সম্পাদকীয়

রেলে জনবল নিয়োগে জটিলতা নিরসন হোক

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মিশন হলো রেল পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশব্যাপী নিরাপদ, সাশ্রয়ী, দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব রেলওয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। এটি সামনে রেখে রেলে নিরাপদ ও সময়মতো যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ব্যবস্থা নেয়া হয়। অথচ গত ১১ বছরে রেলের উন্নয়নে সরকার ৭৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করলেও লোকসান কমাতে পারেনি। অবস্থার উত্তরণে রেলওয়ের দুর্নীতি কমানো এবং যাত্রী ও পণ্যসেবা বাড়িয়ে আয় বাড়ানোর দিকে নজর দিতে পারে। রেলসেবার প্রতি যাত্রীদের আগ্রহ বাড়িয়ে অধিকসংখ্যক যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা নিতে পারে। প্রায়ই শোনা যায়, ওরা পারলে আমরা পারব না কেন? এর উত্তরও আমরা জানি, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনসেবার মান বাড়িয়েই স্বাবলম্বী হয়েছে উন্নত দেশগুলো। তাই লক্ষ্য অর্জনে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করার পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বীকার করতেই হবে, দক্ষ জনবল না থাকলে যাত্রীসেবার মান বাড়ানো এবং  রেলের সম্পদ রক্ষা দুরূহ হয়ে পড়ে। লোকসান কমানোর কথা বলে রেলে মাঝেমধ্যে জনবল কমানো হয়। ১৯৮৫ সালে একবার নিয়োগ বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৯৯২ সালেও নিয়োগ বন্ধ রেখে ১০ হাজার কর্মীকে অবসরে পাঠানো হয়। ২০০০ সালের মধ্যে রেলের কর্মী সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসে। এখন প্রতি বছর প্রায় এক হাজার  কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসরে যাচ্ছেন।

এ অবস্থায় গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, বিধি জটিলতায় এক হাজার ৬৮৫ জনের নিয়োগ রেলে আটকে গেছে। খবরে বলা হয়, রেলওয়ের দুই অঞ্চলে বিভিন্ন শ্রেণিতে এক হাজার ৬৮৫টি পদের বিপরীতে লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয় দুই বছরের বেশি আগে। এরপর রেলওয়ের ১৯৮৫ নিয়োগবিধি অবৈধ ঘোষণা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ওই পদগুলোয় নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। যেসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন বিধির শর্ত পুরোনোটির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন রেলমন্ত্রী।

অতিরিক্ত লোকবল যেমন প্রত্যাশিত নয়, তেমনই পর্যাপ্ত জনবল সংকটে সেবাগ্রহীতারা সেবা থেকে বঞ্চিত হন। প্রতিনিয়ত ট্রেনের সংখ্যা বাড়ছে, নতুন গন্তব্যে রেলসেবা পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, অথচ জনবল নিয়োগ করা হচ্ছে না। স্বার্থান্বেষী কেউ ‘সরকারি ব্যবস্থাপনায় রেল লাভজনক করা সম্ভব নয়’ এটি প্রমাণের অপচেষ্টা করছে কি না, আমরা জানি না। তবে রাষ্ট্রের আনুকূল্য-অগ্রাধিকার পেয়েও রেল লাভজনক না হওয়া দুঃখজনক। সরকারি ব্যবস্থাপনায় রেলের ক্রমাগত লোকসান ঠেকাতে এবং নিরাপদ, সাশ্রয়ী, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জনবল নিয়োগে জটিলতা নিরসনে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..