সম্পাদকীয়

রেলওয়ের মেডিকেল কলেজ করার উদ্যোগ প্রশংসনীয়

যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ায় এবং কম খরচের কারণে বিশ্বজুড়ে রেলওয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। আমাদের দেশেও রেলওয়ে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়েছে। তবে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কাক্সিক্ষত সেবা মিলছে না, উল্টো প্রতিবছর বড় অঙ্কের লোকসান গুনছে। অথচ দেশে এককভাবে রেলওয়ের বিশাল অবকাঠামো রয়েছে। বিপুল পরিমাণ জমিও রয়েছে রেলওয়ের, যার মধ্যে বড় অংশই পতিত। এসব জমি কোনো কাজে না আসায় তা প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে। অবশ্য পড়ে থাকা এসব জমি কাজে লাগাতে কিছু উদ্যোগ শুরু করেছে রেলওয়ে, যা ইতিবাচক। এর মাধ্যমে জমিগুলো দখল থেকে রক্ষার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো যাবে। কিছু ক্ষেত্রে রেলওয়ের আয়ের সুযোগ তৈরি হবে বৈকি।

গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘রেলের পরিত্যক্ত জমিতে হবে হাসপাতাল-মেডিকেল কলেজ’ শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। রেলমন্ত্রীর বরাত দিয়ে খবরটিতে বলা হয়েছে, পিপিপির আওতায় চট্টগ্রামে রেলের পরিত্যক্ত জমিতে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ও ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ করা হবে, যা ইতিবাচক উদ্যোগ বটে। এতে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা জমিগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের পাশাপাশি তৈরি হবে নতুন চিকিৎসক।

জনবল সংকট, অনিয়ম-দুর্নীতিসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হওয়ায় ধুঁকছে রেলওয়ে। আঞ্চলিক রেলওয়ে সেবা নানাভাবে বিঘিœত হচ্ছে অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে। অথচ গত কয়েক বছরে এ খাতে হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। রেলওয়ের সেবার মান বৃদ্ধি ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে বিদ্যমান সমস্যার আশু সমাধানের বিকল্প নেই। এ অবস্থায় রেলওয়ের জমিতে মেডিকেল ও হাসপাতাল করার এ উদ্যোগ প্রশংসনীয় বটে। শুধু চট্টগ্রামেই নয়, আরও অনেক স্থানে রেলওয়ের যেসব জমি পরিত্যক্ত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির কাজে ব্যবহার করার সুযোগ নেই সে জমিও বিকল্প কাজে ব্যবহারের পথ খুঁজে বের করতে হবে। তবে এতে জনগণের কল্যাণ এবং যৌক্তিক আয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি।

খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, চট্টগ্রামে হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ করার উদ্যোগ রেলওয়েতে প্রথম পিপিপি প্রকল্প। আগামীতে রেলের জমিগুলো এভাবে প্রকল্প নিয়ে ব্যবহার করার কথা বলেছেন মন্ত্রী। নিজেরা যাতে মার্কেট করে ভাড়া দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। লোকসানী প্রতিষ্ঠান রেলওয়ের এগুলো ভালো উদ্যোগ বলা চলে। তবে প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতিরও নজির রয়েছে। সেক্ষেত্রে উদ্যোগগুলো কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি প্রভাবশালীদের দখলে থাকা জমি উদ্ধারে আশু পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আমরা আশা করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..