্মকর্তারা সেভাবে ভূমিকা রাখেন না। নিয়ম না মেনে জমি ইজারা দেওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির দৃষ্টান্ত রয়েছে। এর সর্বশেষ দৃষ্টান্ত গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘ফয়’স লেক ইজারা দিয়ে বিপাকে রেলওয়ে’ শীর্ষক প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, চট্টগ্রামের ফয়’স লেকের ৩৩৬ একর ৬২ শতক জমি ২০০৩ সালে নামমাত্র মূল্যে ইজারা দেওয়া হয়। রেলওয়ে, পর্যটন করপোরেশন ও কনকর্ডের (কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট ও কনকর্ড ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড) ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় ৫০ বছরের জন্য ফয়’স লেকের ইজারা পায় কনকর্ড। কিন্তু ফয়’স লেক ইজারা দিয়ে রেলওয়ের প্রতি বছর ক্ষতি হচ্ছিল এক কোটি ৬১ লাখ টাকা।

২০০৩ সাল থেকে প্রতিবছর ক্ষতি হচ্ছে রেলের। এখন প্রশ্ন উঠবে, রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি ইজারা দেওয়া জমির মাধ্যমে অন্য কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত কি না। রেলের চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির তথ্য প্রতিমাসে হালনাগাদ করা হয়। রেলের জমি ও স্থাবর সম্পত্তির তথ্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর হালনাগাদ করা গেলে এগুলোর সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হবে। স্বতন্ত্র কোনো নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান দিয়ে খতিয়ে দেখা গেলে হয়তো ‘ইজারা দিয়েও বিপাকে পড়া’র আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। বেহাত সম্পত্তি উদ্ধার, বাজারমূল্যে ইজারা দেওয়া এবং সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার করা গেলে রেল লোকসান কাটিয়ে লাভজনক সংস্থা হয়ে উঠবে বলে আমরা মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..