সম্পাদকীয়

রেলের সম্পদ উদ্ধারে প্রতিবন্ধকতা দূর করুন

লোকসানি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রেলওয়ে। অন্যদিকে হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বেদখলে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও বেদখল রোধ এবং মামলা-পরবর্তী জমি উদ্ধারে প্রতিষ্ঠানটির অক্ষমতা স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনি লড়াই কিংবা জমি উদ্ধারে রাজনৈতিক বা পেশিশক্তির কাছে রেলওয়ের নতজানু হওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে আইনের শাসন কিংবা রাজনৈতিক-প্রশাসনিক সর্বস্তরের সুশাসনের অভাবই প্রকাশ পায়। যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাপনার স্বেচ্ছাচারিতায় সাধারণ মানুষ যেখানে জিম্মি, সেখানে রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে কর্তৃপক্ষের এমন অবস্থা কাম্য হতে পারে না।
ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার এসব দখলদারিত্ব নিয়ে গত পরশু দিনের দৈনিক শেয়ার বিজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সরকার এখানে কেবল রাজস্বই হারাচ্ছে না বরং ভর্তুকির পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে। সার্বিকভাবে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে রেললাইন বড় ভূমিকা রাখতে পারত। অথচ সরকারি যে কোনো যোগাযোগ মাধ্যমকেই সফল হতে দেখা যায়নি। অধিকন্তু সরকারি এসব অবকাঠামো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লাভজনক বলে প্রমাণিত হয়েছে। এসব ভারসাম্যহীনতা ও দুঃশাসনে বিশেষ মহল লাভের মুখ দেখলেও কার্যত সাধারণ জনগণকে আর্থিক ও যোগাযোগ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। আবার রেলওয়ের ব্যবহারের অতিরিক্ত ভূমিও ওইসব বিশেষ মহল জবরদখল করছে, যার পেছনে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দুষ্ট-সমর্থন থাকছে।
রেলওয়ে এসব জমি বিক্রি করতে পারছে না আবার ইজারা বা অন্য কোনো উপায়ে রাজস্ব আহরণেও ব্যর্থ হচ্ছে। সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এমপি, মন্ত্রীদের ডিও লেটার রাষ্ট্রীয় দখলদারিত্বের পক্ষে যাওয়া এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সেখানে অসহায় বোধ করার পেছনে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা ও রাষ্ট্রীয় দুর্বলতা প্রকাশ পায়। কিন্তু বাংলাদেশ রেলওয়ে এই প্রতিবন্ধকতায় চুপসে যেতে পারে না। রেলওয়ের চলমান বড় প্রকল্পগুলোকে সাফল্যমণ্ডিত করতে বেহাত হওয়া জমি উদ্ধার করতে হবে। বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে রেললাইনের বেহাত হওয়া জমির শত শত মামলা দ্রুত নিষ্পন্নের উদ্যোগ নিতে হবে আদালতকে। কিছু ক্ষেত্রে বাজারের মতো বিভিন্ন পাবলিক কাজে ব্যবহারের কারণে মামলায় জটিলতা স্বাভাবিক মনে হলেও, ধনকুবের শিল্পপতির প্রাতিষ্ঠানিক ভোগদখলে থাকায় মামলা জটিল হওয়ার বিষয়টি রাষ্ট্রীয় শক্তিমত্তাকে সুরক্ষা দেয় না।
সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাজস্ব উন্নয়নের স্বার্থে পেশিশক্তি কিংবা রাজনৈতিক-প্রশাসনিক দুষ্ট চক্রের হাত থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটিকে সুরক্ষা দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় সুশাসনে অগ্রণী হওয়ার ক্ষেত্রে সরকার পরিকল্পিত ও টেকসই উদ্যোগ নেবে বলে প্রত্যাশা করি।

সর্বশেষ..